কয়লাখনির ক্ষয়ক্ষতি ও পুনর্বাসনের দাবিতে দিনাজপুরে মতবিনিময় সভা

দিনাজপুরের হামিদপুর ইউনিয়নের বাঁশপুকুর, কাজীপাড়া, হামিদপুর ও চৌহাটি গ্রামের কয়লাখনির ক্ষতিগ্রস্তদের নিয়ে মতবিনিময় ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত চৌহাটি ও কাজীপাড়া জীবন ও বসতবাড়ি রক্ষা কমিটির সমন্বয়ে এ সভার আয়োজন করা হয়।
গত শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে চৌহাটি গ্রামে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে চার গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় পাঁচ শতাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন জীবন ও বসতবাড়ি রক্ষা কমিটি, চৌহাটির সভাপতি মো. মতিয়ার রহমান। তিনি বলেন, কয়লাখনি এলাকায় জমি অধিগ্রহণের আগে এলাকাবাসীর মতামত নিতে হবে। ভূমিহীন ও ক্ষতিগ্রস্তদের জমি অধিগ্রহণের আগে পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মন্দির, পানি, বিদ্যুৎ, কর্মসংস্থান, রাস্তাঘাট ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন করতে হবে। বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির মাইনিং কার্যক্রমের কারণে পুনরায় ভূমিকম্পন হলে এলাকার বাড়িঘরে কম্পনের প্রভাব পড়ে ফাটল দেখা দিচ্ছে। এতে ঘরে বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে খনি কর্তৃপক্ষকে জরিপ করে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
মো. মতিয়ার রহমান বলেন, বড়পুকুরিয়ার উত্তর দিকে ৩০০ একর জমি সরকারকে অধিগ্রহণ করতে হবে এবং তা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। এ বিষয়ে তাঁরা ইতিপূর্বে বিভিন্ন আন্দোলন করেছেন ও খনি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন। শান্তিপূর্ণ প্রক্রিয়ায় এলাকার মানুষের সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী এবং পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানের কাছে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় আরও বক্তব্য দেন জীবন ও বসতবাড়ি রক্ষা কমিটি, চৌহাটির সাধারণ সম্পাদক মো. বিশা, সাংগঠনিক উপদেষ্টা মো. বাবুল, সদস্য মো. সাইদুর রহমান; জীবন ও সম্পদ রক্ষাকারী কমিটি, কাজীপাড়ার সভাপতি মো. আশাদুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক মো. ফরহাদ হোসেন, উপদেষ্টা মো. আমিনুল ইসলাম ও সদস্য মো. হাইকুল ইসলাম।
এ ছাড়া ৯ নম্বর হামিদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ রেজওয়ানুল হক, মিজানুর রহমান ও মো. সামিউল ইসলামসহ স্থানীয় ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
হামিদপুর ইউনিয়নের ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আওতাভুক্ত বাঁশপুকুর, কাজীপাড়া, হামিদপুর ও চৌহাটি গ্রামের ক্ষতিগ্রস্তদের সমন্বয়ে এ মতবিনিময় ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রায় পাঁচ শতাধিক ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকরাও সভায় উপস্থিত ছিলেন।
ভোরের আকাশ/জেআ