সারাদেশে ২০টি আইসিইউ স্থাপনের পরিকল্পনা : নিয়োগ পাচ্ছেন ৫ হাজার চিকিৎসক

বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে নতুন আইসিইউ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সারাদেশে প্রায় ২০টি আইসিইউ স্থাপনের পরিকল্পনার মধ্যে বগুড়াও রয়েছে। পাশাপাশি চিকিৎসক সংকট নিরসনে পাঁচ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে বগুড়ায় শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এসজেডএমসি ডে-২০২৬ অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বগুড়ার স্বাস্থ্যসেবার বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে তিনি অবগত রয়েছেন। সমস্যাগুলো লিখিতভাবে দিতে বলা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব সমস্যার সমাধান করা হবে। গতকাল বিভাগ থেকে ৫০০ জন চিকিৎসক পাওয়া গেছে।তাঁদের মধ্য ১৭ জনকে বগুড়ার বিভিন্ন উপজেলা ও প্রতিষ্ঠানে পদায়ন করা হয়েছে। এ ছাড়া পাঁচ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। গত ২৫ তারিখে আবেদনের সময়সীমা শেষ হয়েছে। বর্তমানে সরকারি কর্ম কমিশনে (পিএসসি) নিয়োগের সাক্ষাৎকার প্রক্রিয়া চলছে। এই নিয়োগ সম্পন্ন হলে দেশে চিকিৎসক সংকট অনেকটাই দূর হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
হাসপাতালের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিষয়টি নিয়ে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিচ্ছেন। দেশের বড় হাসপাতালগুলোতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজ চলছে। ইতোমধ্যে ১৫টি স্থানে এ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। যেসব স্থানে এ ব্যবস্থা নেই, সেগুলোর মধ্যে বগুড়াও রয়েছে। পর্যায়ক্রমে সেসব স্থানেও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
পিপিপি পদ্ধতিতে চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণের বিষয়ে তিনি বলেন, ঢাকার পাঁচটি তৃতীয় স্তরের হাসপাতালের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা চূড়ান্ত হয়েছে। তবে মনিটরিং চার্জ নিয়ে আগামী সপ্তাহে আরেকটি বৈঠক হবে। সেটি সম্পন্ন হলে কার্যক্রম শুরু হবে। প্রথমে ঢাকার পাঁচটি হাসপাতালে পরীক্ষামূলকভাবে এ কার্যক্রম চালু করা হবে। পরে অন্যান্য শহরেও তা সম্প্রসারণ করা হবে।
স্বাস্থ্য খাতের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, গত সরকারের সময়ে লুটপাট ও অব্যবস্থাপনার কারণে দেশের স্বাস্থ্য খাত ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার স্বাস্থ্য খাতকে সেই অবস্থা থেকে পুনরুদ্ধার করে কার্যকর অবস্থায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে।
এর আগে সকালে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও আনন্দ র্যালির মধ্য দিয়ে এসজেডএমসি ডে-২০২৬-এর কর্মসূচি শুরু হয়। সকাল ৯টায় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটা হয়। পরে সকাল সাড়ে ৯টায় ডে-কেস সার্জারির উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক এবং প্রধানমন্ত্রীর সহকারী ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. আ ন ম মনোয়ারুল কাদির বিটুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. ওয়াদুদুল হক তরফদার।
অনুষ্ঠানের পরবর্তী কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে আলোচনা সভা, স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন, প্রধানমন্ত্রীর পাঠানো শুভেচ্ছা বার্তা পাঠ, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব, কৃতী সাবেক শিক্ষার্থীদের সম্মাননা, চিকিৎসা কার্ড উদ্বোধন ও মেডিসিন ক্লাব অলিম্পিয়াডের পুরস্কার বিতরণ। এ ছাড়া বিকেলে খেলাধুলা, সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং রাতে র্যাফেল ড্র ও ব্যান্ড শো অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
ভোরের আকাশ/সু.পা