বদলির আদেশ, গভীর রাতে সরকারি পুকুরের মাছ ধরলেন ভূমি কর্মকর্তা

বদলির আদেশ পাওয়ার পর সরকারি পুকুর থেকে রাতের আঁধারে মাছ ধরে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত কর্মকর্তা আল আমিন নেছারাবাদ উপজেলার জলাবাড়ি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা (তহশিলদার) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সম্প্রতি তাকে একই উপজেলার গুয়াখেরা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বদলি করা হয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে জলাবাড়ি ইউনিয়ন ভূমি অফিসসংলগ্ন সরকারি পুকুরে মাছ ধরার এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। সরকারি মালিকানাধীন পুকুর থেকে রাতের আঁধারে মাছ ধরে নেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিষয়টি গণমাধ্যমকর্মীদের জানান স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের দাবি, আল আমিন বদলির আদেশ পাওয়ার পর ভূমি অফিসসংলগ্ন সরকারি পুকুরে থাকা মাছ রাতের আঁধারে স্থানীয় কয়েকজন জেলে ও বাসিন্দাকে নিয়ে ধরেন। পরে মাছগুলো ভাগ-বাটোয়ারা করে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ তাদের।
স্থানীয় বাসিন্দা শামসুল ইসলাম খান বলেন, সরকারি মালিকানাধীন পুকুরের মাছ ধরার জন্য তহশিলদার আল আমিন জেলেদের সঙ্গে ৫ হাজার টাকার চুক্তি করেন। তাঁর দাবি, সরকারি পুকুরের মাছ ধরার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া থাকলেও তা অনুসরণ করা হয়নি। রাতের আঁধারে এভাবে মাছ ধরে নেওয়া অনিয়মের শামিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও জেলে খোকন দাস বলেন, তহশিলদার আল আমিন তাঁকে ৫ হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলে পুকুরের মাছ ধরে দিতে বলেন। তাঁর কথামতো সাতজন লোক নিয়ে মাছ ধরেন তিনি। প্রায় আড়াই বস্তা মাছ ধরার পর আল আমিন তাঁকে দুটি ছোট মাছ দিয়ে পাঠিয়ে দেন। তবে মাছ ধরার পারিশ্রমিকের ৫ হাজার টাকা এখনো পাননি বলে দাবি করেন খোকন।
জলাবাড়ি ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রাম চৌকিদার বিধান কুমার বলেন, রাতে মাছ ধরার খবর পেয়ে ভূমি অফিসে গিয়ে তিনি মাছ ভাগ-বাটোয়ারা হয়ে যাওয়ার বিষয়টি দেখতে পান। পরে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানাতে ফোন করলেও তিনি ফোন ধরেননি। এরপর সহকারী কমিশনার (ভূমি)কে জানালে তিনি রাতে সরকারি পুকুরে মাছ ধরার কোনো বিধান নেই বলে জানান।
জলাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মেহেদী সরোয়ার বলেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা রাতের আঁধারে সরকারি পুকুরের মাছ ধরে নিয়ে গেলে তা অনিয়মের শামিল। তিনি দাবি করেন, আল আমিন এর আগেও এ ধরনের কর্মকাণ্ড করেছেন। সরকারি জায়গায় কচু চাষ করে বিক্রি করার অভিযোগও রয়েছে বলে জানান তিনি। এসব অভিযোগের বিষয়ে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানান সাবেক চেয়ারম্যান।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে জলাবাড়ি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা আল আমিনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।
নেছারাবাদ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রায়হান মাহামুদ বলেন, জলাবাড়ি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের পুকুরে মাছ ধরার বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তবে রাতের আঁধারে মাছ ধরা ঠিক হয়নি। এ ঘটনায় কোনো অসঙ্গতি রয়েছে কি না, তা খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।
ভোরের আকাশ/জেআ