গাইবান্ধায় হাটু পানি থেকে বৈশাখী ধান কাটছেন কৃষক

'বাবারে কয়েক দিনের বৃষ্টি যে হলো তাতে হামার ঘরে জমিত যে পানি জমি গেছে, ধানও পাকি গেছে। কি আর করি, এখন তাই হাঁটু পানিত নামিয়া ধান কাটা নাগে।
ধানের অবস্থা তো খুবিই খারাপ, আটি ও পানি মইধ্যে থাকি নষ্ট করে গেছে। পুরাই লচ হচে এবার হামার ঘরে ধান চাষ করি'- এভাবেই বলছিলেন গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার কচুয়াহাট মাস্টারপাড়া গ্রামের কৃষক মাহবুবুর রহমান।
গাইবান্ধায় দফায় দফায় বৃষ্টিতে বোরো ধানের জমিতে পানি জমেছে। বিশেষ করে নিচু জমিগুলোতে হাঁটু পানি জমে গেছে। তাতে ধানও পানির নিচে ডুবে আছে। এতে করে জমিতে পানি জমে থাকায় আধা পাকা ধান নষ্ট হওয়ার উপক্রম। শ্রমিক সংকটে ধান কাটতে পাচ্ছেন না চাষিরা। মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই শ্রমিক জনপ্রতি ৬০০-৭০০ টাকা মজুরী চায়। ফলে বিপাকে পড়েছেন এ জেলার ধান চাষিরা।
সরেজমিন শনিবার (০২ মে) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ঘুরে দেখা গেছে, ধানের জমির চিত্র। জেলার সাঘাটা উপজেলার কচুয়াহাট, মাস্টারপাড়া। পাশের পলাশবাড়ী উপজেলার রাইতি নরাইল,নান্দিশহর বিল, মালিয়ানদহ, খামার নান্দিশহর, পকুরিয়া বিল, মাঠেরবাজার, কুমারগাড়ি, সদর উপজেলার বাদিয়াখালি, চক বরুল, হরিনাবাড়ি, বেতকাপা, তুলশীঘাটসহ বিভিন্ন এলাকার নিম্নাঞ্চলের শত শত হেক্টর জমির আধা পাকা ধান পানির নিচে ডুবে আছে। এভাবেই কৃষকরা আধা পাকা ধান কাটছে।
সাঘাটা উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নের মাস্টারপাড়া গ্রামের কৃষক মাহবুবুর রহমান বলেন,এই গতকয়েক দিনের বৃষ্টিতে হামার জমিতে যে পানি জমিয়া গেছে তাতে করে ধান কাটা নিয়ে সমস্যায় পড়ি গেছি। কি করি এখন। কৃষকও পাওয়া যাচ্ছে না। তাই নিজেই হাটু পানিত নামিয়ে ধান কাটতেছি।
আরেক কৃষক রবিউল ইসলাম বলেন, পানি জমে যাওয়ায় বিঘা প্রতি সাত থেকে আট হাজার টাকা পর্যন্ত মজুরী দিতে হচ্ছে কৃষকদের। তবুও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। ক্ষেত থেকে কেটে আনা ধানে পানি জমে আছে। শ্রমিক সংকটে বেশি দিন পানি জমায় ধান থেকে চারা বের হবে। রোদ নেই।
এদিকে পলাশবাড়ী উপজেলার হরিনাবাড়ী গ্রামের কৃষক মিন্টু মিয়া বলেন, বৈরী আবহাওয়া হলেও এবার ধান বেশ ভালো হয়েছে। কিন্তু কয়েকদিনের বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা হয়ে পানির নিচে ডুবে আছে ধান। প্রায় ৪০ শত জমি পানিতে সুতি পড়েছে। আগে এক বিঘা জমি ধান কাটতে ৩-৪ হাজার নাগতো, সেখানে এখন ৭-৮ হাজার টাকা বেশি লাগছে। তাও ট্যাকা দিয়েও কিষাণ পাওয়া যায় না।
এ বিষয়ে গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক কৃষিবিদ আতিকুল ইসলাম ভোরের আকাশকে বলেন, জেলায় চলতি মৌসুমে ১ লাখ ২৯ হাজার ২০ হেক্টর জমিতে বোরো (ইরি) ধান চাষ করা হয়েছে। তবে কয়েকদিনের বৃষ্টির পানিতে ২১২ হেক্টর জমি আক্রান্ত হয়েছে।
জমি থেকে পানি দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে। নতুন করে বৃষ্টি না হলে আক্রান্ত জমিগুলোর ক্ষতি হবে না। মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের ধান কাটার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।