নদীভাঙনে বেহাল গাওখালী সড়ক, বিপাকে শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার গাওখালী স্কুল অ্যান্ড কলেজের পশ্চিম পাশ দিয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি নদীভাঙনের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কটি কাদাময় ও পিচ্ছিল হয়ে যায়। ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের এক পাশে নদী এবং অন্য পাশে গাওখালী স্কুল অ্যান্ড কলেজের সীমানাপ্রাচীর। নদীভাঙনের কারণে সড়কের অনেক অংশ সংকুচিত হয়ে পড়েছে। কয়েকটি স্থানে সামান্য অসাবধানতায় নদীতে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পথচারীদের দুর্ভোগও বেড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নারী, শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও রোগীদের চলাচলে সবচেয়ে বেশি সমস্যা হচ্ছে। পিচ্ছিল সড়কে পিছলে কয়েকজন নদীতে পড়ে আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে তারা জানান।
সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন গাওখালী স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা। প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী এই সড়ক ব্যবহার করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করে। বর্ষাকালে কাদা ও নদীভাঙনের কারণে তাদের নিরাপদে চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে। এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরাও।
স্থানীয়দের মতে, সড়কটির দক্ষিণে গাওখালী বাজার এবং উত্তরে দেউলবাড়ী-দোবড়া ইউনিয়ন পরিষদসহ আশপাশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকার মানুষের প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম এটি। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করলেও দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার বা নদীভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত সড়কটি সংস্কার, টেকসইভাবে পুনর্নির্মাণ এবং নদীভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বর্ষা মৌসুমে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজিয়া শাহনাজ তমা বলেন, উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরের মাধ্যমে সড়কটির উন্নয়ন প্রস্তাব অনেক আগেই স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) পাঠানো হয়েছে।
ভোরের আকাশ/জেআ