ক্যাপিটেশন গ্র্যান্টের ৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

জামালপুরের ইসলামপুরে এতিমখানার সভাপতি স্বাক্ষর জাল করে ক্যাপিটেশন গ্র্যান্ট প্রকল্পের প্রায় ৬ লাখ টাকা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির সুপার আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় স্বাক্ষর জালিয়াতি ও এতিমখানার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এতিমখানা পরিচালনা কমিটির সভাপতি শামসুজ্জামান সুরুজ মাস্টার। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ইউএনও তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ইসলামপুর উপজেলার চর পুটিমারী ইউনিয়নের বেনুয়ার চর আশরাফুল উলূম হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও আব্দুল মালেক মন্ডল এতিমখানার ২২ শিক্ষার্থীর জন্য সমাজসেবা অধিদপ্তরের ক্যাপিটেশন গ্র্যান্ট প্রকল্পের আওতায় সরকারি অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়।
এতিমখানা পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান সুরুজ মাস্টার এবং সুপার আনোয়ার হোসেন দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। প্রতিষ্ঠানের দৈনন্দিন কার্যক্রমের দেখভালের দায়িত্ব মূলত সুপারের ওপর ছিল।
সভাপতির অভিযোগ, এই সুযোগে তাকে না জানিয়ে তার স্বাক্ষর জাল করে গত ২১ মাসের তিনটি বিলের মাধ্যমে প্রায় ৬ লাখ টাকা উত্তোলন করেন সুপার আনোয়ার হোসেন।
বিষয়টি জানতে পেরে সভাপতি সুপারের কাছে স্বাক্ষর জাল করার কারণ জানতে চান। তখন সুপার দ্রুত বিল উত্তোলনের প্রয়োজন ছিল জানিয়ে সভাপতিকে না পেয়ে তার স্বাক্ষর ব্যবহার করার কথা স্বীকার করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে উত্তোলন করা অর্থের হিসাব জানতে চাইলে সুপার টালবাহানা করেন বলে অভিযোগ করেন সভাপতি। এরপর গত ১০ আগস্ট স্বাক্ষর জালিয়াতি ও এতিমখানার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনে ইউএনও ও দুদকে লিখিত অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
স্থানীয়রা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, ধর্মীয় শিক্ষা ও নৈতিকতার চর্চার সঙ্গে যুক্ত একটি প্রতিষ্ঠানে অর্থসংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ গুরুতর। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে এতিমখানার সুপার আনোয়ার হোসেন বলেন, সভাপতি অনুপস্থিত থাকায় তিনি বিল উত্তোলন করেছেন। সভাপতির সঙ্গে কথা বলেই তার স্বাক্ষর দিয়ে তিনটি বিল উত্তোলন করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা রুহুল আমীন বলেন, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ইউএনও কার্যালয় থেকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে ও শিগগিরই প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।
ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জোবায়ের বলেন, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভোরের আকাশ/জেআ