সাংবাদিকদের তথ্য দেওয়ার সন্দেহে নারী শ্রমিককে হুমকির অভিযোগ

ঢাকার সাভারের আশুলিয়ার কাঠগড়া দোকাঠি এলাকার ‘কাউবয় ফুডস কোম্পানি লিমিটেড’ কারখানায় সাংবাদিকদের তথ্য দেওয়ার সন্দেহে এক নারী শ্রমিককে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। একই ঘটনায় ওই নারী শ্রমিক ও তার স্বামীর সঙ্গে কারখানা কর্তৃপক্ষের লোকজন দুর্ব্যবহার ও হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে এ ঘটনায় আশুলিয়া থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন ওই নারী শ্রমিকের স্বামী মো. আজিম (২২)।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার চরছলিমাবাদ এলাকার বাসিন্দা মো. আজিম বর্তমানে স্ত্রী তানহা আফরিন (২৫)কে নিয়ে আশুলিয়ার কাঠগড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন। আজিম ওই কারখানায় লোডার এবং তার স্ত্রী হেলপার হিসেবে কাজ করেন। তারা সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটিতে কাজে যোগ দিয়েছেন।
আজিমের অভিযোগ, কারখানাটির বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর কর্তৃপক্ষ তাদের সংবাদ প্রকাশকারী ও তথ্যদাতাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার সন্দেহ করতে থাকে। এ নিয়ে তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয়। একই সঙ্গে যে ব্যক্তি তাদের ওই কারখানায় চাকরির ব্যবস্থা করেছেন, তাকেও কারখানায় হাজির করার জন্য চাপ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার পর কারখানার লোকজন তানহা আফরিনকে ভেতরে আটকে রাখেন। পরে তাকে বাইরে যেতে দেওয়া হলেও, যিনি তাদের চাকরির ব্যবস্থা করেছেন তাকে কারখানায় হাজির না করা পর্যন্ত তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে না বলে জানানো হয়। এ সময় তাকে বিভিন্ন ধরনের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তার স্বামী।
পরে কোনো উপায় না পেয়ে স্ত্রীকে আটকে রাখার বিষয়টি জানিয়ে আশুলিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেন মো. আজিম।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কাউবয় ফুডস কোম্পানি লিমিটেড কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আশুলিয়া থানার এসআই সুমন মিয়া বলেন, ভুক্তভোগীর স্বামীর অভিযোগের ভিত্তিতে কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কাউকে আটক করা হয়নি। ওই নারী কারখানার অফিসে ছিলেন এবং কিছুক্ষণ পর বাসায় চলে যাবেন বলে জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১০ আগস্ট আশুলিয়ার কাঠগড়া উত্তরপাড়া এলাকায় ‘কাউবয় ফুডস’ প্রতিষ্ঠানে শিশু খাদ্য উৎপাদনে অনুমোদন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও পরিবেশসংক্রান্ত বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এর কয়েকদিনের মধ্যেই সাংবাদিকদের তথ্য দেওয়ার সন্দেহে প্রতিষ্ঠানটির এক নারী শ্রমিককে আটকে রাখার অভিযোগ সামনে এলো।
ভোরের আকাশ/জেআ