বারোমারীতে ফাতেমা রাণীর তীর্থোৎসবে ৫০ হাজার মানুষের মানুষের ঢল

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার সীমান্তবর্তী বারোমারী গারো পাহাড়ের সাধুলিওর খ্রিস্টধর্মপল্লীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী ফাতেমা রাণীর তীর্থোৎসবের আলোর মিছিল। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে অনুষ্ঠিত এ মিছিলে প্রায় ৫০ হাজার তীর্থযাত্রী অংশ নেন।
দুই হাতে দুটি করে জ্বলন্ত মোমবাতি নিয়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে তারা মিছিলে অংশগ্রহণ করেন। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী মিছিলটি চার থেকে পাঁচ কিলোমিটার পথ প্রদক্ষিণ করে।
তীর্থোৎসব কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর ‘মানবতার জননী ফাতেমা রাণী মা মারিয়া’ প্রতিপাদ্যে দুই দিনব্যাপী ২৯তম বার্ষিক ফাতেমা রাণীর তীর্থোৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার (২৯ ও ৩০ অক্টোবর) এ ধর্মীয় উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।
তীর্থোৎসবের সমন্বয়কারী রেভারেন্ড ফাদার তরুণ বনোয়ারী জানান, ১৯৯৮ সালে পর্তুগালের ফাতেমা নগরের আদলে উপজেলার সীমান্তবর্তী বারোমারী সাধুলিওর খ্রিস্টধর্মপল্লীতে এ তীর্থস্থানটি গড়ে তোলা হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এটি রোমান ক্যাথলিক খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় সমাবেশে পরিণত হয়েছে। প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার খ্রিস্টভক্ত এখানে সমবেত হয়ে নির্ধারিত মূলসুরকে সামনে রেখে তীর্থোৎসবে অংশ নেন।
তীর্থস্থানটিতে ধর্মীয় উপাসনার জন্য নির্মাণ করা হয়েছে ৪৮ ফুট উচ্চতার বিশাল মা মারিয়ার মূর্তি, যা দেশের সবচেয়ে বড় মা মারিয়ার মূর্তি হিসেবে পরিচিত। প্রতিবছর অক্টোবর মাসের শেষ বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার এ তীর্থোৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
দুই দিনব্যাপী এ উৎসবে পাপ স্বীকার, মহাখ্রিস্টযাগ, মোমবাতি প্রজ্বালনের মাধ্যমে আলোক শোভাযাত্রা, সাক্রামেন্তের আরাধনা, নিরাময় প্রার্থনা, নিশিজাগরণ ও জীবন্ত ক্রুশের পথসহ নানা ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা পালন করা হয়।
জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, আজকের এই আলোর মিছিলে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের সমাগম হয়েছে। এত বিপুলসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণে তীর্থোৎসবটি ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও সম্প্রীতির এক অনন্য মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। তীর্থযাত্রীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। উৎসবকে নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণ রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মো. জহিরুল ইসলামসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পুলিশ, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি), আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), আনসার, ফায়ার সার্ভিস, গ্রাম পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। বিপুলসংখ্যক তীর্থযাত্রীর সমাগমকে কেন্দ্র করে পুরো তীর্থস্থানজুড়ে নেওয়া হয় বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা।
ভোরের আকাশ/সু.পা