শিরোনাম
রোহিঙ্গা সংকট কেবল মানবিক সমস্যা নয়, এটি গভীর রাজনৈতিক ইস্যু: শামা ওবায়েদটিএসসি এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণে আটক ৩ জনের পরিচয় মিললরাজনৈতিক সমর্থন ব্যালটে, অফিসে নয়: কর্মকর্তাদের প্রধানমন্ত্রীমালিবাগ সিআইডি অফিসের পার্কিংয়ে ককটেল বিস্ফোরণবন্দরে পড়ে থাকা সাড়ে ৬ হাজার কনটেইনার ধ্বংসের উদ্যোগরাজধানীতে এবার স্কুল বাসে আগুনশেখ হাসিনার প্রতিটি হত্যার বিচার হবে: রিজভীপররাষ্ট্র সচিব হলেন সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরীরোহিঙ্গা সংকট কেবল মানবিক সমস্যা নয়, এটি গভীর রাজনৈতিক ইস্যু: শামা ওবায়েদটিএসসি এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণে আটক ৩ জনের পরিচয় মিললরাজনৈতিক সমর্থন ব্যালটে, অফিসে নয়: কর্মকর্তাদের প্রধানমন্ত্রীমালিবাগ সিআইডি অফিসের পার্কিংয়ে ককটেল বিস্ফোরণবন্দরে পড়ে থাকা সাড়ে ৬ হাজার কনটেইনার ধ্বংসের উদ্যোগরাজধানীতে এবার স্কুল বাসে আগুনশেখ হাসিনার প্রতিটি হত্যার বিচার হবে: রিজভীপররাষ্ট্র সচিব হলেন সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী

গাজীপুর কর্মস্থলে ফিরছেন শ্রমিকেরা, কারখানায় ফিরছে কর্মচাঞ্চল্য

গাজীপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ : ৮ নভেম্বর ২০২৬, ৩:৫০ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
গাজীপুর কর্মস্থলে ফিরছেন শ্রমিকেরা, কারখানায় ফিরছে কর্মচাঞ্চল্য
গাজীপুর কর্মস্থলে ফিরছেন শ্রমিকেরা, কারখানায় ফিরছে কর্মচাঞ্চল্য

সরকার গঠিত মজুরি বোর্ডের বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ এবং তা বাস্তবায়নের আশ্বাসে আশ্বস্ত হয়ে শ্রমিকরা কাজে ফিরেছেন। 

নতুন মজুরি ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে এবং শ্রমিকরা জানুয়ারি থেকে বর্ধিত বেতন পাবেন।

টানা কয়েক দিনের শ্রমিক অসন্তোষ, সড়ক অবরোধ ও সংঘর্ষের পর গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে ফিরেছে স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ। ঘোষিত মজুরি বোর্ডের বেতন বৃদ্ধির সুপারিশে মালিক ও শ্রমিকপক্ষের সম্মতির ঘোষণায় আন্দোলন থেকে সরে এসে কাজে ফিরেছেন শ্রমিকরা।

তাদের কর্মস্থলে ফেরার মধ্য দিয়ে সচল হয়েছে কলকারখানার চাকা, পুরোদমে শুরু হয়েছে উৎপাদন কার্যক্রম। শ্রমিকদের উপস্থিতি, কারখানার কর্মচাঞ্চল্য এবং মহাসড়কে স্বাভাবিক যান চলাচলে শিল্পাঞ্চলে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

রোববার (৮ নভেম্বর) সকাল থেকে গাজীপুরের কোনাবাড়ী, শফিপুর, পল্লী বিদ্যুৎ, চন্দ্রা, বাসন সড়ক, টঙ্গী, সালনা, বাংলাবাজারসহ শ্রীপুর উপজেলার বিভিন্ন শিল্পকারখানায় নির্ধারিত সময়ে কাজে যোগ দিয়েছেন শ্রমিকরা। সকাল থেকে শিল্পাঞ্চলের কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা বা শ্রমিক বিক্ষোভের খবর পাওয়া যায়নি। কারখানাগুলোতে স্বাভাবিক উৎপাদন কার্যক্রম চলতে দেখা গেছে।

সরকার গঠিত মজুরি বোর্ডের বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ এবং তা বাস্তবায়নের আশ্বাসে আশ্বস্ত হয়ে শ্রমিকরা কাজে ফিরেছেন। নতুন মজুরি ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে এবং শ্রমিকরা জানুয়ারি থেকে বর্ধিত বেতন পাবেন। এ ঘোষণার পর শ্রমিকদের মধ্যে কাজে ফেরার প্রবণতা বাড়ে। মালিক-শ্রমিকের সম্মতির ফলে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা কাটিয়ে শিল্পকারখানায় উৎপাদন স্বাভাবিক হওয়ার পথ তৈরি হয়েছে।

গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন জানান, গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। সকাল থেকে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। শ্রমিকরা যথারীতি কাজে যোগ দিয়েছেন। শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শিল্প পুলিশের সদস্যরা মহাসড়কের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিএম) মো. সোহেল রানা জানান, সকাল থেকে এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। শ্রমিকরা স্বাভাবিকভাবে কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র‌্যাব, বিজিবি, পুলিশ ও আনসারসহ মোট ২১ প্লাটুন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। পাশাপাশি শিল্প পুলিশ, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ ও জেলা পুলিশের সদস্যরা মহাসড়কসহ বিভিন্ন সড়কে দায়িত্ব পালন করছেন। শিল্পাঞ্চলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা এবং কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে গত কয়েক দিন ধরে গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পকারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে শ্রমিক বিক্ষোভ, মহাসড়ক অবরোধ, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে শ্রমিক ও পুলিশ সদস্য আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অনেকগুলো কারখানায় ছুটি ঘোষণা এবং অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। আন্দোলনের মধ্যে বাংলাবাজার এলাকায় বিক্ষোভের ভিডিও ধারণকে কেন্দ্র করে মারধরের শিকার পোশাকশ্রমিক তৌফিক হোসেনের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর ঘটনাও শিল্পাঞ্চলে উত্তেজনা বাড়ায়।

তবে মজুরি বৃদ্ধির সুপারিশে মালিক-শ্রমিকের সম্মতি এবং নতুন বেতন কার্যকরের সময়সূচি ঘোষণার পর পরিস্থিতির দৃশ্যপট বদলেছে। শ্রমিকদের কর্মস্থলে ফিরে আসায় উৎপাদন কার্যক্রম সচল হয়েছে। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সতর্ক অবস্থানের পাশাপাশি মালিক-শ্রমিকের পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

ভোরের আকাশ/রই

শেয়ার করুন: