মেহেরপুরে হয়ে গেল বাংলার ঐতিহ্যবাহী হাডুডু খেলা

বাঙালির ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ খেলাধুলা টিকিয়ে রাখার প্রত্যয়ে মেহেরপুরের আমঝুপিতে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল জমজমাট হাডুডু টুর্নামেন্ট। ‘দেশীয় খেলা বাঁচিয়ে রাখি’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে শনিবার দিনব্যাপী আমঝুপি উত্তরপাড়া ঐক্য ক্লাবের আয়োজনে মরহুম গোলাম মোস্তফা চেয়ারম্যান স্মরণে এই টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়।এই টুর্নামেন্ট ১৬ টি দল অংশগ্রহণ করে।
আমঝুপি উত্তরপাড়া মাঠে আয়োজিত এই ঐতিহ্যবাহী হাডুডু খেলা দেখতে স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমী ও সাধারণ দর্শকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়।
টুর্নামেন্টে সভাপতিত্ব করেন মেহেরপুর জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক লিটন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন— মেহেরপুর সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ ফয়েজ মোহাম্মদ, মেহেরপুর পৌর বিএনপির সভাপতি আবদুল লতিফ বিশ্বাস, মেহেরপুর সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সাহিদুল ইসলাম, মেহেরপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এহান উদ্দীন মনা এবং জেলা জাসাসের সদস্য সচিব এ. বাকাবিল্লাহ, পিরোজপুর ইউনিয়ন যুবদলের সহ-সভাপতি রাজীব হোসেন ফিট্টু প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান বলেন, বাংলাদেশের সমস্ত ঐতিহ্যবাহী খেলা হারিয়ে যাচ্ছে। একসময় লালন সংগীত একতারার মাধ্যমে গাওয়া হতো, কারণ লালনের গান শুধু একতারা দিয়েই মানায়। আমরা মনে করি, বাংলাদেশের যত ঐতিহ্য রয়েছে তা আবার ফিরে আসুক। আজকের হাডুডু প্রতিযোগিতাও সফল হোক। সবাই জানুক, মেহেরপুর তার হাজার বছরের ঐতিহ্য ও খেলাধুলাকে ধারণ করার চেষ্টা করছে। বাইরে থেকে কোনো খেলোয়াড় এলে আমরা তাদের স্বাগত জানাই। আমঝুপিতে যেহেতু নিয়মিত হাডুডু খেলা হয়, আমরা চাই এই আমঝুপিকে কেন্দ্র করে মেহেরপুর থেকে একটি হাডুডু দল দেশের অন্যপ্রান্তে পাঠাতে। দেশের যেকোনো প্রান্তে খেলা হলে আমাদের দল সেখানে অংশ নেবে এবং বিজয়ী হয়ে পুরস্কার নিয়ে আসবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
খেলা দেখতে আসা স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমী ও দর্শনার্থীরা এমন আয়োজনে দারুণ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। খেলা দেখতে আসা কলেজছাত্র সাকিবুল ইসলাম বলেন, বর্তমান সময়ে মোবাইল ও প্রযুক্তির আসক্তিতে আমাদের ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলো হারিয়ে যেতে বসেছে। আমঝুপিতে এমন জমজমাট হাডুডু টুর্নামেন্ট আমাদের শৈশব ও গ্রামীণ ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে দিয়েছে। আমরা চাই প্রতিবছরই এই টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হোক।
স্থানীয় বয়োবৃদ্ধ দর্শক আব্দুল মালেক জানান, ছোটবেলায় নিয়মিত হাডুডু খেলতাম ও দেখতাম। সময়ের সাথে সাথে এই খেলা প্রায় উঠেই গিয়েছিল। দীর্ঘ দিন পর মাঠে এসে হাডুডু খেলার সেই আগের আমেজ ফিরে পেয়ে ভীষণ ভালো লাগছে।
আরেক ক্রীড়াপ্রেমী রিপন হোসেন বলেন, এ ধরনের গ্রামীণ খেলাধুলা যুবসমাজকে মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে। আয়োজকদের এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।
আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, গ্রামীণ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে যুবসমাজ আরও বেশি খেলাধুলায় উৎসাহিত হবে।
ভোরের আকাশ/ এনউব