বদলির পরও রিলিজ নেননি গাইবান্ধার আলোচিত এসিল্যান্ড

বদলির আদেশ জারির আট দিন পার হলেও গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জসিম উদ্দিন এখনো নতুন কর্মস্থল পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় যোগদান করেননি। তিনি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ছাড়পত্র (রিলিজ) গ্রহণও করেননি।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, বদলি স্থগিত বা বাতিলের চেষ্টা চালিয়ে যেতে তিনি বিভিন্ন মহলে তদবির করছেন। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক মহল ও স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
গত ২৪ জুন রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার উত্তম কুমার দাশ স্বাক্ষরিত আদেশে ৩৮তম বিসিএস ক্যাডারের কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিনকে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে পদায়ন করা হয়। আদেশে জনস্বার্থে বদলি অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এর আগে যমুনা টেলিভিশনের সাংবাদিক জিল্লুর রহমান পলাশ এবং সময় টেলিভিশনের সাংবাদিক হেদায়েতুল ইসলাম বাবুর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। বিভাগীয় তদন্তের প্রেক্ষাপটেই তাকে বোদায় বদলি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, বদলির আদেশ কার্যকরের এক সপ্তাহের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি নতুন কর্মস্থলে যোগ দেননি। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুর পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকেও তাকে অবমুক্ত করা হয়নি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বদলির পর থেকে তিনি অনিয়মিতভাবে সাদুল্লাপুর ভূমি অফিসে আসছেন। মাঝে কয়েকদিন অফিসে অনুপস্থিত থাকার পর সীমিত সময়ের জন্য দাপ্তরিক কাজে অংশ নেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে ভূমি অফিসে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি।
অফিসের কর্মচারীরা জানান, তিনি দুপুরের পর অফিসে হাজিরা দিয়ে চলে যান। এর আগে এসএসসি পরীক্ষার একটি কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করেন। তবে তিনি বর্তমানে কোথায় অবস্থান করছেন, সে বিষয়ে তারা কিছু জানাতে পারেননি।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লার সরকারি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের একটি সূত্র জানায়, বোদায় যোগ দিতে অনাগ্রহী হওয়ায় তিনি এখনো রিলিজ নেননি। একই সঙ্গে বদলি স্থগিত বা অন্য কোনো মন্ত্রণালয়ে পদায়নের চেষ্টাও করছেন বলে দাবি করা হয়।
রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বদলির পরও তিনি কেন যোগদান করেননি, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সাংবাদিক হেনস্থা এবং অর্পিত সম্পত্তি-সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদন ইতোমধ্যে জমা পড়েছে। পাশাপাশি নতুন অভিযোগগুলোরও যাচাই-বাছাই চলছে।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয় গোপন রাখার শর্তে বলেন, বদলির আদেশ অমান্য করে নতুন কর্মস্থলে যোগদান না করা এবং তদবিরের আশ্রয় নেওয়া সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালার পরিপন্থী। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, গত ৪ জুন ভূমি মন্ত্রণালয় মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বদলি বা কর্মস্থল পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের তদবির না করার নির্দেশনা দিয়ে পরিপত্র জারি করেছে। নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও সেখানে উল্লেখ রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৩ অক্টোবর মো. জসিম উদ্দিন সাদুল্লাপুরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে যোগদান করেন। দায়িত্ব পালনকালে খাস জমি, নামজারি, ভূমি ব্যবস্থাপনা এবং সেবাপ্রত্যাশীদের সঙ্গে আচরণ নিয়ে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ ওঠে। সাম্প্রতিক সাংবাদিক হেনস্থার ঘটনার পর সেসব অভিযোগ আবারও আলোচনায় আসে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি খাস জমি উদ্ধার, সীমানা নির্ধারণ, নামজারি ও ভূমি ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের পাশাপাশি সেবাপ্রত্যাশীদের হয়রানির ঘটনাও ঘটেছে। এ বিষয়ে সরকারি খাস জমি ও মূল্যবান মেহগনি গাছ রক্ষায় অবহেলার অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে গত ২৬ জুন সাদুল্লাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়।
স্থানীয়দের দাবি, পদোন্নতি ও একাধিক বদলির পরও একই কর্মস্থলে বহাল থাকা এবং সর্বশেষ বদলির আদেশ বাস্তবায়নে বিলম্ব প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তারা দ্রুত বদলির আদেশ কার্যকর করে তাকে নতুন কর্মস্থলে যোগদান নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
ভোরের আকাশ/জেআ