গাইবান্ধায় পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ৩১

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় পাগলা কুকুরের আক্রমণে অন্তত ৩১ জন আহত হয়েছেন।
উপজেলার বেলকা ও শান্তিরাম ইউনিয়নে একের পর এক পথচারীকে কামড়ে আহত করছে কুকুরটি। আক্রান্তদের মধ্যে শিশু, নারী ও বয়স্ক ব্যক্তিরাও রয়েছেন। এ ঘটনায় দুই ইউনিয়নের মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক। অনেকে প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হতেও ভয় পাচ্ছেন। এদিকে আহত ব্যক্তিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার হঠাৎ করেই কুকুরটি মানুষের ওপর আক্রমণ শুরু করে। বিশেষ করে বেলকা বাজার ও আশপাশের এলাকায় কুকুরটির হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হন। চলাচলের পথে আচমকা কুকুরের আক্রমণের শিকার হয়ে অনেকে আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
কুকুরের আক্রমণের পর থেকে দুই ইউনিয়নের বাসিন্দাদের মধ্যে বিরাজ করছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। কখন আবার কে আক্রান্ত হন, সেই আশঙ্কায় রয়েছেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে বেশি চিন্তিত অভিভাবকরা। অনেকেই শিশুদের একা বাইরে যেতে দিচ্ছেন না। প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে বের হওয়াও কমিয়ে দিয়েছেন অনেকে।
এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, কুকুরের কামড়ে আহত অন্তত ৩১ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। তাঁদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের একটি বোর্ড গঠন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. ফারহানা বিনতে ফারুক বলেন, কুকুরের কামড়ে আহত ব্যক্তিদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে তিন সদস্যের একটি বোর্ড গঠন করা হয়েছে।
কুকুরটির আক্রমণে আতঙ্কিত বেলকা ও শান্তিরাম ইউনিয়নের বাসিন্দারা দ্রুত সেটিকে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পাশাপাশি এলাকায় প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
তাঁদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেবে, যাতে নতুন করে কেউ কুকুরের আক্রমণের শিকার না হন এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন এলাকাবাসী।
ভোরের আকাশ/রই