সিলগালা ভেঙে গোপনে দেহ ব্যবসা, অতঃপর...

বগুড়ায় প্রশাসনের সিলগালা করা একটি অনিবন্ধিত আবাসিক হোটেলে যৌথ অভিযান চালিয়ে নারী-পুরুষসহ ২০ জনকে আটক করেছে র্যাব। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত হোটেল পরিচালনার সঙ্গে জড়িত চারজনকে এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। আটক বাকি ১৬ জনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে বগুড়া শহরের তিনমাথা এলাকায় অবস্থিত ‘হোটেল অবকাশ’-এ র্যাব-১২, জেলা প্রশাসন ও পুলিশের যৌথ অভিযানে এ ঘটনা ঘটে।
র্যাব ও জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, অনিবন্ধিত হওয়ায় এর আগে হোটেলটি সিলগালা করা হয়েছিল। তবে প্রশাসনের সিলগালা পাশ কাটিয়ে ভবনের অন্য পাশে নতুন একটি প্রবেশপথ তৈরি করে গোপনে হোটেলের কার্যক্রম চালানো হচ্ছিল। এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে হোটেলের নতুন তালা কেটে ভেতরে প্রবেশ করে বিভিন্ন কক্ষ ও ছাদে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় ১৪ জন নারী ও ছয়জন পুরুষকে আটক করা হয়।
বগুড়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফয়সাল আহমাদ জানান, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে চারজন হোটেল পরিচালনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন। অনিবন্ধিত হোটেল অবৈধভাবে পরিচালনার দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের প্রত্যেককে এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আটক বাকি ১৬ জনের মধ্যে ১৪ জন নারী ও দুইজন পুরুষ। তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হবে। অভিযানে মাদক, মাদক সেবনের বিভিন্ন আলামত এবং জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে।
র্যাব-১২ সিপিএসসি বগুড়ার কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার ফিরোজ আহমেদ বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সিলগালা অমান্য করে হোটেল পরিচালনার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই হোটেলটিকে ঘিরে নানা ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলছিল। এর আগেও সেখানে প্রশাসনের অভিযান পরিচালিত হয়েছে। তারা হোটেলটি স্থায়ীভাবে বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।
র্যাব জানিয়েছে, বগুড়া শহরের অন্যান্য অনিবন্ধিত বা অনুমোদনহীন হোটেলের বিরুদ্ধেও গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত থাকবে। অভিযোগের সত্যতা মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভোরের আকাশ/এনএ