জামালপুরে দুর্গাপূজা নিরাপত্তায় ১৪৯২ আনসার-ভিডিপি সদস্য প্রস্তুত

শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপন নিশ্চিত করতে জামালপুর জেলার সাতটি উপজেলায় ২২৫টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আনসার-ভিডিপি) ১ হাজার ৪৯২ জন সদস্য মোতায়েনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে আনসার ব্যাটালিয়নের একটি স্ট্রাইকিং টিম। জামালপুর জেলা আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর জেলা কমান্ড্যান্ট মীরবহর শাহাদাৎ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জামালপুর জেলা আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুর্গাপূজা উপলক্ষে দায়িত্ব পালনের আগে আনসার-ভিডিপি সদস্যদের ব্রিফিং প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়।
এতে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
জেলার ২২৫টি পূজামণ্ডপকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ, গুরুত্বপূর্ণ ও সাধারণ- এই তিন শ্রেণিতে ভাগ করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাজানো হয়েছে। এর অংশ হিসেবে পুরুষ সদস্যদের ৫০ শতাংশ হারে ৫২১ জন সদস্য মোতায়েনের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
ব্রিফিং প্যারেডে সদস্যদের নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের পাশাপাশি যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে দ্রুত ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে দায়িত্ব পালনের সময় বাহিনী ও সরকারের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
জামালপুর জেলা আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর জেলা কমান্ড্যান্ট মীরবহর শাহাদাৎ হোসেন বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এ উৎসব যেন নিরাপদ, নির্বিঘ্ন ও আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপিত হয়, সে লক্ষ্যে জেলার সাতটি উপজেলায় ২২৫টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় আনসার-ভিডিপি সদস্যদের প্রস্তুত করা হয়েছে দায়িত্ব পালনে প্রত্যেক সদস্যকে সর্বোচ্চ সতর্কতা, শৃঙ্খলা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় আনসার ব্যাটালিয়নের স্ট্রাইকিং টিম প্রস্তুত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গোৎসব সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
দুর্গাপূজা চলাকালে স্থানীয় প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে দায়িত্ব পালন করা হবে। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যাতে নির্বিঘ্নে ধর্মীয় উৎসব উদযাপন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে নিরাপত্তা ও সতর্কতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
ভোরের আকাশ/সু.পা