শিরোনাম
নয়াপল্টনের সমাবেশে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণসড়ক দুর্ঘটনায় নিহত-আহতরা পাবেন ১-৫ লাখ টাকা, আবেদন যেভাবেসৌদিতে প্রাণঘাতী সড়ক দুর্ঘটনা, নিহত ৭ বাংলাদেশিডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫৫৫মার্কিন ভিসা নিয়ে সতর্ক করলো দূতাবাসসিপাহি-জনতার বিপ্লবে অপশক্তি পরাভূত হয়েছিল : প্রধানমন্ত্রীবিশ্ববাজারে কমলো স্বর্ণের দামজাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীনয়াপল্টনের সমাবেশে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণসড়ক দুর্ঘটনায় নিহত-আহতরা পাবেন ১-৫ লাখ টাকা, আবেদন যেভাবেসৌদিতে প্রাণঘাতী সড়ক দুর্ঘটনা, নিহত ৭ বাংলাদেশিডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫৫৫মার্কিন ভিসা নিয়ে সতর্ক করলো দূতাবাসসিপাহি-জনতার বিপ্লবে অপশক্তি পরাভূত হয়েছিল : প্রধানমন্ত্রীবিশ্ববাজারে কমলো স্বর্ণের দামজাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

বিসিসি নির্বাচন: বিএনপির রহমতুল্লাহ- সান্টুসহ আট প্রার্থী

বরিশাল প্রতিনিধি

প্রকাশ : ৭ নভেম্বর ২০২৬, ৬:২৪ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ভোরের আকাশ
ভোরের আকাশ

বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে নগরীর রাজনৈতিক অঙ্গন। একদিকে বিএনপির একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশীকে ঘিরে দলীয় হিসাব-নিকাশ, অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন, এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের তৎপরতা — সব মিলিয়ে নির্বাচনের আগেই জমে উঠেছে সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাঠ।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মেয়র পদে বিএনপির অন্তত ৮ জন নেতা মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন। তাঁরা হলেন — বর্তমান সিটি করপোরেশন প্রশাসক বিলকিস জাহান শিরিন, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপির ১ নং সদস্য আলহাজ্ব আবু নাসের মুহাম্মদ রহমতুল্লাহ, বরিশাল-২ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এস. সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু, জেলা দক্ষিণ বিএনপির সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আলহাজ্ব এবায়েদুল হক চান, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক, সদস্য সচিব জিয়াউদ্দিন সিকদার, একাধিকবার নির্বাচিত কাউন্সিলর ও মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মীর জাহিদুল কবির এবং মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা নাসরিন।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসাইন হেলাল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের একক প্রার্থী অ্যাডভোকেট শেখ আব্দুল্লাহ নাসির এবং এনসিপির একক প্রার্থী এম. আনোয়ার হোসেন সিকদার সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে জোরালো আলোচনায় রয়েছে। এছাড়া বাসদের একক প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন ডা. মনীষা চক্রবর্তী।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এখন বড় প্রশ্ন — বিএনপি শেষ পর্যন্ত একক প্রার্থী দিতে পারবে, নাকি একাধিক প্রার্থীর অনুসারীদের মধ্যে বিভক্তি তৈরি হবে? চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত ভোটের সমীকরণ সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই আলোচনায় উঠে এসেছেন বরিশাল মহানগর এনসিপির সদস্য সচিব, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এম. আনোয়ার হোসেন সিকদার। এনসিপি সভাপতি নাহিদ ইসলাম গত ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বরিশাল শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত দলীয় কর্মসূচিতে তাঁকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন।

আনোয়ার সিকদারের আলোচনার মূল বিষয় তাঁর প্রস্তাবিত নগর উন্নয়ন মহাপরিকল্পনা। প্রচলিত নগর ব্যবস্থাপনার গণ্ডি পেরিয়ে বরিশালকে দক্ষিণ বাংলার একটি আধুনিক বাণিজ্যিক, শিল্প ও পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন তুলে ধরছেন তিনি।

তাঁর পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কীর্তনখোলা নদী। তিনি মনে করেন, নদীর দুই তীরকে পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করা গেলে বরিশালের অর্থনৈতিক সম্ভাবনায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে।

এক সাক্ষাৎকারে আনোয়ার হোসেন সিকদার বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত 'আই হ্যাভ এ প্ল্যান' ধারণার সঙ্গে তিনি একমত। তাঁর মতে, একটি শহরের উন্নয়ন শুধু সরকারি বরাদ্দের ওপর নির্ভরশীল থাকলে কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক পরিবর্তন আনা কঠিন।

তিনি আরও বলেন, “আমি মেয়র নির্বাচিত হলে শুধু সিটি করপোরেশনের প্রচলিত কাজের মধ্যে নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখতে চাই না। বরিশালের উন্নয়নে একটি সমন্বিত উন্নয়ন ফোরাম গঠন করতে চাই। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন, সরকারি দপ্তর, উন্নয়ন সংস্থা, বন্দর কর্তৃপক্ষ, ব্যবসায়ী সংগঠন ও আন্তর্জাতিক সহযোগীদের এক জায়গায় এনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেব।”

তাঁর ভাষায়, “বরিশালের উন্নয়নকে একটি বৃহত্তর অর্থনৈতিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখতে হবে। দক্ষিণ বাংলার প্রবেশদ্বার হিসেবে বরিশালকে গড়ে তুলতে পারলে শিল্প, বাণিজ্য, পর্যটন ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।”

বরিশাল সিটি করপোরেশনের আয়তন প্রায় ৫৮ বর্গকিলোমিটার। এখানে রয়েছে ৩০টি সাধারণ ওয়ার্ড এবং ১০টি সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদ। এই বিশাল নগর এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনায় ওয়ার্ডভিত্তিক নাগরিক চাহিদা, অবকাঠামো এবং অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা ভাবছেন আনোয়ার সিকদার।

তাঁর প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় আরও রয়েছে — আধুনিক ড্রেনেজ ও জলাবদ্ধতা নিরসন ব্যবস্থা, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ ও সম্পদ উৎপাদনের সম্ভাবনা যাচাই, নিরাপদ সড়ক, ফুটপাত ও আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা, পরিকল্পিত আবাসন ও নগরায়ণ, পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব নগর ব্যবস্থাপনা, আধুনিক বাণিজ্যিক অঞ্চল ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ, যুবসমাজের জন্য শিল্প ও ব্যবসাভিত্তিক কর্মসংস্থান এবং ডিজিটাল নাগরিক সেবা ও স্বচ্ছ নগর প্রশাসন।

তিনি মনে করেন, বরিশালের অনেক বড় উন্নয়ন প্রকল্প সরাসরি সিটি করপোরেশনের একক এখতিয়ারভুক্ত নয়। নদী ব্যবস্থাপনা, বন্দর, শিল্পায়ন, বৃহৎ যোগাযোগ অবকাঠামো এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের মতো বিষয় বাস্তবায়নে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন প্রয়োজন। তবে একজন মেয়রের দায়িত্ব শুধু দৈনন্দিন সেবা পরিচালনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। বরং সমন্বিত উন্নয়ন ফোরাম গঠন, প্রকল্প প্রস্তাব তৈরি, অর্থায়নের উৎস অনুসন্ধান এবং বাস্তবায়ন তদারকির উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব।

বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এখনো বিভিন্ন দলের প্রার্থীদের চূড়ান্ত রাজনৈতিক অবস্থান ও নির্বাচনী কর্মসূচি আরও স্পষ্ট হওয়ার অপেক্ষা রয়েছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, সম্ভাব্য প্রার্থীরা নগরবাসীর সামনে কী ধরনের উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরবেন, অর্থায়নের উৎস কীভাবে নিশ্চিত করবেন এবং তাঁদের ঘোষিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রশাসনিক কাঠামো কী হবে।

বিএনপির একাধিক প্রার্থী আলোচনায় থাকলেও মূল আলোচনায় রয়েছেন আবু নাসের মুহাম্মদ রহমতুল্লাহ এবং এস. সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু।

রহমতুল্লাহ বিগত আওয়ামী সরকার পতন আন্দোলনে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছেন। আন্দোলনে গ্রেফতার হওয়া কারাবন্দী নেতাকর্মীদের আইনি সহায়তা দিয়ে কারামুক্ত করা, আহত নেতাকর্মীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতে সহায়তা করা, দলের নারী উদ্যোক্তাদের স্বাবলম্বী করতে সেলাই মেশিনসহ আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং অসহায় অসচ্ছল নেতাকর্মীদের স্বাবলম্বী করতে নানা সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছেন তিনি। এজন্য সাধারণ ভোটার এবং তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রথম পছন্দের তালিকায় রয়েছেন তিনি।

অপরদিকে বিএনপির অপর হেভিওয়েট প্রার্থী বরিশাল-২ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য এস. সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু। তিনি ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত বিসিসি নির্বাচনে বিজয়ী হলেও তাঁর বিজয় রহস্যজনকভাবে ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। করোনাকালীন সময়ে তিনি নগরীর বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাধ্যমে ব্যাপকভাবে আর্থিক সহায়তাসহ অসহায় অসচ্ছল পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী প্রদান করে সহযোগিতা করেছেন। বিএনপির একজন পরিচ্ছন্ন নেতা হিসেবে বরিশাল নগরীতে তাঁরও রয়েছে বেশ জনপ্রিয়তা।

আরও পড়ুন

প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে ৩০ কোটি ডলার দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

অপরদিকে নগর উন্নয়নের মহাপরিকল্পনা নিয়ে মাঠে থাকা নতুন দল এনসিপির নতুন প্রার্থী বিশিষ্ট শিল্পপতি আনোয়ার হোসেন সিকদারও ক্রমেই একজন ভালো মানুষ ও সফল ব্যবসায়ী হিসেবে নগরবাসীর মনে জায়গা করে নিচ্ছেন।

সব মিলিয়ে বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি নগর উন্নয়নের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও নাগরিক সেবার বিষয়গুলোও আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে।

ভোরের আকাশ/ এনউব

শেয়ার করুন: