শিরোনাম
জাপান সফর শেষে দেশে ফিরছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানঅনলাইন সহিংসতার শিকার ৪৫.৫ শতাংশ নারী, পুলিশের সহায়তা নেন ৪.৬ শতাংশমহামান্য রাষ্ট্রপতির সঙ্গে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের সৌজন্য সাক্ষাৎরূপপুরের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরুর অনুমোদনচিকিৎসায় খরচ করে দারিদ্র্যসীমার নিচে ১ কোটি ৮ লাখ মানুষ: গবেষণাআমরা অবশ্যই এই ভোট নিয়ে সন্তুষ্ট: ইসি সচিবসরকারি চুক্তিভিত্তিক চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা নিয়ে নতুন সিদ্ধান্তচার বছরে ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষক কার্ড দেবে সরকারজাপান সফর শেষে দেশে ফিরছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানঅনলাইন সহিংসতার শিকার ৪৫.৫ শতাংশ নারী, পুলিশের সহায়তা নেন ৪.৬ শতাংশমহামান্য রাষ্ট্রপতির সঙ্গে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের সৌজন্য সাক্ষাৎরূপপুরের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরুর অনুমোদনচিকিৎসায় খরচ করে দারিদ্র্যসীমার নিচে ১ কোটি ৮ লাখ মানুষ: গবেষণাআমরা অবশ্যই এই ভোট নিয়ে সন্তুষ্ট: ইসি সচিবসরকারি চুক্তিভিত্তিক চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা নিয়ে নতুন সিদ্ধান্তচার বছরে ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষক কার্ড দেবে সরকার

বসতঘর পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি, থানায় জিডি

রামগতি-কমলনগর (লক্ষ্মীপুর)প্রতিনিধি

প্রকাশ : ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ৬:২৬ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
বসতঘর পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি, থানায় জিডি
বসতঘর পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি, থানায় জিডি

টাকা পরিশোধের ১৫ বছর পরও জমির রেজিস্ট্রি না পেয়ে পরিবার নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের নদীভাঙা এক দিনমজুর। স্থানীয়ভাবে সালিশি বৈঠকে রায় মেনে নেওয়ার পরও অভিযুক্ত বিক্রেতা জমি বুঝিয়ে দিচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। উল্টো বর্তমান বাজারমূল্য বেড়ে যাওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবারটিকে ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ ও পুড়িয়ে মারার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

এ ঘটনায় গত রবিবার (২৫ অক্টোবর) ভুক্তভোগী নুরুল হক ওরফে নাগর মাঝি বাদী হয়ে কমলনগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

নুরুল হক কমলনগর উপজেলার চর মার্টিন ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দালালেগো সমাজের মৃত কাজল মিঝির ছেলে। অভিযুক্ত জমি বিক্রেতা লতিফ ব্যাপারী (৬৫) একই এলাকার বাসিন্দা। চার কন্যাসন্তান নিয়ে বর্তমানে চরম আতঙ্কে দিন কাটানো এই পরিবারটি সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৫ বছর আগে মেঘনা নদীর ভাঙনে বসতভিটাসহ সব হারিয়ে নিঃস্ব হন দিনমজুর নুরুল হক। পরবর্তীতে চর মার্টিন ইউনিয়নের আলী আহাম্মদ দালাল সমাজ এলাকায় এসে স্থানীয় লতিফ ব্যাপারীর কাছ থেকে ৬০ হাজার টাকায় ১২ শতক জমি কেনেন তিনি। সেই জমিতে বসতঘর তুলে দীর্ঘদিন ধরে পরিবার নিয়ে বসবাস করে আসছেন। কিন্তু বিশ্বাসের কারণে সেসময় জমি কেনাবেচার পাকাপাকি দলিল বা রেজিস্ট্রি করিয়ে নেননি।

সম্প্রতি বসতঘরের পাশের খালে ভাঙন দেখা দিলে নিজ উদ্যোগে মাটি ও বালুর বস্তা ফেলে ঘরটি রক্ষার চেষ্টা করেন নুরুল হক। এর মধ্যেই এলাকায় মেঘনা নদীর তীর সংরক্ষণ বাঁধের কাজ শুরু হলে হঠাৎ ওই এলাকার জমির দাম বহুগুণ বেড়ে যায়। দাম বাড়ার পর থেকেই বিক্রেতা লতিফ ব্যাপারী জমি রেজিস্ট্রি করে দিতে টালবাহানা শুরু করেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উদ্যোগে একটি সালিশি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে এক সপ্তাহের মধ্যে জমিটি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় এবং অভিযুক্ত লতিফ ব্যাপারী সবার সামনে তা মেনেও নেন। কিন্তু ৬ মাস পেরিয়ে গেলেও তিনি দলিল বুঝিয়ে দেননি।

ভুক্তভোগী নুরুল হকের অভিযোগ, গত ২৫ অক্টোবর বিকেলে লতিফ ব্যাপারীর লোকজন তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং তার বসতঘর পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন।

নুরুল হক আক্ষেপ করে বলেন, নদীর ভাঙনে আমাদের সব শেষ হয়ে গিয়েছিল। অনেক কষ্টে টাকা জমিয়ে এই জমি কিনে ঘর করেছি। এখন জমির দাম বেড়ে যাওয়ায় বিক্রেতা দলিল দিচ্ছেন না। চার মেয়েকে নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছি, এর ওপর এখন ঘর পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি পাচ্ছি। আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় আছি।

চর মার্টিন ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শাহজাহান মেম্বার বলেন, নুরুল হক একজন নিরীহ মানুষ। নদীর ভাঙনে সর্বস্ব হারিয়ে তিনি এখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন। বিশ্বাসের বশে তখন দলিল করিয়ে না নেওয়ায় এখন বিপাকে পড়েছেন। নদীর তীর রক্ষা বাঁধের কাজ আসায় জমির দাম বাড়ায় লতিফ ব্যাপারী দলিল দিতে গড়িমসি করছেন। সালিশের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে জমি রেজিস্ট্রি করে দিতে বলা হয়েছিল।

কালকিনি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম সুমন বলেন, উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে লতিফ ব্যাপারীকে এক সপ্তাহের মধ্যে জমি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছিল। তিনি তা মেনেও নিয়েছিলেন। কী কারণে এখনো দলিল দিচ্ছেন না, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন

দেবিদ্বারে খুব শীগ্রই হচ্ছে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন

এ বিষয়ে অভিযুক্ত লতিফ ব্যাপারীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। 

কমলনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ফরিদুল আলম বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভোরের আকাশ/আ.র

শেয়ার করুন: