প্লাস্টিক মেলামাইন এবং স্টিলের চাপে
বিলুপ্তির পথে ধামরাইয়ের ঐতিহ্যবাহী তামা-কাঁসা শিপ্ল

বাংলাদেশের ইতিহাস ঐতিহ্যের সঙ্গে মিশে ছিল তামা-কাঁসার তৈজসপত্রের ব্যবহার। আধুনিক ও সস্তা বিকল্পের প্লাস্টিক মেলামাইন স্টিলের তৈরী তৈজসপত্রের সহজলভ্যতার দাপটে
ঐতিহ্যবাহী তামা-কাঁসা শিপ্ল এখন বিলুপ্তির পথে।
কাচামালের উচ্চ মূল্য, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এবং বংশপরম্পরায় যুক্ত থাকা কারিগরদের পেশা পরিবর্তনের ফলে এ শিল্প খাতের অবস্থা অত্যান্ত সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছে।
একসময় বাংলার প্রতিটি ঘরে ঘরে ছিল তামা-কাঁসার তৈরি জিনিস পত্রের উপস্থিতি। পানি খাওয়ার গ্লাস, থালা, বাটি, বালতি, জগ, ভাত রান্না করার পাতিল, ব্যল বা ঘন্টা, পূজার সামগ্রীর ব্যবহারসহ আরো কত কিছু। প্রায় সব খানেই ছিল এ ধাতুর ব্যবহার।
সময়ের পরিবর্তনের আধুনিকতার ছোঁয়ার প্রায় দুইশত বছরের ঐতিহ্যবাহী এ কুটির শিল্প হারিয়ে যেতে বসেছে। তবুও ঢাকার ধামরাইসহ এর আশপাশ এলাকায় টিকে আছে সেই পুরনো দিনের স্মৃতি।
আগুনের তাপ ও হাতুড়ির টুংটাং শব্দ আর কারিগরদের ঘামে নিবু নিবু করে টিকে আছে এ তামা-কাঁসা শিল্প।
ধামরাই পৌর শহরের কায়েতপাড়া ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় পূর্বে যেখানে ৫০ থেকে ৬০ টি কারখানা ছিল আর এখন সেখানে ২ থেকে ৩ টি কারখানায় তৈরি হয় তামা-কাঁসার নিজিস পত্র।
প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ধরে এ কাজের সাথে জড়িয়ে আছে বেশকিছু কারিগর। কেউ বানাচ্ছে থালাবাটি কেউ বানাচ্ছে হারিপাতিল আবার কেউ সৌখিন নকসা করা সুপিচ। কারিগরদের দাবি এখন আর আগের মতো বাজারে চাহিদা নেই।
কারিগরা বলেন, এক সময় এ কাজের উন্নয়ন ছিল। অনেককে কাজ শিখ ছিল। অনেক দোকান পাঠ ও ছিল। এখন আর কেউ কাজ শিখেও না দোকান পাঠ ও নাই।এ ব্যবসা নষ্ট হয়েছে স্টিল ও মেলামাইনের কারনে।
ডিজাইনের চাহিদা আছে। চাহিদা তুলনায় মাল দিতে পারছি না। উৎপাদন খরচ বেশী মূলধন কম। মূলধন বেশী থাকলে আমরা আরো বেশী সাপ্লাই দিতে পারতাম।
ব্যবসায়ী আবু তালেব বলেন, কারিগর অনেক কমে গেছে। । নতুন কোন প্রজন্ম কাজ শিখতেছে না। আমরা গুটি কজন লোক আছে এ গুলি গেলে গা এ কাজ বিলিয়ন হয়ে যাবে শেষ। আমরা আর বানাতে পারবো না
আগে ৩০টি কারখানা ছিল। ধামরাইয়ে ১টি কারখানা ছিল গ্যাস না থাকার কারণে এ কারখানা বন্ধ আছে।
ধামরাই উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা এস এম হাসান বলেন, এ পেশার মান উন্নয়ন এ আদি পেশা যাতে টিকে থাকে তার জন্য সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
এ শিল্পে আধুনিক প্রযুক্তি যত বেশী সরবরাহ হবে সৌখিন মানুষের আগ্রহ ততই বাড়বে। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারী ভাবে বিভিন্ন এনজিও এর সহযোগিতার প্রয়োজন। সেই সাথে এ পেশার মান উন্নয়নে প্রণোদনা বাড়ানোর প্রয়োজন। সর্বোপরি এ শিল্প টিকিয়ে রাখতে হলে সম্মিলিতভাবে সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন।
ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল মামুন বলেন, এ শিল্প টিকিয়ে রাখার জন্য যে কোন ধরনের সাহায্য সহযোগিতা করার প্রস্তুত আছি।
ভোরের আকাশ/ইউএম