বরগুনা হরিণঘাটা পর্যটন কেন্দ্র রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে দর্শনার্থীশূন্য

বরগুনার পাথরঘাটার জনপ্রিয় হরিণঘাটা পর্যটন কেন্দ্রটি অব্যবস্থাপনা, অবহেলা ও রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতিতে এখন প্রায় পর্যটকশূন্য। অপূর্ব প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, চিত্রল হরিণের দল, ম্যানগ্রোভ বন, নদী ও বঙ্গোপসাগরের মোহনার মনোরম দৃশ্য সব কিছু থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিনের অযত্নে হারাতে বসেছে এর আকর্ষণ। ভাঙাচোরা অবকাঠামো ও ন্যূনতম নিরাপত্তাহীনতার কারণে দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন একসময়ের কোলাহলপূর্ণ এ পর্যটন স্পট থেকে।

জানা যায়, হরিণঘাটা বনাঞ্চল তার ম্যানগ্রোভ বন, বন্যপ্রাণী এবং নদী-মোহনার দৃশ্যের জন্য সুপরিচিত। জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে ২০১৩ সালের শেষ দিকে এখানে নির্মিত হয় পাঁচতলা ওয়াচ টাওয়ার, এক কিলোমিটার দীর্ঘ ফুট ট্রেইল, চারটি পাকা বিশ্রামাগার, একটি পাকা সেতু, দশটি পাকা বেঞ্চ এবং একটি গণশৌচাগার। তবে সময়ের সঙ্গে এসব সুবিধার অধিকাংশই এখন ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফুট ট্রেইলের বেশিরভাগ পাটাতন ভেঙে গেছে, ওয়াচ টাওয়ারের বিভিন্ন স্থানে পলেস্তারা খসে পড়েছে এবং বিশ্রামাগারগুলো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। পরিচ্ছন্ন ও পর্যাপ্ত ওয়াশরুম না থাকায় বিশেষ করে নারী পর্যটকরা পড়ছেন চরম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে।

সরেজমিন দেখা যায়, ভাঙা ফুট ট্রেইলের কারণে পর্যটকরা লালদিয়ার সমুদ্রতীরবর্তী চরে যেতে পারছেন না। ওয়াচ টাওয়ারের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। বনাঞ্চলে পর্যটকদের জন্য ন্যূনতম নিরাপত্তা নেই। পাশাপাশি যোগাযোগব্যবস্থার দুর্বলতা পর্যটক বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সুন্দরবনের পর দেশের অন্যতম বৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন হওয়ায় হরিণঘাটা পর্যটনের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সামান্য বাজেট বরাদ্দ, অবকাঠামো সংস্কার, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও সঠিক ব্যবস্থাপনা থাকলে হরিণঘাটা কুয়াকাটার মতো আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে। এতে উপকূলীয় অর্থনীতিতেও আসতে পারে ইতিবাচক পরিবর্তন। তবে দ্রুত সংস্কার ও কার্যকর তদারকি না হলে সম্ভাবনাময় এ বনাঞ্চল তার আগের সব প্রাণচাঞ্চল্য হারাতে বসেছে।

পর্যটক বরগুনা সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী মো. হেলাল ইসলাম জয় দৈনিক ভোরের আকাশকে বলেন, এতো সুন্দর জায়গা শুধু পরিকল্পনার অভাবে পর্যটক টানতে পারছে না। নিরাপত্তা নেই, অবকাঠামো ভাঙাচোরা-এসব দেখে মানুষ কীভাবে আসবে? ঝুলন্ত ব্রিজ আর ওয়াচ টাওয়ারের সিঁড়ির অবস্থা ভয়াবহ। এখনই সংস্কার দরকার, না হলে পর্যটন কেন্দ্রটি হারিয়ে যাবে।

স্কুল শিক্ষিকা মোসা. শিউলি বেগম দৈনিক ভোরের আকাশকে বলেন, প্রচুর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য থাকলেও ভেতরে যাওয়ার ফুট ট্রেইল এতটাই ভাঙা যে শিশুদের নিয়ে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ। বিশ্রামাগার, ওয়াশরুম কোনোটিই ঠিক নেই। ন্যূনতম সুবিধা না থাকায় পর্যটকরা আসতেই ভয় পান।
পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান দৈনিক ভোরের আকাশকে বলেন, হরিণঘাটা পর্যটন কেন্দ্রের প্রবেশদ্বার থেকে সেতু পর্যন্ত সংস্কারের জন্য জেলা পরিষদ তিন লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে এবং দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। এছাড়া উপজেলা পরিষদ থেকেও লালদিয়ায় উন্নয়নমূলক কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বন বিভাগের জনবল সংকট থাকায় নিরাপত্তা দুর্বল। এখানে পুলিশের একটি টহল টিম থাকা জরুরি। পর্যটকদের প্রতি কেউ অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভোরের আকাশ/মো.আ.