শিরোনাম
খুলনায় বিএনপি নেতার ছেলেকে গুলি করে হত্যাদেশের সংবিধান সব নাগরিকের ধর্ম পালনের স্বাধীনতা ও সম-অধিকার নিশ্চিত করেছে: ডেপুটি স্পিকারনাহিদ ইসলামকে আইনি নোটিশলং মার্চ ও ফাঁকা গ্যাস সিলিন্ডার দেখিয়ে জনগণকে আর বিভ্রান্ত করা যাবে না : মীর শাহে আলমএইচএসসিতে এক-দুই বিষয়ে অকৃতকার্যদের পরীক্ষা শুরু ২ ডিসেম্বর: শিক্ষামন্ত্রীমোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়নে চীনের সঙ্গে সমঝোতা সইরাজধানীতে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৫৭৭সোনার ভরিতে বাড়লো ৫ হাজার ৪৮২ টাকাখুলনায় বিএনপি নেতার ছেলেকে গুলি করে হত্যাদেশের সংবিধান সব নাগরিকের ধর্ম পালনের স্বাধীনতা ও সম-অধিকার নিশ্চিত করেছে: ডেপুটি স্পিকারনাহিদ ইসলামকে আইনি নোটিশলং মার্চ ও ফাঁকা গ্যাস সিলিন্ডার দেখিয়ে জনগণকে আর বিভ্রান্ত করা যাবে না : মীর শাহে আলমএইচএসসিতে এক-দুই বিষয়ে অকৃতকার্যদের পরীক্ষা শুরু ২ ডিসেম্বর: শিক্ষামন্ত্রীমোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়নে চীনের সঙ্গে সমঝোতা সইরাজধানীতে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৫৭৭সোনার ভরিতে বাড়লো ৫ হাজার ৪৮২ টাকা

কমল ফেনী কলেজ মসজিদের ইমামের বেতন, চলছে সমালোচন

ফেনী প্রতিনিধি

প্রকাশ : ৫ নভেম্বর ২০২৬, ৩:৩৭ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
কমল ফেনী কলেজ মসজিদের ইমামের বেতন, চলছে সমালোচন
কমল ফেনী কলেজ মসজিদের ইমামের বেতন, চলছে সমালোচন

দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ফেনী সরকারি কলেজ জামে মসজিদের ইমাম আবু নাছের মোহাম্মদ উল্ল্যাহর বেতন কমিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। 

সম্প্রতি তার মাসিক ১৮ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ১৫ হাজার ৪০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বেতন কমানোর কারণ হিসেবে ফেনী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ ইব্রাহিম খলিল বলছেন, তিনি মাস্টাররোলভুক্ত। 

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বেসরকারি কর্মচারীদের জন্য দৈনিক ভাতা নির্ধারণ করা হয়। তাদের প্রতি মাসে ২২ দিনের হিসাবে দৈনিক ৭০০ টাকা করে দেওয়া হয়। ওই হিসেবে জেলা শহরে একজন সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ৪০০ টাকা পেতে পারেন। বিভাগীয় এবং সিটি কর্পোরেশনে এটি আরেকটু বেশি।

তাহলে আগে ১৮ হাজার টাকা বেতন কিভাবে নির্ধারণ করা হয়েছিল প্রশ্নের জবাবে অধ্যক্ষ বলেন, কীভাবে দেওয়া হয়েছে জানি না। তবে ওই পরিমাণ বেতন দিলে অডিটে আপত্তি আসবে। যে হিসাবেই রাখি না কেন, আবেগের সুযোগ নেই। সরকারি নিয়ম মানতে হবে।

এ ব্যাপারে মাওলানা মোহাম্মদ উল্ল্যাহ বলেন, যেখানে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ছে, সেখানে একজন ইমাম হিসেবে আমার বেতন কমানো হয়েছে। এটা আমার ওপর জুলুম। অধ্যক্ষ আমার বেতন ১৮ হাজার টাকা করার কথা বলেছেন। কিন্তু ভাউচারের মাধ্যমে বেতন দেওয়া হলে ভবিষ্যতে অন্য অধ্যক্ষ দায়িত্বে এলে তা বন্ধ করে দিতে পারেন।

তিনি আরও বলেন, ১৯৮৮ সাল থেকে আমি কলেজ মসজিদে ইমামতি করছি। তবুও আমি এখনো সরকারি বেতন কাঠামোর আওতায় আসিনি। জাতীয়করণের সময় ইমামের পদটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। কলেজের পরীক্ষা চলাকালে অন্য কর্মচারীরা দায়িত্ব পালনের জন্য ভাতা পেলেও আমি ইমাম হিসেবে আমি সেই সুযোগ পাই না। এ বিষয়ে আবেদন করেও কোনো সমাধান পাইনি। আগে আমি ২০ হাজার টাকা পেতাম। পরে সেটি ২ হাজার টাকা কমিয়ে ১৮ হাজার টাকা করা হয়। মাসে ৩০ দিনই ইমামতি করলেও আমাকে ২২ দিনের হিসাব অনুযায়ী বেতন দেওয়া হচ্ছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কলেজ অধ্যক্ষ বলেন, কলেজের মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের পদ এখনো সরকারি খাতভুক্ত হয়নি। ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য নির্ধারিত বেতন কাঠামোও এখনো কলেজ পর্যায়ে কার্যকর হয়নি। তবে ইমামের বেতন নিয়ে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন অধ্যক্ষ। তিনি বলেন, এ ব্যাপারে একাডেমিক কাউন্সিলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি ৩০ দিন নামাজ পড়াচ্ছেন, সেটি বিষয় নয়। নিয়োগপত্র ও সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ২২ দিনের বেশি দেওয়ার সুযোগ কলেজের নেই।

সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির আলোচনা ও নতুন বেতন কাঠামোর প্রত্যাশার মধ্যে ফেনী সরকারি কলেজের মসজিদের ইমামের বেতন কমিয়ে দেওয়ার ঘটনায় আলোচনা চলছে। ২২ থেকে ২৩ হাজার শিক্ষার্থীর ফেনী সরকারি কলেজে বিভিন্ন খাতে লাখ লাখ টাকা জমা ও বিভিন্ন জাতীয় দিবসে শিক্ষকদের জন্য পাঞ্জাবি, শাড়ি ও খাওয়া-দাওয়া, বিভিন্ন অনুষ্ঠানের খাতে ব্যয়ের তথ্য বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলেও একজন কলেজ মসজিদের ইমামের বেতন কমানো নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

কলেজের প্রকাশিত খাতওয়ারী হিসাব অনুযায়ী, সদ্য বিদায়ী অধ্যক্ষ অধ্যাপক এনামুল হক খোন্দকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত কলেজের সর্বমোট স্থিতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ২৪ লাখ ২০ হাজার ৩৪৬ টাকা। এরমধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গেছে নিরাপত্তা নৈশপ্রহরী তহবিলে। সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর হিসাব অনুযায়ী এ তহবিলের স্থিতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৯ লাখ ৮৮ হাজার টাকা। কলেজ ফান্ডে টাকা থাকা সত্ত্বেও অডিটের অযুহাত দেখিয়ে একজন ইমামের বেতন কমানো যুক্তিসঙ্গত নয় বলে মন্তব্য করেছেন একাধিক শিক্ষার্থী।

ইমাম মাওলানা মোহাম্মদ উল্ল্যাহ বলেন, ইমামদের কোনো ছুটি নেই। অন্যরা ছুটি ভোগ করলেও আমাদের দায়িত্ব পালন করতে হয়। আমাদের চাকরি ৩০ দিনের। সেই হিসাবে আমার ২১ হাজার টাকা পাওয়ার কথা। অথচ এখন ১৫ হাজার ৪০০ টাকা দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি আমাকে আগে জানানো হয়নি। বেতন তুলতে গিয়ে জানতে পেরেছি। তাই ওই টাকা আমি গ্রহণ করিনি।

তিনি বলেন, আমি ১৯৮৮ সাল থেকে এখানে চাকরি করছি। শুরুতে এক হাজার টাকা বেতন পেতাম। ধীরে ধীরে তা ২০ হাজার টাকা হয়েছিল। পরে অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন দায়িত্বে এসে দুই হাজার টাকা কমিয়ে দেন। এরপর ১৮ হাজার টাকা পেতাম। এখন আবার কমানো হলো।

নিজের পারিবারিক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমার বাড়ি কুমিল্লায়। ফেনীর কদলগাজী রোডে ভাড়া বাসায় স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে বসবাস করি। এই বেতনের ওপরই আমার পরিবারের জীবিকা নির্ভরশীল। অন্য কোনো আয়ের উৎস নেই।

ইমামের বেতন কমানোর পর কলেজের আর্থিক সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন শিক্ষার্থীদের অনেকে। তাদের দাবি, ফেনী সরকারি কলেজের বিভিন্ন তহবিলে লাখ লাখ টাকা থাকার তথ্য বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। জাতীয় দিবসসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য পাঞ্জাবি, শাড়ি, খাবার ও অন্যান্য আয়োজনেও অর্থ ব্যয়ের নজির রয়েছে। সদ্য বিদায়ী অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ এনামুল হক খোন্দকারও বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে এসব বিষয়ে কথা বলেছেন।

আরিফ শুভ্র নামে কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, একজন ইমামের বেতন কমানো এক ধরনের প্রহসন। যেখানে সদ্য বিদায়ী অধ্যক্ষ নিরাপত্তা তহবিলের খাতের স্থিতি বৃদ্ধি করে মাস্টাররোলের অন্তর্ভুক্ত কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সেখানে কলেজের এত ফান্ড থাকা সত্ত্বেও একজন ইমামের বেতন কমানো কখনওই যুক্তিসঙ্গত নয়।

তিনি বলেন, কলেজের শিক্ষকরা বিভিন্ন সময় পিকনিক করে শিক্ষক পরিষদের মাধ্যমে। এসব খাতের টাকাগুলো তাদের খরচ করার কথা নয়, যেখানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাড়ছে সেখানে একজন ইমামের বেতন অডিটের দোহায় দিয়ে কমানো প্রহসন ছাড়া আর কিছুই নয়।

শফিকুক ইসলাম নামে কলেজের আরেকজন শিক্ষার্থী বলেন, একজন ইমামকে অসম্মানিত না করে তার ন্যায্য বেতন নিশ্চিত করা উচিত। তিনি মাসের ৩০ দিনই দায়িত্ব পালন করেন। কলেজের এত বড় তহবিল থাকার পরও তার বেতন কমিয়ে দেওয়াটা সমীচীন হয়নি।

ভোরের আকাশ/রই
 

শেয়ার করুন: