খুলনায় ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সশস্ত্র হামলা, ভাঙচুর ও লুট

খুলনায় ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলার ঘটনা ঘটছে। গত ১৪ দিনে নগরীর একাধিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর, গুলিবর্ষণ ও অস্ত্রের ভয় দেখানোর অভিযোগ উঠেছে।
সর্বশেষ শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে খানজাহান আলী রোডের পিটিআই মোড় এলাকায় নিউ অ্যাপোলো ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে চার থেকে পাঁচজনের একটি দল।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুর ২টার দিকে সুলতানা হামিদ আলী স্কুলের বিপরীতে অবস্থিত নিউ অ্যাপোলো ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চাইনিজ কুড়াল ও অস্ত্র নিয়ে প্রবেশ করে কয়েকজন যুবক। তারা প্রতিষ্ঠানের দরজা, কাচের গ্লাস, দুটি এসি ও একটি টেলিভিশন ভাঙচুর করে। যাওয়ার সময় প্রায় ৩০ হাজার টাকা মূল্যের একটি মোবাইল ফোনও নিয়ে যায় হামলাকারীরা।
খবর পেয়ে খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লোকমান হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলাকারীদের শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁরা সম্প্রতি একটি দ্রুত বিচার মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। গত ২৬ অক্টোবর জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর তাঁদের বিরুদ্ধে এই হামলার অভিযোগ উঠেছে।
ওসি আরও জানান, চাঁদা দাবির বিষয়ে এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ম্যানেজারকে ফোন করে নির্দিষ্ট একজনের বিষয়ে জানতে চাওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে গত ১৪ দিনে নগরীর বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে হামলার ঘটনায় বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা খাতের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর আগে গত ২৪ অক্টোবর রাতে বাবুখান রোডের সন্ধানী ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভাঙচুর ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। পরদিন সোনাডাঙ্গায় প্রতিষ্ঠানটির দ্বিতীয় শাখায় চিকিৎসকদের অস্ত্র ঠেকিয়ে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ ওঠে।
এর ধারাবাহিকতায় সামসুর রহমান রোডের আব্দুল্লাহ ডায়াগনস্টিক সেন্টারেও হামলার ঘটনা ঘটে। সর্বশেষ নিউ অ্যাপোলো ডায়াগনস্টিক সেন্টারে হামলার পর নগরীর স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
একের পর এক এসব ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন খুলনার নাগরিক সমাজের নেতারা।
ভোরের আকাশ/সু.পা