লোহাগাড়ায় ৮ ইউপিতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার নয়টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে আধুনগর ছাড়া বাকি আটটি ইউনিয়ন পরিষদ ভারপ্রাপ্ত প্যানেল চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরে এ ব্যবস্থা চলায় প্রশাসনিক জবাবদিহি, নাগরিক সেবা, আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও নথিপত্র সংরক্ষণ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে নানা অভিযোগ উঠেছে। ভারপ্রাপ্ত ইউনিয়নগুলো হলো—আমিরাবাদ, চুনতি, বড়হাতিয়া, কলাউজান, লোহাগাড়া সদর, পুটিবিলা, চরম্বা ও পদুয়া। স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন অনুযায়ী, চেয়ারম্যান অনুপস্থিত বা দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে প্যানেল চেয়ারম্যান দায়িত্ব পালন করতে পারেন। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের এই অন্তর্র্বতী ব্যবস্থার সুযোগে কোনো কোনো ইউনিয়নে প্রশাসনিক দুর্বলতা ও স্থানীয় প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হয়েছে। চরম্বা ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ারিশ সনদসংক্রান্ত নথিতে এ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। পরিষদের সংরক্ষিত রেকর্ডে একই ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে একটি ওয়ারিশ সনদের অনুলিপি পাওয়া গেলেও আদালতে দাখিল করা একটি প্রত্যয়নপত্রে একই ব্যক্তির নামে পাঁচটি ওয়ারিশ সনদ দেওয়ার তথ্য উল্লেখ রয়েছে। বাকি চারটি সনদের কোনো রেকর্ড পরিষদে পাওয়া যায়নি। কীভাবে এ অসঙ্গতি তৈরি হলো এবং আদালতে এসব তথ্য কীভাবে দাখিল করা হয়েছে—তা স্পষ্ট নয়।
সংশ্লিষ্ট মামলার নথি অনুযায়ী, ইউনিয়ন পরিষদের তথ্য ও আদালতে দাখিল করা প্রত্যয়নপত্রের অসঙ্গতির কারণে তদন্তকারী সংস্থার প্রতিবেদনে বিভ্রান্তিকর তথ্য উঠে আসে। পরবর্তীতে আদালত একজন অবসরপ্রাপ্ত বয়োবৃদ্ধ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি করেন বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে। এ ছাড়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে উন্নয়ন প্রকল্প, আর্থিক কার্যক্রম ও গ্রাম আদালতকে কেন্দ্র করে অনৈতিক আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে প্রকল্পের বরাদ্দপত্র, বিল-ভাউচার, সভার কার্যবিবরণী, গ্রাম আদালতের রেকর্ডসহ সংশ্লিষ্ট নথি পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ওয়ারিশ সনদ, নাগরিক সনদ, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন ও বিভিন্ন প্রত্যয়নপত্র নিতে গিয়ে কোথাও কোথাও তাঁদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। তাঁদের দাবি, নির্বাচন বিলম্বিত হলে ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাও দীর্ঘায়িত হতে পারে। তাই ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমে প্রশাসনিক নজরদারি, আর্থিক নিরীক্ষা, নথি সংরক্ষণ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। চরম্বা ইউনিয়নের ওয়ারিশ সনদসংক্রান্ত অভিযোগসহ অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সরকার বিভাগের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করা জরুরি। স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হতে পারে।
ভোরের আকাশ/ এনউব