সুন্দরগঞ্জে মাদকবিরোধী মিছিল, স্বাভাবিক জীবনে ফেরার শপথ

মাদকের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার অঙ্গীকার করেছেন সুজন মিয়া (৩০)। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হাসানগঞ্জে মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনের কর্মীদের সঙ্গে মিছিলে অংশ নিয়ে নতুনভাবে জীবন গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।
তাঁর এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন আন্দোলনের কর্মীরা। তাঁদের মতে, মাদক থেকে ফিরে আসতে আগ্রহীদের অবহেলা না করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার পথে সহযোগিতা করা প্রয়োজন।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে হাসানগঞ্জে মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনের কর্মীদের সঙ্গে মিছিলে অংশ নেন সুজন। এ সময় তিনি মাদক ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার অঙ্গীকার করেন এবং এ পথে সবার সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেন।
সুজন মিয়া রংপুরের পীরগাছা উপজেলার ৯ নম্বর কান্দি ইউনিয়নের পশ্চিম পাঠকশিকড় (কলেরপাড়) গ্রামের মো. সাইদুর রহমানের ছেলে।
মিছিলে সুজন বলেন, “আমি মাদক ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে চাই। জীবনে আর মাদকের পথে যেতে চাই না। সুন্দরভাবে জীবন গড়তে চাই। এ জন্য সবার সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করছি।”
মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনের সদস্যরা সুজনের এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাঁদের আশা, মাদক থেকে দূরে থেকে নতুনভাবে জীবন শুরু করার এই অঙ্গীকার অন্যদেরও উৎসাহিত করবে। একই সঙ্গে মাদক থেকে ফিরে আসতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব পরিহার করে তাঁদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন হাসানগঞ্জ মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনের সভাপতি আব্দুর রহমান (শিপন), সাধারণ সম্পাদক মো. শরিফুল ইসলাম (শরিফ), সাংবাদিক জমির উদ্দিন, ইউপি সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তা, মো. শামীম মিয়া, আন্দোলনের অন্যতম সদস্য হারুন মিয়াসহ সংগঠনের সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
সংগঠনটির সভাপতি আব্দুর রহমান (শিপন) বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। আমরা চাই, তরুণ ও যুবসমাজ মাদক থেকে দূরে থাকুক। কেউ মাদকের পথ থেকে ফিরে আসতে চাইলে তাঁকে অবহেলা না করে সহযোগিতা করতে হবে। সুজনের এই অঙ্গীকারকে আমরা ইতিবাচকভাবে দেখছি। তিনি যেন তাঁর সিদ্ধান্তে অটল থাকতে পারেন, সে জন্য আমরা তাঁর পাশে থাকতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, “মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে শুধু মিছিল বা স্লোগান যথেষ্ট নয়। এ জন্য পরিবার, সমাজ ও তরুণদের সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি যারা মাদক থেকে ফিরে আসতে চান, তাঁদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ তৈরি করতে হবে।”
আন্দোলনের সদস্যরা জানান, মাদকের বিস্তার রোধে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো, তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা এবং মাদকবিরোধী প্রচার-প্রচারণা জোরদার করা জরুরি। পাশাপাশি মাদক থেকে ফিরে আসতে আগ্রহীদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, মাদক থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পাশাপাশি তা ধরে রাখতে পরিবার ও সমাজের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা, পরামর্শ ও পুনর্বাসনসেবার সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার প্রচেষ্টা আরও কার্যকর হতে পারে।
সুজনের এই অঙ্গীকার কতটা স্থায়ী হবে, তা নির্ভর করবে তাঁর ধারাবাহিক প্রচেষ্টা ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার ওপর। তবে তাঁর উদ্যোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বার্তা দিয়েছে—মাদক থেকে ফিরে আসতে আগ্রহী কাউকে অবহেলা নয়, বরং নতুনভাবে জীবন গড়ার পথে তাঁর পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজন।
ভোরের আকাশ/সু.পা