রামগঞ্জে ছাত্র হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবীতে সড়ক অবরোধ

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমির আবাসিক হল থেকে মঙ্গলবার রাতে ৮ম শ্রেনীর ছাত্রের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে শিক্ষক-ছাত্ররা চাটখিল সরকারী হাসপাতালে নিয়ে যায়।
প্রতিবাদে উত্তেজিত জনতা প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক ভাংচুর করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বুধবার দুপুরে নিহতের লাশ রামগঞ্জ থানার সামনে রেখে হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবীতে উত্তেজিত জনতা সড়ক অবরোধ ও মানবনবন্ধন করে।
নিহত মেহেদী রামগঞ্জ উপজেলার ইছাপুর ইউনিয়নের রাঘবপুর গ্রামের জিয়া উদ্দিন জিয়ার ছেলে।
সুত্রে জানায়, উপজেলার উদয়পুর গ্রামে অবস্থিত ফরিদ আহম্মেদ ভুইয়া একাডেমির আবাসিক আব্দুর রহমান ভবনের ৬১৪ নং হলের ছাত্র মেহেদী হাসানকে মোবাইল চোর অপবাদ দিয়ে কয়েকজন ছাত্র ১৪ জুন রোববার রাতে বেধম মারধর করে। সৃষ্ট ঘটনা মেহেদী হাসান ১৫জুন সোমবার কয়েকজন ছাত্রের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের প্রধানের নিকট লিখিত অভিযোগ করে।
প্রতিষ্ঠানের প্রধানসহ অন্যান্য শিক্ষকেরা মেহেদীর দায়ের করা অভিযোগে কোন বিচার না করে উল্টো তাকে হেয়প্রতিপন্ন মুলক বাজে মন্তব্য করে। ১৬ জুন রাতে মেহেদীর লাশ আবাসিক ভবনের ৬১৪ নং রুমে ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে রামগঞ্জ সরকারী হাসপাতালে না নিয়ে রহস্যজনক ভাবে চাটখিল সরকারী হাসপাতালে নিয়ে যায়।
হাসপাতালের দায়িত্বরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষনা করলে প্রষ্ঠিানের সংশ্লিষ্টরা ঘটনা ধামাচাপা দিতে মরিয়া হয়ে উঠে। নিহত ছাত্রের সহপাঠির মাধ্যমে বিষয়টি জানাজানি হলে রামগঞ্জ-চাটখিল উপজেলার হাজার-হাজার জনতা উপস্থিত হয়ে প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর করে।
খবর পেয়ে রামগঞ্জ এবং চাটখিল থানা পুলিশ,উপজেলা প্রশাসনের নেতৃবৃন্দ,রাজনীতিক দলের নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। হামলা চলাকালে লক্ষীপুর জেলার তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী সাংবাদিকদের বলেন, ছাত্রের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ময়না তদন্তের পর চূড়ান্ত প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে।
রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী আতিকুর রহমান ও লক্ষীপুর-১ আসনের এমপি সাহাদাত হোসেন সেলিমের স্থানীয় প্রতিনিধি মোঃ মনোয়ার হোসেন মাইক হাতে উত্তেজিত এলাকাবাসীকে শান্ত করার চেষ্টা । তারা মাইকে বলেন, পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে। তারা তদন্ত করে ঘটনার মূল কারণ উদঘাটন করবেন। সবাইকে শান্ত থাকার আহবান জানান তিনি।
বুধবার দুপুরে রামগঞ্জ সড়ক অবরোধ শেষে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে নিহতের স্বজনেরা দাবী করে, প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানসহ ব্যবস্থপনা পরিচালক ও শিক্ষকেরা নিহত ছাত্র মেহেদী হত্যা মামলা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে চাটখিল থানা ইউডি মামলা,নোয়াখালী হাসপাতালে ময়না তদন্ত করায় তড়িগড়ি করে।
ঘটনাস্থল রামগঞ্জ উপজেলাতে এবং ছাত্রের বাড়িও রামগঞ্জ উপজেলাতে হলেও কোন অদৃশ্য শক্তির ইন্দনে রামগঞ্জে মামলা করতে দেওয়া হচ্ছে না।
এদিকে প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক বুধবার (১৭জুন) দুপুরে হঠাৎ করে প্রতিষ্ঠানের ফেইজবুক আইডিতে নিহত ছাত্র মেহেদী হাসানকে মারধর এবং মারধরের পরে মেহেদী বাদি হয়ে প্রতিষ্ঠানের প্রধানের নিকট লিখিত অভিযোগ নিয়ে একটি অফিসিয়াল বিবৃতি পোস্ট করে।
ভোরের আকাশ/ র.ই