বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারের কর্মকর্তা কর্মস্থলে নেই ১১ বছর

টানা এগারো বছর কর্মস্থলে অনুপস্থিত একজন বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারের কর্মকর্তা ডা. সাভরিনা তানিয়া। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের একের পর এক চিঠির পরও মেলেনি কোনো জবাব।
একাধিকবার মন্ত্রণালয় পর্যায়ে তদন্ত হলেও চূড়ান্ত প্রতিবেদন কিংবা কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দেখা মেলেনি। এভাবেই খুলনার দিঘলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘ এক দশক ধরে ঝুলে আছে ৩৩তম বিসিএসের চিকিৎসক ডা. সাভরিনা তানিয়ার চাকরির বিষয়টি, যা চরম ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ডা. সাভরিনা তানিয়া ২০১৪ সালের ২৬ আগস্ট দিঘলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার হিসেবে যোগ দেন। কিন্তু ২০১৫ সালের অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহের পর থেকেই তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত। দীর্ঘদিন কর্মস্থলে না থাকায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে একাধিকবার চিঠি পাঠালেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। নিয়মিত সরকারি প্রতিবেদনেও তাঁর অনুপস্থিতির তথ্য নথিভুক্ত রয়েছে এবং তাঁর বেতন-ভাতাও বন্ধ রয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে ওই চিকিৎসক অনুপস্থিত থাকলেও পদটি প্রশাসনিকভাবে ‘ব্লক’ হয়ে আছে। ফলে উক্ত পদে নতুন কোনো চিকিৎসক নিয়োগ বা পদায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে তীব্র চিকিৎসক সংকটে থাকা দিঘলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
খুলনার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মো. শওকত আলী এ বিষয়ে জানান, দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিতির বিষয়টি যাচাই করে নিয়ম অনুযায়ী দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
দিঘলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মাহবুবুল আলম বলেন, “ডা. সাভরিনা তানিয়া ২০১৫ সাল থেকে অনুপস্থিত রয়েছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পদটি খালি হলে সেখানে নতুন চিকিৎসক পদায়ন করা সম্ভব হবে, যা উপজেলার চিকিৎসাসেবায় গতি আনবে।”
তবে স্থানীয় সচেতন মহল প্রশ্ন তুলেছেন—একজন সরকারি চাকরিজীবী এক দশক ধরে অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও কেন চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি এবং স্বাস্থ্য খাতের এমন প্রশাসনিক গাফিলতির দায় নেবে কে?
ভোরের আকাশ/ এনউব