শরীরে ভিটামিন সি-এর ঘাটতি: লক্ষণ ও করণীয়

ভিটামিন সি আমাদের শরীরের জন্য অপরিহার্য। এটি শুধু রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় না, ত্বককে সুন্দর রাখে, হাড় ও দাঁতের যত্ন নেয় এবং ক্ষত সারাতে সাহায্য করে। তবে দেহে ভিটামিন সি-এর ঘাটতি থাকলে ধীরে ধীরে কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে, যা অনেক সময় আমরা উপেক্ষা করি।
শরীরে ভিটামিন সি কমার লক্ষণ
১. ঘন ঘন সর্দি-কাশি: সাধারণ ঠান্ডা বা কাশি বারবার হলে এবং সারতেও সময় লাগলে এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া এবং ভিটামিন সি-এর অভাবের ইঙ্গিত হতে পারে।
২. ত্বকের উজ্জ্বলতা হারানো: ত্বক শুষ্ক বা আগের মতো উজ্জ্বল না থাকলে ঘাটতির লক্ষণ।
৩. মাড়ির সমস্যা: হঠাৎ মাড়ি ফুলে যাওয়া, ব্যথা বা রক্ত পড়া—এসবও ভিটামিন সি-এর অভাব নির্দেশ করে।
৪. সহজে রক্ত জমে যাওয়া (Bruising): সামান্য ধাক্কাতেই নীলচে বা কালচে দাগ দেখা দিলে সতর্ক হওয়া উচিত।
৫. হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া: ডায়েট বা ব্যায়াম ছাড়াই ওজন কমলে ভিটামিন সি-এর মাত্রা পরীক্ষা করা ভালো।
৬. নখের উজ্জ্বলতা কমে যাওয়া: হাত-পায়ের নখ হলদেটে বা আগের মতো না হলে এটি ঘাটতির লক্ষণ।
ঘাটতি পূরণে করণীয়
ভিটামিন সি-এর ঘাটতি পূরণ করতে বিশেষ দামি খাবারের প্রয়োজন নেই। টাটকা ফল ও সবজিতে প্রাকৃতিকভাবে এটি মজুত থাকে। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাখতে পারেন:
- পেয়ারা
- আমলকী
- কমলালেবু বা মাল্টা
- পেঁপে
- কাঁচামরিচ
- লেবু
- ধনেপাতা
- ব্রকলি
- ক্যাপসিকাম
- স্ট্রবেরি (যদি সহজলভ্য হয়)
চেষ্টা করুন দিনে অন্তত একটি টাটকা ফল বা সবজি খেতে। রান্নার সময় খুব বেশি তাপ না দিলে ভিটামিন সি সংরক্ষিত থাকে।
ভিটামিন সি-এর ঘাটতি দীর্ঘমেয়াদে শরীরের ক্ষতি করতে পারে। তাই শরীরে ক্লান্তি, ত্বক-নখের পরিবর্তন বা ঘন ঘন সর্দি-কাশি দেখা দিলে নিয়মিত টাটকা ফল ও সবজি খাওয়ার মাধ্যমে ভিটামিন সি-এর মাত্রা বাড়াতে হবে। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ভোরের আকাশ//হ.র