স্বাস্থ্য খাতে জবাবদিহিতা ফেরাতে কাজ শুরু করেছে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

বিগত ১৭ বছরে স্বাস্থ্য খাতে কোনো জবাবদিহিতা ছিল না বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার মাত্র ছয় মাসে এ খাতে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা ফেরানোর কাজ শুরু করেছে। রোববার (২৩ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় ২৫০ শয্যা নওগাঁ জেনারেল হাসপাতাল আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ২৫০ শয্যার হাসপাতাল হলেও বর্তমানে ১০০ শয্যার হিসাব অনুযায়ী খাবারের বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে। এ সংকট দূর করতে এবং খাবারের মান উন্নত করতে প্রতি শয্যার বিপরীতে খাবারের বরাদ্দ ১৭৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫০ টাকা করা হচ্ছে। হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় এক চিকিৎসক ৪৫ মিনিট দেরিতে কর্মস্থলে আসায় এবং এক নার্স বিনামূল্যে স্যালাইন থাকা সত্ত্বেও রোগীকে বাইরে থেকে কিনতে বলায় তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন মন্ত্রী।
তিনি বলেন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়াতে সরকার বড় ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে। তৃণমূল পর্যায়ে ডায়ালাইসিস সুবিধা পৌঁছে দেওয়া, শয্যা সংখ্যা বাড়ানো এবং চিকিৎসকসহ জনবল সংকট দূর করতে আড়াই হাজার নার্স, আড়াই হাজার ফার্মাসিস্টসহ প্রায় ৯ হাজার ৫০০ নতুন জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ডায়ালাইসিস সেবার মান উন্নত করার পাশাপাশি ঢাকার ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দেশের প্রতিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০টি এবং জেলা সদর হাসপাতালগুলোতে ১০টি করে ডায়ালাইসিস বেড স্থাপন করা হবে। ইতোমধ্যে মেশিন কেনার টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে জেলা পর্যায়ে ডায়ালাইসিস সেবা চালুর লক্ষ্য রয়েছে।
জেলা পর্যায়ের ৬০টি ডায়ালাইসিস মেশিন দৈনিক তিন শিফটে প্রায় ১৮০ জন রোগীকে সেবা দিতে পারবে। এ ছাড়া আগামী দুই বছরের মধ্যে উপজেলা পর্যায়েও ১০টি করে ডায়ালাইসিস বেড চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
হাসপাতালের অবকাঠামো উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোর শয্যা সংখ্যা ৫০ থেকে বাড়িয়ে ১৫১ করার সংশোধিত ডিপিপি অনুমোদন ও টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। প্রতিটি ১৫১ শয্যার উপজেলা হাসপাতালে প্রসূতিদের চিকিৎসার জন্য ২৫টি এবং শিশুদের জন্য ২০টি বিশেষ শয্যা থাকবে।
এ ছাড়া নারী ও পুরুষের জন্য পৃথক ফিজিওথেরাপি ওয়ার্ড, সমলিঙ্গের ফিজিওথেরাপিস্ট ও চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধান, আধুনিক আল্ট্রাসাউন্ড ও উন্নত প্যাথলজি ল্যাবসহ নয়তলা বিশিষ্ট নতুন ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
স্বাস্থ্য খাতের দীর্ঘদিনের অন্যতম বড় সমস্যা জনবল সংকট দূর করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, জনসেবা নিশ্চিত করতে শিগগিরই ৫ হাজার নতুন চিকিৎসক নিয়োগের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে। পাশাপাশি সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে আরও চিকিৎসক নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা চলছে। আগামী এক বছরের মধ্যে নার্স ও ফার্মাসিস্টসহ দেশের স্বাস্থ্য খাতে বড় ও দক্ষ জনবল যুক্ত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অনুমোদনহীন কার্যক্রম এবং অনিয়ম বন্ধে কঠোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার তাগিদও দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, নিবন্ধনের শর্ত না মানলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনদের সমন্বয়ে দেশব্যাপী মোবাইল কোর্ট অভিযানও জোরদার করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য খাতকে আরও সুসংগঠিত ও আধুনিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় নওগাঁ-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি জাহিদুল ইসলাম ধলু, জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম, ২৫০ শয্যা নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আ. ম. আখতারুজ্জামান, সিভিল সার্জন ডা. মো. আমিনুল ইসলাম এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়ব্রত পালসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ভোরের আকাশ/সু.পা