কলেরা প্রতিরোধে ৫১ লাখ টিকা দিচ্ছে সরকার, দ্বিতীয় ডোজ ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে

কলেরা সংক্রমণ প্রতিরোধে মুখে খাওয়ার কলেরার টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে সরকার। সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, কিশোরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ১৪টি উপজেলা ও থানায় শনিবার (২২ আগস্ট) থেকে এ টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শনিবার (২২ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এতে গ্যাভি দ্য ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্স, ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), আইএফআরসি, আইসিডিডিআর,বি এবং অন্যান্য উন্নয়ন অংশীদার সহায়তা করছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, অন্তঃসত্ত্বা নারীরা এই টিকা নিতে পারবেন না। তবে এক বছর ও তার বেশি বয়সী অন্য সবাই টিকা নিতে পারবেন। এ কর্মসূচির আওতায় ৫১ লাখের বেশি মানুষকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
কর্মসূচির আওতায় মুন্সীগঞ্জ সদর, নারায়ণগঞ্জ সদর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ও নবীনগর এবং কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ, হোসেনপুর ও তাড়াইল উপজেলায় টিকা দেওয়া হবে।
এ ছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের লালবাগ, গেন্ডারিয়া, কদমতলী ও কামরাঙ্গীরচর থানা এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের তেজগাঁও, খিলক্ষেত ও শেরেবাংলা নগর থানা এলাকায় এ টিকাদান কার্যক্রম চলবে।
রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা জানিয়েছে, ওরাল কলেরা ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ দেওয়া হচ্ছে ২২ আগস্ট থেকে। দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হবে ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে। টিকা নেওয়ার উপযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তিকে অবশ্যই দুই ডোজ গ্রহণ করতে হবে। কলেরা থেকে সুরক্ষা পেতে দুই ডোজ টিকা নেওয়া জরুরি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, দেশে কলেরা প্রতিরোধ এবং উচ্চ ও অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত এলাকাগুলোতে কলেরাজনিত অসুস্থতা ও মৃত্যু কমানোর বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবে এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
কর্মসূচির সফলতা জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর্মী, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, স্বেচ্ছাসেবক, কমিউনিটি নেতা ও উন্নয়ন অংশীদারদের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর নির্ভর করবে। তাই নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী সবাইকে দুই ডোজ টিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
মুখে খাওয়ার কলেরার টিকা নিতে উপযুক্ত নাগরিকদের ভ্যাক্সইপিআই ওয়েবসাইটে গিয়ে নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধনের জন্য দেওয়া কিউআর কোড স্ক্যান করেও প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করা যাবে। এই নিবন্ধনের মাধ্যমে নাগরিকরা ন্যাশনাল হেলথ আইডি কার্ড তৈরি করতে পারবেন, যা ভবিষ্যতে ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে সহায়ক হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, টিকাদানের পাশাপাশি নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কলেরা প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের টেকসই ভিত্তি। তাই পরিবারের সব সদস্যকে কলেরা থেকে সুরক্ষিত রাখতে এসব বিষয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ভোরের আকাশ/সু.পা