শিরোনাম
আগামী গ্রীষ্মে কিছুটা হলেও লোডশেডিং কম দিতে পারবো: জ্বালানিমন্ত্রীসোমবার থেকে ই-রিকশার নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীহাইকোর্টে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের জামিন৩৬ ভিলা কেনায় দুর্নীতির অভিযোগ, তদন্তে আইএএস-আইপিএস দম্পতিডিএমপির নিয়মিত অভিযানে গ্রেপ্তার ৫০৫রাশিয়া-ইউক্রেনকে সতর্ক করলেন এরদোগানডিএমপির নিউজ পোর্টাল ‘হ্যাক’, ভাসছে রাজনৈতিক বার্তা, সহিংসতার চিত্রগাজীপুরে তৃতীয় দিনের মতো শ্রমিক বিক্ষোভ, ৫ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েনআগামী গ্রীষ্মে কিছুটা হলেও লোডশেডিং কম দিতে পারবো: জ্বালানিমন্ত্রীসোমবার থেকে ই-রিকশার নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীহাইকোর্টে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের জামিন৩৬ ভিলা কেনায় দুর্নীতির অভিযোগ, তদন্তে আইএএস-আইপিএস দম্পতিডিএমপির নিয়মিত অভিযানে গ্রেপ্তার ৫০৫রাশিয়া-ইউক্রেনকে সতর্ক করলেন এরদোগানডিএমপির নিউজ পোর্টাল ‘হ্যাক’, ভাসছে রাজনৈতিক বার্তা, সহিংসতার চিত্রগাজীপুরে তৃতীয় দিনের মতো শ্রমিক বিক্ষোভ, ৫ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

বেঙ্গল সায়েন্টিফিক অ্যান্ড সার্জিক্যাল কোম্পানি

১০ বছর ধরে চলছে এমআরআই মেশিন

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশ : ১ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০১ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
ফাইল ছবি
ফাইল ছবি

জটিল রোগ নির্ণয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আধুনিক পদ্ধতির নাম ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স ইমেজিং অর্থাৎ এমআরআই। জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীরা রাজধানীসহ দেশের ১৭টি সরকারি হাসপাতালে কম খরচে সিটি স্ক্যান মেশিনে সেবা পাচ্ছেন। অপরদিকে এমআরআই ছাড়াও সিটি স্ক্যান জটিল রোগ নির্ণয়ে কাজ করে। দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এলাকায় তিনটি সরকারি হাসপাতালের সবগুলো এমআরআই মেশিন নষ্ট অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এতে করে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ রোগীরা। দক্ষিণাঞ্চলের সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে জাহের উদ্দিনের বেঙ্গল সায়েন্টিফিক অ্যান্ড সার্জিক্যাল কোম্পানির সরবরাহ করা সিটি স্ক্যান মেশিন ২০১৩ সাল থেকে বিরতিহীনভাবে রোগীদের সেবা দিচ্ছে।

চট্রগ্রাম প্রতিনিধি জানান, ১০ বছর আগে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে বেঙ্গল সায়েন্টিফিক অ্যান্ড সার্জিক্যাল কোম্পানি এমআরআই মেশিন সরবরাহ করেছে। হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ একরাম হোসেন বলেন, মেশিনটি ২০১৫ সালে স্থাপন করা হয়েছিল। বর্তমানে সীমিত পরিসরে এমআরআই সেবা দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে হাসপাতালে ভর্তি রোগী এবং জরুরি প্রয়োজনের রোগীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল পাওয়া গেলে ধাপে ধাপে সেবার পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের এমআরআই টেকনিশিয়ান মো. আনছার বলেন, বর্তমানে মেশিনটি সচল রয়েছে। মেশিন সরবরাহকারী বেঙ্গল সায়েন্টিফিক অ্যান্ড সার্জিক্যাল কোম্পানির সাথে সম্প্রতি আরও তিন বছরের রক্ষণাবেক্ষণ চুক্তি হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী এ সময়ে মেশিনে কোনো কারিগরি সমস্যা দেখা দিলে তারা সমাধানে কাজ করবে। ফলে ভবিষ্যতে মেশিনটির রক্ষণাবেক্ষণ ও কারিগরি সহায়তার একটি আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা রয়েছে বলে জানান তিনি। এসব মেশিন কোনো ধরনের ত্রুটি ছাড়াই সচল রয়েছে। চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে একই পরীক্ষায় নির্ধারিত খরচ তিন হাজার টাকা। অর্থাৎ রোগীর প্রতিটি পরীক্ষায় প্রায় ১১ থেকে ১২ হাজার টাকা সাশ্রয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারের জন্য এই সাশ্রয় চিকিৎসার ব্যয় বহনে বড় স্বস্তি দিতে পারে।

সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বেঙ্গল সায়েন্টিফিক অ্যান্ড সার্জিক্যাল কোম্পানির কারিগরি সহায়তা এবং চীন থেকে বিশেষজ্ঞ দল এনে যান্ত্রিক ও সফটওয়্যার-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের পর পরীক্ষার সুযোগ ফিরে এসেছে। মেশিনটির রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কোম্পানির সাথে তিন বছরের চুক্তিও হয়েছে। তবে মেশিন সচল হলেও প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবলের অভাবে এখনো সবার জন্য পূর্ণাঙ্গ সেবা চালু করা সম্ভব হয়নি। আপাতত ভর্তি ও জরুরি রোগীদের অগ্রাধিকার দিয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে।

এমআরআই চিকিৎসাবিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ আধুনিক রোগনির্ণয় পদ্ধতি। শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ, স্নায়ু ও নরম টিস্যুর বিস্তারিত ছবি পেতে এ পরীক্ষা করা হয়। মস্তিষ্ক, মেরুদণ্ড, সারভাইকাল স্পাইন, শোল্ডার জয়েন্ট, পেশি, লিগামেন্ট ও বিভিন্ন অঙ্গের জটিল সমস্যা শনাক্ত ও মূল্যায়নে এমআরআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে মস্তিষ্কের টিউমার, স্ট্রোকজনিত পরিবর্তন, মেরুদণ্ডের সমস্যা, স্নায়ুর ওপর চাপ এবং জয়েন্টের বিভিন্ন আঘাত নির্ণয়ে চিকিৎসকরা এ পরীক্ষার সহায়তা নেন। রোগের অবস্থান, ধরন ও বিস্তার সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা পাওয়ায় পরবর্তী চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরিতেও এটি সহায়ক।

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বেঙ্গল সায়েন্টিফিক অ্যান্ড সার্জিক্যাল কোম্পানির সরবরাহ করা এমআরআই মেশিন ২০১৫ সালে হাসপাতালে স্থাপন করা হয়। স্থাপনের পর থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার সেবা দেওয়া হয়। এরপর যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে মেশিনটি অচল হয়ে পড়ে। বিভিন্ন সময়ে মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হলেও ত্রুটি পুরোপুরি নিরসন করা সম্ভব হয়নি। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে হাসপাতালের রোগীরা সেবা থেকে বঞ্চিত ছিলেন।

এমআরআই মেশিনটির সমস্যা দেখা দিলে সরকারি কারিগরি প্রতিষ্ঠান ঢাকার ন্যাশনাল ইলেকট্রো-মেডিকেল ইকুইপমেন্ট মেইনটেন্যান্স ওয়ার্কশপ অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার (নিমিউ) এবং সরবরাহকারী বেঙ্গল সায়েন্টিফিক অ্যান্ড সার্জিক্যাল কোম্পানির সমন্বয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে চীন থেকে বিশেষজ্ঞ কারিগরি দল এসে মেশিনের ত্রুটি নিরসনে কাজ করে। যান্ত্রিক ত্রুটি সমাধানের পর মেশিনটি সচল হলেও পরবর্তী সময়ে সফটওয়্যার-সংক্রান্ত কিছু জটিলতা দেখা দেয়। ওই সমস্যা সমাধানে চীন থেকে বিশেষজ্ঞরা আরও দুই দফা এসে কাজ করেন। নিমিউয়ের সমন্বয় এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কারিগরি সহায়তায় এমআরআই মেশিনটি পরীক্ষার উপযোগী করে তোলা হয়।

পরীক্ষায় প্রায় ১২ হাজার টাকা সাশ্রয়
চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে এমআরআই সেবা চালু হওয়ায় সবচেয়ে বড় সুফল হচ্ছে রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় কমে যাওয়া। বর্তমানে সরকারি হাসপাতালে একটি পরীক্ষার নির্ধারিত খরচ তিন হাজার টাকা। অন্যদিকে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে একই ধরনের পরীক্ষার জন্য প্রায় ১৪ থেকে ১৫ হাজার টাকা ব্যয় করতে হয়। এই হিসাবে সরকারি হাসপাতালে পরীক্ষা করালে প্রতিবার প্রায় ১১ থেকে ১২ হাজার টাকা কম খরচ হতে পারে।

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, প্রায় ১৫ থেকে ১৮ কোটি টাকায় কেনা এমআরআই মেশিনটি অকেজো অবস্থায় পড়ে থাকায় মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। রোগীরা জানিয়েছেন, তারা কাক্সিক্ষত সেবা না পেয়ে রাজধানীর বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। জানা গেছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে রেডিয়েশনমুক্ত নিরাপদভাবে সুস্থ রোগনির্ণয়ের লক্ষ্যে এমআরআই মেশিন কিনে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। প্রায় ১৫ থেকে ১৮ কোটি টাকা ব্যয়সাপেক্ষে ফিলিপস ব্র্যান্ডের মেশিনটি সরবরাহ করে এএসএল নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের রেডিওলজি বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন স্টাফ জানান, এমআরআই মেশিন শুরু থেকেই অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে। প্রতিদিন মহিলাদের স্তন ও তলপেটে সমস্যা, স্টোকজনিত সমস্যা, নাক, কান ও গলার সমস্যা, হাড় ভাঙা, খেলায় আহত রোগী ও প্রোস্টেট সমস্যায় আক্রান্ত রোগীসহ বহু রোগী সেবা নিতে আসেন। কিন্তু মেশিন সচল না থাকায় তাদের ফিরে যেতে হচ্ছে।

হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাকির হোসেন জানান, এমআরআই মেশিনটি শুরু থেকে অকেজো হয়ে পড়ে থাকলেও বেঙ্গল সায়েন্টিফিক অ্যান্ড সার্জিক্যাল কোম্পানির মালিক জাহের উদ্দিন কর্তৃক সরবরাহ করা সিটি স্ক্যানসহ অন্য মেশিনগুলো শুরু থেকে এখন পর্যন্ত চালু রয়েছে। রোগীদের চিকিৎসাসেবার স্বার্থে জরুরিভিত্তিতে মেরামতের জন্য মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের চিফ টেকনিক্যাল ম্যানেজার, ন্যাশনাল ইলেক্ট্রো মেডিকেল ইকুইপমেন্ট মেইনটেনেন্স ওয়ার্কশপ অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টারকে অবহিত করা হয়েছে। এমআরআই মেশিন অচল অবস্থা প্রসঙ্গে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. মো. মিনহাজ উদ্দিন মিয়া বলেন, মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদফতরকে অবহিত করা হয়েছে।

এদিকে, রাজধানীতে তিনটি সরকারি হাসপাতালের প্রতিটি এমআরআই মেশিন অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে। শত কোটি টাকার এমআরআই মেশিন অকেজো থাকায় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে রোগীদের। শেরেবাংলা নগরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্র (নিটোর/পঙ্গু) এবং জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল। রাজধানীতে পাশাপাশি অবস্থিত এই তিনটি হাসপাতালের এমন চিত্রের বিপরীতে ১৭টি সরকারি হাসপাতালে জাহের উদ্দিনের প্রতিষ্ঠান বেঙ্গল সায়েন্টিফিকের সরবরাহ করা সিটি স্ক্যান মেশিনগুলো স্থাপনের দিন থেকে সঠিকভাবে কাজ করছে। এসব মেশিন একদিনের জন্যও খারাপ হয়নি।

এর মধ্যে রাজধানীর স্বনামধন্য সাতটি হাসপাতাল হলো- ২০১৭ সালের জুন মাসে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ২০১৮ সালের জুন মাসে জাতীয় গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ক্যান্সার রিচার্স অ্যান্ড হাসপাতাল, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট টিভি হাসপাতালে সিটি স্ক্যান মেশিন সরবরাহ করা হয়েছে। এছাড়া রাজধানীর বাইরে ২০১৯ সালের জুন মাসে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, একই মাসে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং জামালপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল। ২০১৮ সালে জুন মাসে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, একই মাসে খুলনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, খুলনা শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতাল, পাবনা জেনারেল হাসপাতাল এবং ২০১৩ সালে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিটি স্ক্যান মেশিন সরবরাহ করা হয়েছে।  

বেঙ্গল সায়েন্টিফিক অ্যান্ড সার্জিক্যাল কোম্পানির মালিক জাহের উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, তাঁর কোম্পানি কয়েক যুগ ধরে সুনামের সাথে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ), ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ডেন্টাল মেডিকেল, মুগদা মেডিকেলসহ দেশের সকল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, বিশেষায়িত হাসপাতাল জাতীয় গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট, জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট, জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (পঙ্গু হাসপাতাল), জাতীয় নাক, কান ও গলা ইনস্টিটিউট (ইএনটি), ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (এনআইকেডিউ), সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল, কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতাল, কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল, শ্যামলী টিবি হাসপাতাল, দেশের অন্যান্য মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সকল বিশেষায়িত হাসপাতাল ও ৪৯ জেলার সদর হাসপাতাল এবং প্রায় চারশত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যন্ত্রপাতি সরবরাহ করে আসছে। সব সময় মেডিকেল যন্তপাতি সরবরাহের পর থেকে কোম্পানি নিয়মিতভাবে আফটার সেলফ সার্ভিস দিয়ে আসছে।

তিনি আরও বলেন, বেঙ্গল সায়েন্টিফিক অ্যান্ড সার্জিক্যাল কোম্পানির সরবরাহ করা মেডিকেল যন্ত্রপাতিগুলো বন্ধ বা অকেজো হয়ে পড়ে আছে কিংবা কোনো মেশিন রোগীদের চিকিৎসাসেবা সঠিকভাবে রোগনির্ণয় করতে পারছে না মর্মে এখন পর্যন্ত কোনো হাসপাতাল থেকে অভিযোগ আসেনি। মেডিকেল যন্ত্রপাতি ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান যেমন- যে কোনো হাসপাতাল, নিমিউ অ্যান্ড টিসি, সিএমএসডি, স্বাস্থ্য অধিদফতর, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা স্বাস্থ্যবিষয়ক সংসদীয় কমিটি থেকে কখনো আমার কোম্পানির সরবরাহ করা যন্ত্রপাতিগুলোর দ্বারা রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিয়ে কোনো অভিযোগ উত্থাপিত হয়নি। বেঙ্গল সায়েন্টিফিক অ্যান্ড সার্জিক্যাল কোম্পানি কর্তৃক যেসকল সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করা মেশিনগুলো নিরবচ্ছিন্নভাবে রোগীদের চিকিৎসা সেবায় ব্যবহৃত হচ্ছে।

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি জানান, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে রোগীদের সেবা দিয়ে আসছে বেঙ্গল সায়েন্টিফিক অ্যান্ড সাাির্জক্যাল কোম্পানি সরবরাহ করা সিটি স্ক্যান মেশিন। ২০১৩ সালে স্থাপন করা মেশিনের মাধ্যমে বর্তমানে প্রতি মাসে ৩০০ থেকে ৫০০ রোগী সিটি স্ক্যান পরীক্ষা করার সুযোগ পাচ্ছেন। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের তুলনায় কম খরচে জরুরি এই সেবা পাওয়ায় উপকৃত হচ্ছেন সাতক্ষীরাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার অসংখ্য মানুষ।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালে সিটি স্ক্যান মেশিনটি সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থাপন করা হয়। স্থাপনের পর থেকেই মেশিনটির মাধ্যমে রোগীদের সেবা দেওয়া হলেও ২০১৭ সাল থেকে এর কার্যক্রম ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হয়। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত মেশিনটি রোগীদের সেবা দিয়ে আসছে। বিশেষ করে করোনা মহামারির সময় সাতক্ষীরা জেলার প্রায় ২০ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। সে সময়ও জরুরি রোগনির্ণয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এই সিটি স্ক্যান মেশিন। হাসপাতালের চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সেবা নিতে আসা রোগীদের অনেকেই মেশিনটির কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

আরও পড়ুন

ফ্রান্সের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন আইজিপি

সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রেডিওলজি বিভাগের প্রধান আব্দুল হালিম বলেন, ২০১৩ সালে বেঙ্গল সায়েন্টিফিক অ্যান্ড সার্জিক্যাল কোম্পানির সিটি স্ক্যান মেশিনটি হাসপাতালে স্থাপন করা হয়। ২০১৭ সাল থেকে ব্যাপকভাবে এর কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর থেকে মেশিনটি নিয়মিতভাবে রোগীদের সেবা দিয়ে আসছে।

সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. কুদরত-ই-খোদা বলেন, বেঙ্গল সায়েন্টিফিক অ্যান্ড সাাির্জক্যাল কোম্পানির সরবরাহ করা সিটি স্ক্যান মেশিনের সার্ভিস নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সন্তুষ্ট। কোম্পানির সঙ্গে হাসপাতালের চুক্তি রয়েছে। মেশিনে কোনো সমস্যা দেখা দিলে অভিযোগ জানানোর পর তারা দ্রুত সার্ভিসিংয়ের ব্যবস্থা করে। এতে রোগীদের সেবা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা সম্ভব হচ্ছে। সিটি স্ক্যান সেবা নিতে আসা রোগীরাও এ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করছেন।

ভোরের আকাশ/এসএইচ

শেয়ার করুন: