স্বাস্থ্য সেবা

সারিয়াকান্দি হাসপাতাল ১০১ শয্যায় উন্নিত

৮ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যোগদানে স্বস্তি ফিরেছে চিকিৎসাসেবায়

ছবি: সংগৃহীত

বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিনের চিকিৎসক সংকট কাটিয়ে নতুন গতি পেয়েছে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম। অতিরিক্ত ৮ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যোগ দেওয়ায় বহির্বিভাগ ও অন্তর্বিভাগে চিকিৎসাসেবা আরও কার্যকর হয়েছে। পাশাপাশি ৫০ শয্যার হাসপাতালটি ১০১ শয্যায় উন্নীত হওয়ায় নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে বাড়বে চিকিৎসাসেবার সক্ষমতা।

নতুন চিকিৎসকদের যোগদানে স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। তারা মনে করছেন, এই উদ্যোগ সারিয়াকান্দি উপজেলার স্বাস্থ্যসেবায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে এবং সাধারণ মানুষের চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ আরও সহজ করবে।

১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠিত সারিয়াকান্দি হাসপাতালটি ২০০৪ সালে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত হয়। বর্তমানে উপজেলার প্রায় ৩ লাখ ১০ হাজার মানুষের চিকিৎসার প্রধান ভরসা এই হাসপাতাল। দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনের তুলনায় চিকিৎসক কম থাকায় রোগীদের সেবা দিতে কর্তৃপক্ষকে নানা সমস্যায় পড়তে হতো। বিশেষ করে দুর্গম চরাঞ্চল থেকে আসা রোগীদের চিকিৎসা নিতে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।

তবে নতুন চিকিৎসকদের যোগদানের পর হাসপাতালের চিকিৎসাসেবায় গতি এসেছে। বর্তমানে শিশু, মেডিসিন, গাইনি ও অন্যান্য বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা নিয়মিত বহির্বিভাগে সেবা দিচ্ছেন। পাশাপাশি হাসপাতালে কৈশোরবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা কর্নার, ভায়া ও সিবি পরীক্ষা কর্নার, এএনসি ও পিএনসি কর্নার, এনসিডি কর্নার, আইএমসিআই কর্নার, দন্ত বহির্বিভাগ, জিন এক্সপার্ট ল্যাব, আল্ট্রাসনোগ্রাম ও আধুনিক প্যাথলজি পরীক্ষাসহ বেশ কিছু নতুন সেবা চালু হয়েছে।

চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে হাসপাতালে প্রথমবারের মতো সিজারিয়ান অপারেশন চালু করা হয়েছে। এছাড়া উন্নত চক্ষুসেবার আওতায় চরাঞ্চলের অনেক অসহায় মানুষ বিনামূল্যে অপারেশন ও চিকিৎসা সুবিধা পাচ্ছেন।

তবে হাসপাতালটির কিছু সীমাবদ্ধতা এখনও রয়েছে। রোগীদের হাড়ভাঙা শনাক্তের জন্য নেই ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন। প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তার ২৪টি পদসহ বিভিন্ন পর্যায়ে জনবল সংকট রয়েছে। বিপুল সংখ্যক রোগীর তুলনায় ওষুধ সরবরাহও কম। এছাড়া মাত্র একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী দিয়ে পুরো হাসপাতালের কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। বহির্বিভাগে কক্ষ সংকট এবং চিকিৎসকদের আবাসন সমস্যাও রয়েছে।

এ বিষয়ে সারিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মাহবুব হোসেন সরদার বলেন, “হাসপাতালে সব ধরনের রোগীদের উন্নত চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। হাসপাতালটি ৫০ শয্যা থেকে ১০১ শয্যায় উন্নীত হয়েছে। নতুন ভবনের কাজ শেষ হলে সেবার মান আরও বৃদ্ধি পাবে। তবে কিছু সমস্যা রয়েছে, সেগুলোর সমাধান হলে এটি একটি মডেল হাসপাতালে পরিণত হবে।”

ভোরের আকাশ/সু.পা

৮ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যোগদানে স্বস্তি ফিরেছে চিকিৎসাসেবায় | স্বাস্থ্য কথা