স্বাস্থ্য সেবা

৮৫ পদের বিপরীতে ৩৮ চিকিৎসক, নাজুক চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের সেবা

ছবি: সংগৃহীত

চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রায় ১৮ লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার প্রধান ভরসা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল। তবে দীর্ঘদিনের চিকিৎসক সংকটের মধ্যেই সম্প্রতি একসঙ্গে সাতজন চিকিৎসক বদলি হওয়ায় হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবা আরও নাজুক হয়ে পড়েছে। অনুমোদিত ৮৫টি চিকিৎসক পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৩৮ জন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা। অনেক জটিল রোগীকেই চিকিৎসার জন্য পাঠানো হচ্ছে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২৫০ শয্যার এই হাসপাতালে প্রতিদিন প্রায় ৫০০ রোগী ভর্তি থাকেন। রোগীর তুলনায় চিকিৎসক সংখ্যা দীর্ঘদিন ধরেই অপ্রতুল। সর্বশেষ সাতজন চিকিৎসকের বদলির পর সীমিত জনবল নিয়ে চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যেতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে। এর প্রভাব পড়ছে বহির্বিভাগ ও ওয়ার্ড—উভয় ক্ষেত্রেই। চিকিৎসক সংকটের কারণে রোগীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেকেই এক বিভাগ থেকে অন্য বিভাগে ঘুরেও কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা পাচ্ছেন না।

এক রোগী বলেন, “আগেও চিকিৎসক কম ছিল, এখন বদলির পর আরও কমে গেছে।” আরেক রোগীর ভাষ্য, “এক জায়গায় লাইনে দাঁড়িয়ে চিকিৎসক পাইনি। পরে অন্য বিভাগে এসেও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।”

মেডিসিন, সার্জারি ও শিশু বিভাগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংকট সবচেয়ে বেশি। ফলে জটিল রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠাতে হচ্ছে। অনেক রোগী দুই-তিন দিন ধরে হাসপাতালে ঘুরেও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সাক্ষাৎ পাচ্ছেন না।

এক ভুক্তভোগী বলেন, “ডাক্তার কম থাকায় বারবার হাসপাতালে আসতে হচ্ছে। একদিন এলে পরদিন আসতে বলা হয়, আবার পরদিন এলে অন্যদিন আসতে বলা হয়।” পরিস্থিতির দ্রুত উন্নয়ন না হলে স্বাস্থ্যসেবা আরও সংকটাপন্ন হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর নেতারা। তারা দ্রুত শূন্য পদে চিকিৎসক নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সুজনের সভাপতি আসলাম কবির বলেন, “সাধারণ রোগীদের যে ভোগান্তি হচ্ছে, সে বিষয়ে স্বাস্থ্য প্রশাসনের দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন। মানুষ যেন এই দুর্ভোগে না পড়ে, সেজন্য দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।” অন্যদিকে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শূন্য পদে চিকিৎসক নিয়োগের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করা হচ্ছে।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মো. মাহবুব হাসান বলেন, “তত্ত্বাবধায়কের মাধ্যমে আমরা নিয়মিত ঊর্ধ্বতন দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। নতুন বিসিএসের চিকিৎসক কিংবা কোর্স শেষে ফেরা চিকিৎসকদের এখানে পদায়নের বিষয়েও প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”

বর্তমানে হাসপাতালটির অনুমোদিত ৮৫টি চিকিৎসক পদের মধ্যে ৪৭টি শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে মেডিসিন, সার্জারি ও শিশু বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংকট সবচেয়ে প্রকট। দ্রুত জনবল নিয়োগ না হলে জেলার স্বাস্থ্যসেবায় এই সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।

ভোরের আকাশ/সু.পা

৮৫ পদের বিপরীতে ৩৮ চিকিৎসক, নাজুক চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের সেবা | স্বাস্থ্য কথা