সনদ পেয়েছে ৫টি, আরও পাবে ৯টি
বন্ধ হচ্ছে মানহীন মেডিকেল কলেজ

ছবি: সংগৃহীত
দেশের মেডিকেল শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং চিকিৎসা শিক্ষায় গুণগত মান নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ মেডিকেল এডুকেশন অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল (বিএমইএসি) এর কার্যক্রম আরও জোরদার করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ধাপে ধাপে মানসম্মত মেডিকেল কলেজগুলোকে অ্যাক্রেডিটেশন সনদের আওতায় আনা হচ্ছে।
বিএমইএসি জানিয়েছে, মেডিকেল শিক্ষার মান বজায় রাখতে নিয়মিত তদারকি চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনকি মানহীন মেডিকেল কলেজ বন্ধের সুপারিশও করা হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
ইতোমধ্যে পাঁচটি মেডিকেল কলেজ অ্যাক্রেডিটেশন সনদ পেয়েছে। আরও নয়টি মেডিকেল কলেজ বর্তমানে সনদ পাওয়ার চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী, দেশের প্রতিটি মেডিকেল কলেজের জন্য এই সনদ গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যেসব প্রতিষ্ঠান মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হবে, তাদের ভর্তি কার্যক্রম স্থগিতসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিএমইএসি সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে নয়টি মেডিকেল কলেজের আবেদন যাচাই-বাছাই চলছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাগজপত্র ও মান উন্নয়ন পর্যালোচনা করে দ্রুত সনদ দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
যেসব মেডিকেল কলেজ সনদ পাওয়ার পথে রয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ, বগুড়ার টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ, চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ, ময়মনসিংহের কমিউনিটি বেজড মেডিকেল কলেজ, সিরাজগঞ্জের খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ ও কুমিল্লার ময়নামতি মেডিকেল কলেজ। বাকি দুটি কলেজের নাম এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
বিএমইএসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আবেদনকারী প্রতিটি মেডিকেল কলেজের মান উন্নয়ন, অবকাঠামো ও একাডেমিক প্রস্তুতি যাচাই করে সনদ প্রদান করা হবে। কোনো ধরনের মান ছাড় দেওয়া হবে না।
সংস্থাটির রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. হুমায়ুন কবির তালুকদার জানান, লাইব্রেরি, ল্যাব, ক্লিনিক্যাল টিচিং, অবকাঠামো ও পাবলিকেশনসহ ১১টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিদর্শনে মূল্যায়ন করা হয়। সবকিছু আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী সন্তোষজনক হলে তবেই সনদ দেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, দেশে বর্তমানে ১১২টি মেডিকেল কলেজ রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ১৪টি কলেজ অ্যাক্রেডিটেশন সনদের জন্য আবেদন করেছে। পাঁচটি ইতোমধ্যে স্বীকৃতি পেয়েছে। মেডিকেলগুলো হলো- ঢাকা মেডিকেল কলেজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ, ঢাকার আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল কলেজ ও সিলেটের নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজ। আর বাকি মেডিকেল কলেজকে পর্যায়ক্রমে অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের সনদ নিতে হবে। সেইসঙ্গে নিজেদের দুর্বলতা কাটাতে হবে ও মেডিকেল শিক্ষার আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি ও বেসরকারি উভয় মেডিকেল কলেজই দেশের চিকিৎসা শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে বেসরকারি কলেজগুলোতে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তাই এসব প্রতিষ্ঠানের মান নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন তারা।
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালে বাংলাদেশ মেডিকেল এডুকেশন অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল গঠন করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি দেশের মেডিকেল শিক্ষার মান আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উন্নীত করতে কাজ করছে।
ভোরের আকাশ/সু.পা



