চিকিৎসক

চিকিৎসকদের মতামত

বন্ধ্যত্বে নারী-পুরুষ উভয়েই দায়ী

ছবি: সংগৃহীত

সমাজে প্রচলিত একপাক্ষিক ধারণা  রয়েছে বন্ধ্যত্বের সমস্যার জন্য নারীরাই বেশি দায়ী। তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন। বন্ধ্যত্বের ক্ষেত্রে নারীর পাশাপাশি পুরুষের ভূমিকাও উল্লেখযোগ্য এবং তা দিন দিন বাড়ছে।

মুগদা মেডিকেল কলেজ (মুমেক) ও হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. নুসরাত আরা ইউসুফ বলেন, বর্তমানে জীবনযাত্রার পরিবর্তনের কারণে বন্ধ্যত্বের হার বাড়ছে। চিকিৎসা নিতে আসা দম্পতিদের মধ্যে প্রায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশই বন্ধ্যত্ব সমস্যায় ভুগছেন।

তিনি জানান, বন্ধ্যত্বের ক্ষেত্রে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ নারী দায়ী থাকলেও পুরুষদের ক্ষেত্রেও এই হার ২০ থেকে ৪০ শতাংশ। এ ছাড়া প্রায় ১০ শতাংশ ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ উভয়ের সমস্যার কারণে বন্ধ্যত্ব দেখা যায়। আবার ১০ শতাংশ ক্ষেত্রে সব পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরও নির্দিষ্ট কোনো কারণ পাওয়া যায় না, যাকে ‘অব্যাখ্যাত বন্ধ্যত্ব’ বলা হয়।

ডা. নুসরাত আরা ইউসুফ বলেন, পুরুষদের বন্ধ্যত্বের অন্যতম কারণ হলো শুক্রাণুর সংখ্যা কমে যাওয়া, উৎপাদন কম হওয়া এবং চলাচলের গতি হ্রাস পাওয়া। অনেক সময় শুক্রাণুর গঠনগত ত্রুটি, যেমন—মাথা বা লেজের অস্বাভাবিকতা দেখা যায়।

তার মতে, হরমোনজনিত সমস্যা, টেস্টোস্টেরন বা থাইরয়েড হরমোনের ভারসাম্যহীনতা পুরুষদের প্রজননক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে। এ ছাড়া ভেরিকোসিল, সংক্রমণ (যেমন মামস বা যৌনবাহিত রোগ) শুক্রাণুর গুণগত মানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

জীবনযাত্রার পরিবর্তনকেও পুরুষদের বন্ধ্যত্ব বৃদ্ধির একটি বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। ধূমপান, মদ্যপান, স্থূলতা, উচ্চ তাপমাত্রায় কাজ করা বা দীর্ঘ সময় কোলে ল্যাপটপ ব্যবহার। এসব কারণে শুক্রাণুর গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। পাশাপাশি পরিবেশ দূষণ, বিশেষ করে ভারী ধাতুর উপস্থিতিও এ ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলছে।

‘বন্ধ্যত্ব একটি যৌথ সমস্যা। তাই এ বিষয়ে নারী-পুরুষ উভয়েরই সমান গুরুত্ব দিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।’

ভোরের আকাশ/সু.পা

বন্ধ্যত্বে নারী-পুরুষ উভয়েই দায়ী | স্বাস্থ্য কথা | ভোরের আকাশ