ডেঙ্গুতে আরও দুইজনের মৃত্যু, ডেঙ্গু আক্রান্ত ছাড়াল ৫ হাজার

ছবি: সংগৃহীত
দেশে বেড়ে চলেছে ডেঙ্গু আক্রান্তের হার। ডেঙ্গুতে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায়, এডিস মশার লার্ভা ও এর উৎসস্থল ধ্বংস করতে ডেঙ্গু নিধন অভিযান আরও জোর চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। রাজধানীর গুলশানে বুধবার (২৪ জুন) মশক নিধন অভিযান পরিদর্শনে গিয়ে তিনি একথা বলেন। অভিযানে একটি রেস্টুরেন্টে ডেঙ্গুর লার্ভা পাওয়ায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
ঢাকার দুই সিটির একটা বড় অংশই সবসময় থাকে ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকিতে। আর বর্ষা মৌসুমে প্রাদুর্ভাব বেড়ে যায় আরও কয়েকগুণ। প্রতিমন্ত্রী উত্তর সিটি করপোরেশনের কর্মীদের নিয়ে গুলশানের কয়েকটি বাড়িতে মশক নিধন অভিযান পরিদর্শন করেন। ১১৩ ও ১০৭ নম্বর রোডের বহুতল ভবনগুলোতে চালানো হয় চিরুনি তল্লাশি।
৬টি ভবনে অভিযান পরিচালনা করা হয়, এর মধ্যে ৩টি ভবনেই এডিস মশার লার্ভার সন্ধান পায়। এ কারণে ‘চয়েস’ নামের একটি রেস্টুরেন্টকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
প্রতিমন্ত্রী, ‘নিজেদের জীবনের ঝুঁকি না নিয়ে নিরাপত্তার জন্যে আপনাদের বেলকুনি, টব, ছাদ, নিচের অংশগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখবেন। এই টাস্কফোর্স করা হয়েছে অভিযান পরিচালনা করার জন্যে। এডিস মশার উৎসস্থলগুলি, সোর্সগুলি দূরীকরণের জন্যে যে কার্যক্রম এটা আমরা অব্যাহত রাখবো।’
অভিজাত এলাকার ভবনগুলোতে মশক নিধন কর্মীদের ঢুকতে না দেয়া এবং নাগরিকদের উদাসীনতাকে ডেঙ্গু বিস্তারের অন্যতম কারণ বলে অভিহিত করেছেন ডিএনসিসির কর্মকর্তারা। যদিও মশকনিধন কর্মীদের কাজে ফাঁকি দেয়ার অভিযোগও রয়েছে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বিগ্রে: জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী বলেন, ‘আজকে আমরা যে ৬টি বাড়িতে গিয়েছি ৩টিতেই এডিস মশার লার্ভার সন্ধান পাওয়া গেছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন যে মশক কর্মীরা এখানে নিয়মিতভাবে ডিউটি করে, সাধারণত তাদের এই বাড়িগুলাতে যাওয়া একটু কঠিন হয়ে থাকে। নগরীর ৫০ শতাংশ এর অধিক বাড়িতে আমরা লার্ভা পাবো বলে ধারণা করছি।’
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি জুন মাসেই ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা পাঁচ হাজার ছাড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্ষা দীর্ঘায়িত হওয়ায় অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গুর ঝুঁকি অব্যাহত থাকতে পারে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে প্রতি সপ্তাহে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার কথাও জানিয়েছেন টাস্কফোর্সের কর্মকর্তারা।



