দেশে চক্ষু সার্জনের সংকট
দেশে ১০ লাখ মানুষ ছানি অস্ত্রোপচারের অপেক্ষায়

ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশে অন্ধত্বের সবচেয়ে বড় কারণ এখনো ছানি। বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট অন্ধত্বের প্রায় ৭৯ দশমিক ৬ শতাংশই ছানিজনিত, যেখানে বিশ্বব্যাপী এ হার প্রায় ৫১ শতাংশ। প্রতি বছর নতুন করে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার মানুষ ছানিতে আক্রান্ত হচ্ছেন। বর্তমানে প্রায় ১০ লাখ রোগী ছানি অস্ত্রোপচারের অপেক্ষায় রয়েছেন।
‘ছানি সচেতনতা মাস-২০২৬’ উপলক্ষে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে মঙ্গলবার (৩০ জুন) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব তথ্য তুলে ধরে বাংলাদেশ সোসাইটি অব ক্যাটার্যাক্ট অ্যান্ড রিফ্র্যাকটিভ সার্জনস (বিএসসিআরএস)।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার। সভাপতিত্ব করেন বিএসসিআরএসের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. শওকত কবির। স্বাগত বক্তব্য দেন ছানি সচেতনতা মাস উদযাপন কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এম. নজরুল ইসলাম।
আলোচনায় বিএসসিআরএসের মহাসচিব ডা. মইন উদ্দিন বলেন, দেশে ছানি রোগীর তুলনায় চক্ষু সার্জনের সংখ্যা এখনও প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। বর্তমানে প্রতি একজন সার্জনের বিপরীতে গড়ে ৮৩৩ জন রোগী অস্ত্রোপচারের অপেক্ষায় রয়েছেন। দেশে প্রায় ২ হাজার ২০০ জন চক্ষু বিশেষজ্ঞ কর্মরত থাকলেও ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে এ সংখ্যা পর্যাপ্ত নয়।
তিনি আরও জানান, দেশে আনুমানিক ৪০ হাজার অন্ধ শিশু রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১২ হাজার শিশুর অন্ধত্ব চিকিৎসার মাধ্যমে নিরাময়যোগ্য হলেও তারা এখনো প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পাচ্ছে না।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, সময়মতো ছানি শনাক্ত করে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে অস্ত্রোপচার করা হলে অধিকাংশ রোগীই স্বাভাবিক বা প্রায় স্বাভাবিক দৃষ্টিশক্তি ফিরে পান। তিনি বলেন, বাংলাদেশে অন্ধত্বের প্রায় ৮০ শতাংশই ছানিজনিত, যা বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
তিনি আরও বলেন, চিকিৎসানির্ভর স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি সরকার প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে। ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ কার্যক্রম জোরদার করা হবে, যাতে চোখের রোগসহ বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর ছানি অস্ত্রোপচার নিরাপদ, কার্যকর এবং দ্রুত সুস্থতা নিশ্চিত করে। তাই দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হলে কুসংস্কার বা অবহেলা না করে দ্রুত চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
এদিকে, ছানি সচেতনতা মাস উপলক্ষে সারা দেশে বিনামূল্যে চোখ পরীক্ষা, সচেতনতামূলক প্রচার, বৈজ্ঞানিক সেমিনার, চক্ষু পরীক্ষা ক্যাম্পসহ বিভিন্ন জনসম্পৃক্ত কর্মসূচি পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিএসসিআরএস।
ভোরের আকাশ/সু.পা



