দেশে ৩ কোটি মানসিক রোগী, বিশেষজ্ঞ মাত্র ৩০০

ডা. সাঈদ এনাম
বাংলাদেশে মানসিক স্বাস্থ্য সংকট ক্রমেই প্রকট আকার ধারণ করছে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে প্রায় ৩ কোটি ১০ লাখ মানুষ কোনো না কোনো মানসিক রোগে ভুগছেন। আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি ৫ জনে অন্তত ১ জন মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত।
তবে এই বিপুল সংখ্যক রোগীর বিপরীতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংখ্যা অত্যন্ত কম। মানসিক রোগের চিকিৎসার জন্য সাইকিয়াট্রিস্ট, নিউরোসাইকিয়াট্রিস্ট ও ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্টের প্রয়োজন হলেও দেশে সাইকিয়াট্রিস্ট রয়েছেন মাত্র প্রায় ৩০০ জন, যা প্রতি ১০ লাখে প্রায় ২–৩ জনের সমান।
সচেতনতার অভাবে এখনও অনেক মানুষ মানসিক রোগকে “ভূতে ধরা” বা “খারাপ বাতাস লাগা” বলে মনে করেন। ফলে তারা চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে ভণ্ড কবিরাজ, পীর বা তান্ত্রিকদের শরণাপন্ন হন। তাবিজ-কবচ, পানি পড়া, মরিচ পোড়া এমনকি শারীরিকভাবে ক্ষতিকর পদ্ধতিও ব্যবহার করা হয়, যা রোগীর অবস্থাকে আরও জটিল করে তোলে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব কুসংস্কারের কারণে অনেক রোগী সময়মতো বৈজ্ঞানিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে রোগ দীর্ঘস্থায়ী হয়ে ওঠে এবং জটিলতা বাড়ে।
উন্নত দেশের সঙ্গে তুলনা করলে বাংলাদেশের চিত্র আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। যুক্তরাজ্যে ৬–৭ কোটি মানুষের জন্য ১০ হাজারের বেশি সাইকিয়াট্রিস্ট কাজ করছেন। অন্যদিকে সুইজারল্যান্ড, সুইডেন, ফিনল্যান্ড, নরওয়ে ও জার্মানির মতো দেশে প্রতি ১০ লাখে গড়ে প্রায় ২৫০ জন বিশেষজ্ঞ রয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় জনবল বাড়ানোর পাশাপাশি কুসংস্কার দূর করতে সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি। তা না হলে বিপুলসংখ্যক মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিতই থেকে যাবেন।
লেখক : ডা. সাঈদ এনাম, সহযোগী অধ্যাপক সাইকিয়াট্রি সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ
ভোরের আকাশ/সু.পা



