ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ত করে জনস্বাস্থ্য রক্ষায় সফলতা সম্ভব: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
শুধু হাসপাতাল কিংবা চিকিৎসাসেবা দিয়ে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। তিনি বলেছেন, ডায়াবেটিসসহ অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে বিজ্ঞান, ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং সামাজিক অংশীদারত্বকে একসঙ্গে কাজে লাগাতে হবে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন গড়ে তুলতে ধর্মীয় নেতাদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল প্রিভেনশন সামিট-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, মানুষের জীবনযাপন ও সামাজিক আচরণে ধর্মীয় নেতাদের প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইমাম, পুরোহিত, পাদ্রি, ভিক্ষু এবং অন্যান্য ধর্মীয় নেতারা যদি স্বাস্থ্যকর জীবনধারা, আচরণগত পরিবর্তন এবং নিয়মিত প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিষয়ে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেন, তাহলে একটি সুস্থ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সহজ হবে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার শুরু থেকেই ধর্মীয় নেতাদের সম্মানী ও ভাতার ব্যবস্থা করেছে। তবে এই সম্পৃক্ততা শুধু ভাতা প্রদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না রেখে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রেও কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে হবে।
গবেষণার তথ্য তুলে ধরে ড. এম এ মুহিত বলেন, বাংলাদেশে ধর্মীয় মূল্যবোধকে ভিত্তি করে পরিচালিত ডায়াবেটিস প্রতিরোধ কর্মসূচির মাধ্যমে উচ্চঝুঁকিতে থাকা মানুষের মধ্যে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি প্রায় ৪২ থেকে ৪৩ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব হয়েছে। এটি বিজ্ঞান ও ধর্মীয় বিশ্বাসের সমন্বয়ের একটি অনন্য উদাহরণ।
তিনি বলেন, মুসলিম, হিন্দু, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ—সব ধর্মের নেতাদের অংশগ্রহণে প্রণীত ‘ঢাকা ডিক্লেয়ারেশন’ বাস্তবায়িত হলে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের ধর্মীয় সম্প্রীতি ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজব্যবস্থার একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত প্রতিষ্ঠিত হবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের ঢাকা রিজিওনাল হাবের প্রধান আলী এম খান, গ্লোবাল মেটাবলিক হেলথ অ্যালায়েন্সের নির্বাহী পরিচালক ড. অমিত গুপ্ত, ডায়াবেটিস ইন এশিয়া স্টাডি গ্রুপের সভাপতি প্রফেসর আব্দুল বাসিত, আইডিএফ সাউথ-ইস্ট এশিয়ার চেয়ার ড. বংশী সাবু, জাইকার প্রধান প্রতিনিধি তাকাহাশি জুনকো, ওআইসির অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল মো. আফতাব আহমেদ খোখোর, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ কার্যালয়ের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. রাজেশ নারওয়াল, ওয়ার্ল্ড ডায়াবেটিস ফাউন্ডেশনের বোর্ড সদস্য সোবিয়া আকরাম এবং ইন্টারন্যাশনাল ডায়াবেটিস ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট প্রফেসর পিটার শোয়ার্জ।
ধর্মীয় নেতাদের পক্ষে বক্তব্য দেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক হাফেজ মাওলানা মুফতি মুহাম্মদ মহিববুল্লাহিল বাকী নদভী, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বৌদ্ধ কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি প্রফেসর ড. সুকোমল বড়ুয়া, সেন্ট জন মেরি ভিয়ানি হাসপাতালের পরিচালক ড. ফাদার লিন্টু ফ্রান্সিস কস্টা এবং শ্রী শ্রী গীতা সংঘ বাংলাদেশের সভাপতি শ্রী নিত্যানন্দ চক্রবর্তীসহ অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিনিধি।
ভোরের আকাশ/সু.পা



