দ্রুত রক্ত পরীক্ষায় ১৫ হাসপাতালে যুক্ত হলো হেমাটোলজি মেশিন

ছবি: সংগৃহীত
দ্রুত ও নির্ভুল রক্ত পরীক্ষার সুবিধা বাড়াতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালসহ দেশের ১৫টি সরকারি হাসপাতালে অত্যাধুনিক হেমাটোলজি মেশিন অনুদান দেওয়া হয়েছে। শীর্ষস্থানীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ইজিমেড ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড বিনামূল্যে এসব মেশিন সরবরাহ করেছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সেন্ট্রাল মেডিকেল স্টোরস ডিপো (সিএমএসডি) কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সরকারের কাছে ১৫টি ‘মিস্পা এইচএক্স৫৮’ অটোমেটিক ৫-পার্ট হেমাটোলজি অ্যানালাইজার উইথ অটোলোডার মেশিন হস্তান্তর করা হয়।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, এই উদ্যোগ স্বাস্থ্যখাতে নতুন মাত্রা যোগ করবে। তিনি জানান, স্বাস্থ্যখাতে উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নিতে সরকার দ্রুত টেন্ডার প্রক্রিয়ায় যাচ্ছে এবং চলতি বরাদ্দের প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকা মানুষের স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে ব্যয় করা হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী আধুনিক যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করতে হবে। আমরা একদিনও সময় নষ্ট করতে চাই না। প্রতিটি মুহূর্তই গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী আমাদের জবাবদিহির আওতায় রাখবেন, তাই সব ক্ষেত্রে প্রস্তুত থাকতে হবে।’
ইজিমেড ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের চেয়ারম্যান গোলাম দস্তগীর তৌহিদ বলেন, সঠিক রোগ নির্ণয় উন্নত চিকিৎসার পূর্বশর্ত। তিনি জানান, বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার আধুনিকায়নে সরকারের অংশীদার হিসেবে কাজ করতে পেরে প্রতিষ্ঠানটি গর্বিত। ‘মিস্পা এইচএক্স৫৮’ বিশ্বমানের একটি স্বয়ংক্রিয় হেমাটোলজি অ্যানালাইজার, যা দ্রুত ও নির্ভুলভাবে রক্তের বিভিন্ন পরীক্ষা সম্পন্ন করতে সক্ষম।
জানা গেছে, সরকারি হাসপাতালগুলোতে আধুনিক রোগ নির্ণয় ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, দ্রুত ও নির্ভুল সিবিসি (কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট) পরীক্ষা নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের জন্য উন্নত স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করতেই এই মেশিনগুলো অনুদান হিসেবে দেওয়া হয়েছে।
বক্তারা জানান, নতুন হেমাটোলজি মেশিন ব্যবহারের ফলে সরকারি হাসপাতালে দ্রুত ও নির্ভুল রক্ত পরীক্ষা সম্ভব হবে। এতে রোগ নির্ণয়ের মান এবং চিকিৎসার ফলাফল উন্নত হবে, রোগীদের অপেক্ষার সময় কমবে এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ আধুনিক স্বাস্থ্যসেবার সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও কারিগরি সহায়তার মাধ্যমে এসব যন্ত্রের দীর্ঘমেয়াদি কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে।
তারা আরও জানান, তৃতীয় প্রজন্মের এই প্রযুক্তির হেমাটোলজি অ্যানালাইজার প্রতি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৮০টি রক্ত পরীক্ষা সম্পন্ন করতে সক্ষম, যা দ্রুত ও নির্ভুল রোগ নির্ণয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, সিএমএসডির পরিচালক (যুগ্ম সচিব) ড. শফিউর রহমান, উপপরিচালকসহ দুই প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা উপস্থিত ছিলেন।
ভোরের আকাশ/সু.পা



