কিডনির যত্নে উপকারী খাবার ও ক্ষতিকর খাদ্যাভ্যাস

ছবি: সংগৃহীত
শরীর থেকে বর্জ্য পদার্থ ছেঁকে বের করা, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং পানি ও খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখতে কিডনির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে অসতর্কতার কারণে কিডনির ওপর বাড়তি চাপ পড়তে পারে। তাই কিডনি সুস্থ রাখতে পুষ্টিকর খাবার বেছে নেওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত লবণ, প্রক্রিয়াজাত খাবার ও মিষ্টি পানীয় এড়িয়ে চলা জরুরি।
কিডনি ভালো রাখতে যেসব খাবার উপকারী
১. বেরি জাতীয় ফল
ব্লুবেরির মতো বেরি জাতীয় ফলে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, যা শরীরের কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। এসব ফলে সাধারণত সোডিয়ামের পরিমাণও কম থাকে। তাই পরিমিত পরিমাণে বেরি জাতীয় ফল সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে।
২. ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ মাছ
স্যামনের মতো তৈলাক্ত মাছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে, যা প্রদাহ কমাতে এবং হৃদ্যন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে। তবে যাঁদের কিডনির রোগ রয়েছে, তাঁদের মাছের ধরন ও পরিমাণ চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারণ করা উচিত।
৩. লাল ক্যাপসিকাম
লাল ক্যাপসিকামে ভিটামিন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফাইবার রয়েছে। পাশাপাশি এতে পটাশিয়াম তুলনামূলক কম থাকায় নির্দিষ্ট কিছু কিডনি রোগীর খাদ্যতালিকায় এটি উপযোগী হতে পারে। তবে কিডনির রোগের ধরন ও রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা অনুযায়ী খাবার নির্বাচন করা জরুরি।
৪. অলিভ অয়েল
অলিভ অয়েলে থাকা অসম্পৃক্ত চর্বি স্যাচুরেটেড ফ্যাটের স্বাস্থ্যকর বিকল্প হতে পারে। এটি হৃদ্যন্ত্রের সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়তা করে। হৃদ্রোগ ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে রাখা কিডনির স্বাস্থ্য সুরক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ।
কিডনি সুস্থ রাখতে যেসব খাবার সীমিত করবেন
১. অতিরিক্ত লবণ ও প্রক্রিয়াজাত খাবার
চিপস, নোনতা স্ন্যাকস, ইনস্ট্যান্ট নুডলস এবং বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত খাবারে সোডিয়াম বেশি থাকতে পারে। অতিরিক্ত সোডিয়াম রক্তচাপ বাড়াতে ও শরীরে পানি জমার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই খাবারে বাড়তি লবণ দেওয়া এবং অতিরিক্ত নোনতা খাবার খাওয়ার অভ্যাস কমানো উচিত।
২. অতিরিক্ত লাল মাংস ও প্রোটিন সাপ্লিমেন্ট
শরীরের জন্য প্রোটিন প্রয়োজন হলেও অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণ কিডনির ওপর কাজের চাপ বাড়াতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রোটিনের পরিমাণ রোগের পর্যায় ও পুষ্টিগত চাহিদা অনুযায়ী নির্ধারণ করতে হয়। তাই চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ ছাড়া প্রোটিন পাউডার বা সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা উচিত নয়।
৩. মিষ্টি পানীয় ও কোমল পানীয়
চিনি মেশানো কোমল পানীয় ও অন্যান্য মিষ্টি পানীয় নিয়মিত পান করলে ওজন বৃদ্ধি এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়তে পারে। অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ দীর্ঘমেয়াদে কিডনির ক্ষতির অন্যতম কারণ। তাই এসব পানীয়ের পরিবর্তে চিনি ছাড়া স্বাস্থ্যকর পানীয় বেছে নেওয়া ভালো।
৪. অতিরিক্ত মদ্যপান
অতিরিক্ত মদ্যপান পানিশূন্যতা তৈরি করতে পারে এবং রক্তচাপ বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে। এসব প্রভাব কিডনির স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই অতিরিক্ত মদ্যপান এড়িয়ে চলা জরুরি।
খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি যেসব বিষয়ে নজর দেবেন
কিডনি সুস্থ রাখতে শুধু খাবারের দিকে নজর দিলেই হবে না। নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম করা, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা এবং রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা কিডনি রোগের ঝুঁকি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা উচিত। কারণ কিডনি রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় স্পষ্ট কোনো লক্ষণ দেখা যায় না।
তবে সবার জন্য একই খাদ্যতালিকা উপযোগী নয়। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের রক্তে পটাশিয়াম ও ফসফরাসের মাত্রা, প্রোটিনের চাহিদা এবং শরীরে পানি জমার পরিস্থিতি বিবেচনায় খাবার নির্বাচন করতে হয়। তাই চিকিৎসক বা রেনাল ডায়েটিশিয়ানের পরামর্শ ছাড়া খাদ্যাভ্যাসে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা উচিত নয়।
ভোরের আকাশ/সু.পা



