স্বাস্থ্য শিক্ষা

ফ্যাটি লিভার মানেই ক্যানসার নয়, যেসব লক্ষণে সতর্ক হবেন

ছবি: সংগৃহীত

ফ্যাটি লিভার মানেই লিভার ক্যানসার নয়। তবে দীর্ঘদিন লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমে থাকা এবং এর কারণে প্রদাহ বা ক্ষত তৈরি হলে গুরুতর জটিলতার ঝুঁকি বাড়তে পারে। প্রাথমিক পর্যায়ে এ রোগের তেমন কোনো লক্ষণ না থাকায় অনেকেই বুঝতে পারেন না, কখন লিভারের ক্ষতি শুরু হয়েছে। তাই ফ্যাটি লিভার শনাক্ত হলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে এ রোগ মানেই ক্যানসার—এমন ধারণা থেকেও দূরে থাকতে হবে।

কখন বাড়ে লিভার ক্যানসারের ঝুঁকি?

লিভারে চর্বি জমলেই ক্যানসার হবে, এমন নয়। এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, লিভারে প্রদাহ বা ক্ষত তৈরি হচ্ছে কি না এবং রোগটি সময়ের সঙ্গে কতটা অগ্রসর হচ্ছে। লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমার কারণে অনেকের ক্ষেত্রে তেমন ক্ষতি হয় না। তবে কারও কারও লিভারে প্রদাহ দেখা দিতে পারে। এ অবস্থাকে বলা হয় স্টিয়াটোহেপাটাইটিস। দীর্ঘদিন প্রদাহ চলতে থাকলে লিভারের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং ফাইব্রোসিস তৈরি হতে পারে। পরবর্তী সময়ে ক্ষতির মাত্রা বাড়লে সিরোসিসের মতো গুরুতর জটিলতা দেখা দিতে পারে।

লিভার সিরোসিস হলে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে। তবে ফ্যাটি লিভার থেকে ক্যানসারে পৌঁছানোর প্রক্রিয়া সবার ক্ষেত্রে একই রকম নয়। তাই রোগের পর্যায় বুঝতে চিকিৎসকের পরামর্শে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো গুরুত্বপূর্ণ। প্রাথমিক পর্যায়ে ফ্যাটি লিভারের কোনো লক্ষণ নাও থাকতে পারে। এ কারণে ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ওজন নিয়ন্ত্রণ ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

যেসব লক্ষণ দেখলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন

ফ্যাটি লিভার বা লিভার ক্যানসারের প্রাথমিক পর্যায়ে স্পষ্ট উপসর্গ নাও দেখা দিতে পারে। রোগের অগ্রগতির সঙ্গে কিছু লক্ষণ দেখা দিতে পারে। তবে এসব লক্ষণ থাকলেই ক্যানসার হয়েছে, এমন নয়। অন্য অনেক রোগেও একই ধরনের উপসর্গ দেখা যায়।

১. কোনো কারণ ছাড়াই ওজন কমে যাওয়া

খাদ্যাভ্যাস বা শরীরচর্চায় পরিবর্তন না এনেও ওজন কমতে থাকলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। লিভারের রোগসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় এমন হতে পারে। দীর্ঘদিন অনিচ্ছাকৃতভাবে ওজন কমলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

২. ক্ষুধামন্দা ও খাবারে অনীহা

আগের তুলনায় ক্ষুধা কমে যাওয়া, খাবারে অনীহা কিংবা অল্প খেয়েই পেট ভরে যাওয়ার অনুভূতি বিভিন্ন অসুস্থতার লক্ষণ হতে পারে। এর সঙ্গে ওজন কমতে থাকলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়।

৩. দীর্ঘস্থায়ী পেটব্যথা

দীর্ঘদিন পেটে ব্যথা থাকা কিংবা একই ধরনের ব্যথা বারবার ফিরে আসার পেছনে নানা কারণ থাকতে পারে। লিভারের সমস্যা ছাড়াও হজমতন্ত্রের বিভিন্ন রোগে এমন উপসর্গ দেখা যায়। ব্যথা স্থায়ী হলে চিকিৎসকের পরামর্শে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো জরুরি।

৪. পেটের ডান দিকের ওপরের অংশে অস্বস্তি

লিভার পেটের ডান দিকের ওপরের অংশে অবস্থিত। এ জায়গায় ব্যথা, চাপ বা অস্বস্তি লিভারের সমস্যাসহ বিভিন্ন কারণে হতে পারে। অস্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হলে বা ক্রমে বাড়তে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

৫. পেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়া

পেটে তরল জমে অস্বাভাবিক ফোলাভাব তৈরি হলে তাকে অ্যাসাইটিস বলা হয়। গুরুতর লিভার রোগের ক্ষেত্রে এমন হতে পারে। পেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলে গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। এর সঙ্গে শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে জরুরি চিকিৎসা নিন।

৬. চোখ ও ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়া

চোখের সাদা অংশ ও ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়াকে জন্ডিস বলা হয়। লিভারের কার্যকারিতা ব্যাহত হওয়া, পিত্তনালির সমস্যা কিংবা অন্যান্য রোগের কারণে এটি হতে পারে। এমন লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

৭. পর্যাপ্ত বিশ্রামের পরও ক্লান্তি না কমা

পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রামের পরও ক্লান্তি, দুর্বলতা কিংবা দৈনন্দিন কাজে আগ্রহ কমে যাওয়ার পেছনে নানা কারণ থাকতে পারে। লিভারের সমস্যা ছাড়াও রক্তস্বল্পতা, ঘুমের ঘাটতি ও অন্যান্য অসুস্থতায় এমন হতে পারে। দীর্ঘদিন এ সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি কমাতে যা করবেন

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন: অতিরিক্ত ওজন থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শে ধীরে ধীরে ওজন কমানোর চেষ্টা করুন।

নিয়মিত শরীরচর্চা করুন: প্রতিদিন হাঁটা এবং অন্যান্য শারীরিক কার্যক্রমের অভ্যাস গড়ে তুলুন।

সুষম খাবার খান: অতিরিক্ত চিনি, মিষ্টি পানীয় ও উচ্চ ক্যালরিযুক্ত খাবার কমিয়ে শাকসবজি, ফল ও আঁশযুক্ত খাবার বেছে নিন।

ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখুন: এসব সমস্যার যথাযথ চিকিৎসা ও নিয়ন্ত্রণ ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক।

নিজে থেকে ওষুধ বা ভেষজ উপাদান গ্রহণ করবেন না: লিভার ভালো রাখার নামে বিভিন্ন ওষুধ বা ভেষজ উপাদান ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

ফ্যাটি লিভার শনাক্ত হলে আতঙ্কিত না হয়ে রোগের অবস্থা বুঝতে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, শরীরচর্চা এবং অন্যান্য শারীরিক সমস্যার নিয়ন্ত্রণ লিভারের সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে।

 

ভোরের আকাশ/সু.পা

ফ্যাটি লিভার মানেই ক্যানসার নয়, যেসব লক্ষণে সতর্ক হবেন | স্বাস্থ্য কথা