হাম-পরবর্তী ফুসফুস সংক্রমণে হাসপাতালে ফিরছে বহু শিশু

ছবি: সংগৃহীত
হাম থেকে সুস্থ হওয়ার কয়েক মাস পরও ফুসফুসের সংক্রমণ নিয়ে হাসপাতালে আসছে অনেক শিশু। পুরোপুরি সুস্থ হয়ে গেলেও কয়েক বছর পর দেখা দিতে পারে স্নায়বিক সমস্যা—এমন সতর্কবার্তা দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে হাম ও ডেঙ্গুর উপসর্গ অনেকটা কাছাকাছি হওয়ায় বিভ্রান্তিতে পড়ছেন অভিভাবকরা। চিকিৎসকদের পরামর্শ, এ সময়ে শিশুদের জ্বর, সর্দি, কাশি বা ডায়রিয়ার মতো যেকোনো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।
৯ বছরের আহসান ও ১১ বছরের আমান—লক্ষ্মীপুর থেকে আসা দুই ভাই। হামে আক্রান্ত হওয়ার পর চিকিৎসার জন্য তারা ভর্তি হয়েছে ডিএনসিসি ডেডিকেটেড হাসপাতালে। এক রোগীর স্বজন বলেন, “হাম হয়েছিল। পরে নিউমোনিয়ার পর্যায়ে চলে যাচ্ছিল। তবে আল্লাহর রহমতে বড় কোনো সমস্যা হয়নি।”
একই চিত্র দেখা গেছে রাজধানীর শ্যামলীর শিশু হাসপাতালেও। সেখানে হামের পাশাপাশি ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েও আসছে শিশুরা। রোগীর স্বজনরা জানান, শিশুদের জ্বরের সঙ্গে ঠান্ডা ও কাশি রয়েছে। বর্তমানে হামের রোগী বেশি হওয়ায় অন্য হাসপাতাল থেকে তাদের এখানে পাঠানো হয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, জ্বর, র্যাশ, কাশি ও ডায়রিয়ার মতো উপসর্গ হাম ও ডেঙ্গু—দুই রোগেই দেখা যায়। ফলে অনেক সময় রোগ শনাক্তে জটিলতা তৈরি হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে সাধারণত জ্বরের তৃতীয় দিনের পর শরীরে তীব্র ব্যথা, রক্তচাপ কমে যাওয়া বা অন্যান্য জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই এ সময়ে শিশুদের বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।
বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মির্জা জিয়াউল ইসলাম বলেন, “হাম হলে চোখে কনজাংটিভাইটিস হয়, ডেঙ্গুতে সাধারণত এটি দেখা যায় না। দুই রোগেই জ্বর ও র্যাশ থাকে। তবে হামের র্যাশ সারা শরীরে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে, আর ডেঙ্গুর র্যাশ তুলনামূলক সীমিত থাকে। ডেঙ্গুতে হাত-পায়ে প্রচণ্ড ব্যথা হয়, যা হামে থাকে না। হামের ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ার ঝুঁকি বেশি, আর ডেঙ্গুতে রক্তচাপ কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।”
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে মধ্য জুলাই পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৯৫ হাজারের বেশি হাম আক্রান্ত শিশু। হাম থেকে সুস্থ হওয়ার পরও অনেকে ফুসফুসের জটিলতা নিয়ে হাসপাতালে ফিরছে। এদের বেশিরভাগই আগে হামজনিত নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ছিল।
বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালের শিশু সংক্রমণ বিভাগের অধ্যাপক ডা. আতিকুল ইসলাম বলেন, “হামের নিউমোনিয়া খুবই জটিল ধরনের। এটি দ্রুত খারাপ হয়ে যেতে পারে, এমনকি এআরডিএস তৈরি হয়ে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা কমে যেতে পারে। চিকিৎসার পর সুস্থ হতে দীর্ঘ সময় লাগে। অনেক শিশুর পরবর্তী সময়েও শ্বাসকষ্ট থাকতে পারে এবং ভবিষ্যতে লাং অ্যাবসেস বা ব্রংকিয়েক্টেসিসের মতো জটিলতার ঝুঁকি থাকে।”
বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, হামে আক্রান্ত শিশুদের কয়েক বছর পরও নিউরোলজিক্যাল বা স্নায়বিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই হাম প্রতিরোধ, দ্রুত চিকিৎসা এবং পরবর্তী পর্যবেক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।
ভোরের আকাশ/সু.পা



