কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে পেঁপের সঙ্গে খান চিয়া বীজ

ছবি: সংগৃহীত
পাকা পেঁপে দীর্ঘদিন ধরেই একটি পুষ্টিকর ফল হিসেবে পরিচিত। এতে রয়েছে ভিটামিন সি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, খাদ্যআঁশ এবং প্যাপাইন ও কাইমোপ্যাপাইনের মতো হজমে সহায়ক এনজাইম। অন্যদিকে চিয়া বীজে রয়েছে ফাইবার, প্রোটিন, আয়রন ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। পুষ্টিবিদদের মতে, পরিমিত পরিমাণে এই দুটি খাবার একসঙ্গে খেলে হজমের উপকারসহ আরও কিছু স্বাস্থ্যগত সুবিধা পাওয়া যেতে পারে।
হজমে সহায়ক হতে পারে
পেঁপেতে থাকা প্যাপাইন ও কাইমোপ্যাপাইন এনজাইম খাবার হজমে সহায়তা করে। অন্যদিকে চিয়া বীজের উচ্চমাত্রার ফাইবার অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে। ফলে পেট ফাঁপা, বদহজম ও কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কিছুটা কমতে পারে।
অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে
পেঁপেতে থাকা প্রোটিওলাইটিক এনজাইম প্রোটিন ভাঙতে সাহায্য করে এবং অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়ক হতে পারে। পাশাপাশি চিয়ার খাদ্যআঁশ অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার জন্যও উপকারী বলে মনে করা হয়।
রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে
পেঁপে ও চিয়া—দুটিই পরিমিত পরিমাণে খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। তবে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের খাদ্যতালিকায় এগুলো যুক্ত করার আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক
চিয়া বীজে থাকা ফাইবার দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করতে পারে। আর পেঁপে কম ক্যালোরিযুক্ত হওয়ায় এই সংমিশ্রণ স্বাস্থ্যকর নাশতা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
কীভাবে খাবেন?
প্রথমে ১ থেকে ২ চা-চামচ চিয়া বীজ অন্তত ৩০ মিনিট পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। জেলির মতো হয়ে গেলে এতে আধা কাপ পাকা পেঁপের টুকরো মিশিয়ে নিন। চাইলে ১ থেকে ২ চামচ টক দই যোগ করে সকালের নাশতা বা বিকেলের খাবার হিসেবে খেতে পারেন।
চিয়া বীজ বা পেঁপে—কোনোটিই অতিরিক্ত খাওয়া উচিত নয়। অতিরিক্ত চিয়া বীজ খেলে হজমের সমস্যা, পেট ফাঁপা বা অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। এছাড়া এটি কিছু মানুষের ক্ষেত্রে রক্তে শর্করার মাত্রা কমিয়ে দিতে পারে। তাই ডায়াবেটিস, কিডনি রোগ, পরিপাকতন্ত্রের জটিলতা বা নিয়মিত ওষুধ সেবনের ইতিহাস থাকলে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিয়ে খাদ্যতালিকায় এটি যুক্ত করাই নিরাপদ। মনে রাখতে হবে, এই খাবার কোনো রোগের চিকিৎসা নয়। এটি কেবল একটি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে।
ভোরের আকাশ/সু.পা



