মামলার জটিলতায় চালু হয়নি নড়িয়ার ৫০ শয্যার আধুনিক হাসপাতাল

ছবি: সংগৃহীত
শিরীয়তপুরের নাড়িয়া উপজেলার ৫০ শয্যা বিশিষ্ট্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নির্মাণ কাজ ২০২৪ সালের মাঝামাঝি শেষ হলেও মামলা সংক্রান্ত জটিলতায় চিকিৎসাসেবা এখনো চালু হয়নি হাসপাতালটিতে। উদ্বোধন না হওয়ায় আধুনিক সব সুবিধা থাকার পরও চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে লাখো মানুষ। নষ্ট হচ্ছে যন্ত্রপাতি, খোয়া যাচ্ছে মূল্যবান জিনিসপত্র। দ্রুত সমস্যা সমাধান করে হাসপাতালটি চালুর কথা জানিয়েছে প্রশাসন।
প্রায় ৬ একর জমির ওপর ৫১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই আধুনিক স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে স্টাফ কোয়ার্টার, চিকিৎসক ও নার্সদের ডরমিটরি এবং কর্মকর্তাদের জন্য পৃথক আবাসন সুবিধা।
এ হাসপাতালেই স্থাপন করা হয়েছে জেলার একমাত্র ৫ শয্যার আইসিইউ ইউনিট। এছাড়া রয়েছে ইসিজি, এক্স-রে ও আলট্রাসনোগ্রাম সুবিধা। হাসপাতালটিতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা, সিসিটিভি ক্যামেরা এবং উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন আইপিএসও স্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু মামলার জটিলতায় প্রায় দুই বছর ধরে হাসপাতালটি তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। ফলে আধুনিক চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এলাকার সাধারণ মানুষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতালের নির্মাণকাজ অনেক আগেই সম্পন্ন হলেও এখনো সেখানে কোনো চিকিৎসাসেবা চালু হয়নি। দীর্ঘদিন অযত্নে পড়ে থাকায় রাতের আঁধারে হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম চুরির ঘটনাও ঘটছে। নিরাপত্তাকর্মী থাকলেও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।
হাসপাতালের এক নিরাপত্তা প্রহরী বলেন, “আমাদের সঙ্গে পুলিশি নিরাপত্তা থাকলে আরও ভালো হতো। রোগীরা চিকিৎসার জন্য এলে তাদের ফিরিয়ে দিতে হয়, কারণ এখনো হাসপাতালটির কার্যক্রম শুরু হয়নি।”
২০১৮ সালে পদ্মা নদীর ভাঙনে নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মূল ভবনসহ বেশ কয়েকটি স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এরপর থেকে নার্স ডরমিটরি, স্টাফ কোয়ার্টার ও প্রশাসনিক ভবনে সীমিত পরিসরে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পুরোনো হাসপাতাল স্থানান্তর প্রক্রিয়া বন্ধ চেয়ে স্থানীয় এক আইনজীবীর দায়ের করা রিট মামলার নিষ্পত্তি না হওয়ায় নতুন হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না।
শরীয়তপুরের সিভিল সার্জন ডা. রেহান উদ্দীন বলেন, “মূল হাসপাতাল ভবনটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে পুরোনো আবাসিক ভবনে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে, ফলে অনেক প্রয়োজনীয় সেবা প্রদান করা কঠিন হয়ে পড়েছে। নতুন হাসপাতালে যত দ্রুত স্থানান্তর করা যাবে, ততই জনগণের জন্য কল্যাণকর হবে।”
মামলার জটিলতা নিরসন করে দ্রুত নড়িয়ার এই আধুনিক হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা চালু হবে— এমন প্রত্যাশাই স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট সবার।
ভোরের আকাশ/সু.পা



