মায়ের জিনে সন্তানের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য আসে

ছবি: সংগৃহীত
‘ছেলেটা একেবারে মায়ের মতো’ কিংবা ‘মেয়েটা মায়ের স্বভাব পেয়েছে’—এ ধরনের কথা আমাদের সমাজে প্রায়ই শোনা যায়। এর অনেকটাই পারিবারিক পর্যবেক্ষণ। তবে বিজ্ঞান বলছে, সন্তানের বিভিন্ন শারীরিক ও জৈবিক বৈশিষ্ট্য গঠনে মা ও বাবা—উভয়ের জিনই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যেগুলোর ক্ষেত্রে মায়ের প্রভাব তুলনামূলকভাবে বেশি হতে পারে।
প্রজনন-সংক্রান্ত বৈশিষ্ট্য
কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, মেয়েদের প্রথম মাসিক বা মেনোপজের বয়সে বংশগত প্রভাব থাকতে পারে। তবে জীবনযাপন, পুষ্টি ও স্বাস্থ্যগত নানা বিষয়ও এতে ভূমিকা রাখে।
বুদ্ধিমত্তা
গবেষণায় দেখা গেছে, বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু জিন X ক্রোমোজোমে থাকতে পারে, যা মায়ের কাছ থেকে সন্তানের মধ্যে আসতে পারে। তবে বুদ্ধিমত্তা নির্ধারণে শত শত জিনের পাশাপাশি শিক্ষা, পুষ্টি, পরিবেশ ও লালন-পালনেরও বড় ভূমিকা রয়েছে।
বিপাকক্রিয়া
বিপাকক্রিয়া বা শরীরের শক্তি ব্যবহারের ধরনে মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে ওজন বৃদ্ধি বা স্থূলতার ঝুঁকি জিনের পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রম ও জীবনযাত্রার ওপরও নির্ভর করে।
মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ
মানবদেহের কোষে থাকা মাইটোকন্ড্রিয়ার ডিএনএ কেবল মায়ের কাছ থেকেই উত্তরাধিকারসূত্রে আসে। এটি শরীরের শক্তি উৎপাদন, বিপাকক্রিয়া এবং কিছু বংশগত রোগের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত।
কিছু শারীরিক বৈশিষ্ট্য
ত্বকের রং, চুলের ধরন, উচ্চতা বা মুখের গঠন—এসব বৈশিষ্ট্য মা ও বাবা উভয়ের জিনের সমন্বয়ে নির্ধারিত হয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে মায়ের জিনের প্রভাব তুলনামূলকভাবে বেশি হতে পারে।
মেজাজ ও ঘুমের ধরন
বিষণ্নতা, উদ্বেগ বা ঘুম-সংক্রান্ত কিছু প্রবণতায় বংশগত প্রভাব থাকতে পারে। তবে এগুলো কোনো একক জিন বা শুধু মায়ের মাধ্যমে নির্ধারিত হয় না; পরিবেশ ও মানসিক অবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
X-লিংকড বৈশিষ্ট্য
ছেলেসন্তান মায়ের কাছ থেকে একটি X ক্রোমোজোম এবং বাবার কাছ থেকে Y ক্রোমোজোম পায়। তাই বর্ণান্ধতা বা হিমোফিলিয়ার মতো X-লিংকড কিছু বৈশিষ্ট্য মায়ের মাধ্যমে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
কিছু রোগের ঝুঁকি
ডায়াবেটিস, গ্লুকোমা, মায়োপিয়াসহ বিভিন্ন রোগের ক্ষেত্রে বংশগত ঝুঁকি থাকতে পারে। এসব ঝুঁকি মা কিংবা বাবা—উভয়ের দিক থেকেই উত্তরাধিকারসূত্রে আসতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সন্তানের বৈশিষ্ট্য গঠনে জিন গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেটিই একমাত্র নিয়ামক নয়। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, পারিবারিক পরিবেশ, শিক্ষা, পরিচর্যা ও জীবনধারাও শিশুর শারীরিক, মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সূত্র: ফ্যামিলি এডুকেশন
ভোরের আকাশ/সু.পা



