হেপাটাইটিস ও এইচআইভি সংক্রামণের ঝুঁকি বাড়ছে
নিম্নমানের কিট ব্যবহারে আসে ভুল রিপোর্ট

ছবি: সংগৃহীত
দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে রক্ত পরীক্ষায় ব্যবহৃত স্ক্রিনিং কিটের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সরকারি সরবরাহ বন্ধ থাকায় অনেক হাসপাতালে বাধ্য হয়ে নিম্নমানের স্থানীয় কিট ব্যবহার করা হচ্ছে, যার কারণে ভুল রিপোর্ট আসছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে এইচআইভি/এইডস, হেপাটাইটিস বি ও সি এবং সিফিলিসের মতো সংক্রামক রোগ নীরবে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক মাসে কয়েকটি হাসপাতালে রক্ত সঞ্চালনের পর পরবর্তী সময়ে হেপাটাইটিস শনাক্তের ঘটনা সামনে আসে। কিছু ক্ষেত্রে রক্তদাতাদের পুনরায় পরীক্ষায় সংক্রমণ ধরা পড়লেও প্রাথমিক স্ক্রিনিংয়ে তা ধরা না পড়ায় কিটের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিম্নমানের কিট ব্যবহারের কারণে অনেক ক্ষেত্রেই ভুল নেগেটিভ রিপোর্ট আসছে।
অভিযোগ রয়েছে, আগে সরকারি ব্যবস্থাপনায় মানসম্পন্ন কিট ও রিএজেন্ট সরবরাহ করা হতো। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় হাসপাতালগুলো স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ করা তুলনামূলক কম মানের কিটের ওপর নির্ভর করছে। এতে পরীক্ষার নির্ভুলতা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
স্বাস্থ্য খাত সংশ্লিষ্টরা জানান, নিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালন কর্মসূচির আওতায় দেশের শতাধিক ব্লাড সেন্টারে নিয়মিত কিট, ব্লাড ব্যাগ ও রিএজেন্ট সরবরাহ করা হতো। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এই সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটায় অনেক প্রতিষ্ঠান নিজস্ব অর্থায়নে সামগ্রী সংগ্রহ করতে বাধ্য হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতিদিন হাজার হাজার রক্তের নমুনা পরীক্ষা করা হয় রক্ত সঞ্চালনের আগে। এসব পরীক্ষায় যদি ভুল ফল আসে, তাহলে সংক্রমিত রক্ত সুস্থ রোগীর শরীরে প্রবেশের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। ঢাকার একটি মেডিকেল প্রতিষ্ঠানের পরিসঞ্চালন বিশেষজ্ঞদের মতে, আগে কেন্দ্রীয়ভাবে সরবরাহকৃত কিট ব্যবহারের কারণে পরীক্ষা তুলনামূলকভাবে নির্ভরযোগ্য ছিল। বর্তমানে বাজেট ও সরবরাহ সংকটের কারণে অনেক ছোট হাসপাতাল কম দামের কিট ব্যবহার করছে, যা মান নিয়ন্ত্রণে দুর্বল।
অন্যদিকে স্বাস্থ্য অর্থনীতি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেন্দ্রীয়ভাবে ক্রয় ও সরবরাহ ব্যবস্থা পুনরায় চালু না করলে এ সংকট আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে যথাযথ বাজেট বরাদ্দ এবং নজরদারি না থাকলে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি দীর্ঘমেয়াদে ভয়াবহ আকার নিতে পারে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, রক্ত পরিসঞ্চালনের আগে বাধ্যতামূলক পাঁচটি সংক্রামক রোগ—এইচআইভি, হেপাটাইটিস বি ও সি, সিফিলিস এবং ম্যালেরিয়া—পরীক্ষা যথাযথভাবে নিশ্চিত করা না গেলে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাবে।
তারা আরও সতর্ক করে বলেন, নিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালন ব্যবস্থায় ঘাটতি থাকলে তা শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং সামগ্রিক জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্যও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
ভোরের আকাশ/সু.পা



