রাজস্থানে চান্দিপুরা ভাইরাসে ১ শিশুর মৃত্যু, গুজরাটে শনাক্ত ১২

ছবি: সংগৃহীত
ভারতের গুজরাটে চান্দিপুরা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজস্থানের দুই বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে চলতি বছরে গুজরাটে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আটজনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) এ তথ্য জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।
বানাস মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের মেডিক্যাল সুপারিনটেনডেন্ট ড. সুনীল জোশী জানান, রাজস্থানের সিরোহি জেলার দুই বছর বয়সী শিশুটিকে গত ১৩ জুলাই আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন তার শরীরে চান্দিপুরা ভাইরাস শনাক্ত হলে তাকে পেডিয়াট্রিক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়। ছয় দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ১৯ জুলাই শিশুটির মৃত্যু হয়।
এদিকে গুজরাটের স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রফুল পানসেরিয়া জানিয়েছেন, চলতি বছর রাজ্যে এখন পর্যন্ত ৬৩টি সন্দেহভাজন চান্দিপুরা ভাইরাস সংক্রমণের ঘটনা রিপোর্ট হয়েছে। এর মধ্যে ১২ জনের শরীরে ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ৯ জন গুজরাটের এবং তিনজন রাজস্থানের বাসিন্দা। এ পর্যন্ত আটজন রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি জানান।
গুজরাট সরকার সোমবার (২০ জুলাই) ১২ জনের চান্দিপুরা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে। এক সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৬৩টি সন্দেহভাজন নমুনার মধ্যে ৫৫টির পরীক্ষার ফল পাওয়া গেছে। বাকি আটটি নমুনার ফলাফল এখনও অপেক্ষমাণ।
ভাইরাসটির বিস্তার, সংক্রমণের কারণ, পরীক্ষার অগ্রগতি এবং প্রশাসনের গৃহীত পদক্ষেপ পর্যালোচনায় সোমবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রফুল পানসেরিয়ার সভাপতিত্বে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, শনাক্ত হওয়া ১২টি কেসের মধ্যে পঞ্চমহল ও খেড়া জেলায় দুটি করে এবং সবরকাণ্ঠা, মেহসানা, ভারুচ, ভাবনগর ও আহমেদাবাদ মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন এলাকায় একটি করে কেস পাওয়া গেছে।
বৈঠকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আক্রান্ত এলাকাগুলোতে নিবিড় নজরদারি অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি রোগীদের যাতায়াতের ইতিহাস ও সংক্রমণের উৎস শনাক্তে বিস্তারিত তদন্তের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সরকার জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় কাঁচা ও পাকা ঘরসহ হাজার হাজার বাড়িতে স্বাস্থ্য পরীক্ষা চালানো হয়েছে। এছাড়া ভাইরাস বহনকারী বালুমাছি ও অন্যান্য কীটপতঙ্গ দমনে কাঁচা ঘর এবং গবাদিপশুর আশপাশে ব্যাপকভাবে কীটনাশক ছিটানো হচ্ছে।
ড. সুনীল জোশী বলেন, চান্দিপুরা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে মস্তিষ্কের টিস্যুতে প্রদাহ (এনসেফালাইটিস) হতে পারে। এর লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে উচ্চ জ্বর, খিঁচুনি, বমি, ডায়রিয়া, অচেতন হয়ে যাওয়া এবং গুরুতর ক্ষেত্রে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল হয়ে পড়া।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রফুল পানসেরিয়া বলেন, এই ভাইরাস সাধারণত বর্ষাকালে এবং সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বেশি সক্রিয় থাকে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব জেলা সদর সিভিল হাসপাতাল ও সুপার-স্পেশালিটি হাসপাতালে শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত আইসিইউ বেড, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং ভেন্টিলেটরের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চান্দিপুরা ভাইরাসে প্রধানত ছোট শিশুরা বেশি আক্রান্ত হয়। কোনো শিশুর হঠাৎ উচ্চ জ্বর, খিঁচুনি, বমি, ডায়রিয়া বা অচেতন হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ সরকারি হাসপাতাল বা শিশুরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এদিকে জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
ভোরের আকাশ/সু.পা



