খাদ্য

সুস্থ থাকতে দিনে কতবার খাবেন? বিশেষজ্ঞদের মত

ছবি: সংগৃহীত

বর্তমান ব্যস্ত জীবনযাত্রায় স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস নিয়ে অনেকের মধ্যেই রয়েছে নানা ধরনের বিভ্রান্তি। দীর্ঘদিন ধরে দিনে তিনবেলা খাবার খাওয়ার প্রচলন থাকলেও আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞান ও ফিটনেস দুনিয়ায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ‘মিল ফ্রিকোয়েন্সি’ বা সারা দিনে অল্প অল্প করে কয়েকবার খাবার খাওয়ার ধারণা। কেউ ওজন কমাতে, আবার কেউ দীর্ঘ সময় কর্মক্ষম থাকতে এই পদ্ধতি অনুসরণ করেন। তবে শরীরের জন্য কোন অভ্যাসটি বেশি উপকারী—তিনবেলা খাবার, নাকি ছয়বেলা অল্প অল্প করে খাওয়া—এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো একক উত্তর নেই বলে মত দিয়েছেন পুষ্টিবিদরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সবার জন্য কার্যকর এমন কোনো নির্দিষ্ট খাদ্যাভ্যাস নেই। একজন মানুষের জীবনযাপন, শারীরিক পরিশ্রম, স্বাস্থ্যের লক্ষ্য, বয়স, শারীরিক অবস্থা এবং ক্ষুধার ধরন বিবেচনা করেই খাবারের সময়সূচি নির্ধারণ করা উচিত।

মেটাবলিজমে খাবারের সংখ্যার প্রভাব কতটা?
অনেকেই মনে করেন, ঘন ঘন খাবার খেলে মেটাবলিজম বা বিপাকক্রিয়া দ্রুত হয়। তবে পুষ্টিবিদরা বলছেন, খাবার হজমের সময় শরীর কিছু অতিরিক্ত ক্যালরি ব্যয় করে, যাকে ‘থার্মিক ইফেক্ট অব ফুড’ বলা হয়। কিন্তু দিনে মোট ক্যালরি গ্রহণ একই থাকলে তিনবার কিংবা ছয়বার খাওয়ার মধ্যে মেটাবলিজমের উল্লেখযোগ্য কোনো পার্থক্য দেখা যায় না।

গবেষণায় দেখা গেছে, দিনে ২ হাজার ক্যালরি তিনবারে কিংবা ছয়বারে গ্রহণ করলেও মোট ক্যালরি ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় একই থাকে। বরং বয়স, শারীরিক গঠন, হরমোন, ব্যায়াম এবং ঘুমের মানই মেটাবলিজমে বেশি প্রভাব ফেলে।

ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে কোন পদ্ধতি কার্যকর?
ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে খাবারের সংখ্যার চেয়ে খাবারের গুণগত মান বেশি গুরুত্বপূর্ণ। প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি ও ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার ধীরে হজম হয় এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে। অন্যদিকে, অতিরিক্ত চিনি ও পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ খাবার দ্রুত হজম হয়ে যাওয়ায় অল্প সময়ের মধ্যেই আবার ক্ষুধা লাগে। একই সঙ্গে এসব খাবার রক্তে শর্করার মাত্রাও দ্রুত বাড়িয়ে দিতে পারে।

ওজন কমানোর আসল কৌশল
বিশেষজ্ঞদের মতে, ওজন কমানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মোট ক্যালরি গ্রহণ ও ব্যয়ের ভারসাম্য। শরীর যত ক্যালরি খরচ করে, তার চেয়ে কম ক্যালরি গ্রহণ করলে ওজন কমানো সম্ভব। তাই দিনে কতবার খাওয়া হচ্ছে, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে মোট ক্যালরি নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত শরীরচর্চা।

কার জন্য তিনবেলা খাবার উপযোগী?
দিনে তিনবেলা খাবার খাওয়ার অভ্যাস তাদের জন্য বেশি উপযোগী, যারা নির্দিষ্ট রুটিন মেনে চলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, একবারে পরিতৃপ্তি নিয়ে খেতে চান, অপ্রয়োজনীয় স্ন্যাকিং এড়িয়ে চলতে চান এবং ব্যস্ততার কারণে বারবার খাবারের সুযোগ পান না।

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য কী ভালো?
সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে দিনে কতবার খাবার খাওয়া হচ্ছে, তা সাধারণত রক্তে শর্করার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলে না। তবে ডায়াবেটিস বা ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য অল্প অল্প করে কয়েকবার খাবার খাওয়া উপকারী হতে পারে। এতে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যাওয়া কিংবা দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার কারণে শর্করা কমে যাওয়ার ঝুঁকি কমে।

কার জন্য ঘন ঘন অল্প করে খাওয়া ভালো?
যারা দীর্ঘ সময় না খেলে অতিরিক্ত ক্ষুধা অনুভব করেন, সারাদিন পর্যাপ্ত শক্তির প্রয়োজন হয়, শারীরিকভাবে বেশি পরিশ্রম করেন, বেশি ক্যালরির প্রয়োজন হয় অথবা একবারে বেশি খেলে অস্বস্তি বোধ করেন, তাদের জন্য অল্প অল্প করে কয়েকবার খাবার খাওয়ার অভ্যাস বেশি কার্যকর হতে পারে।

পুষ্টিবিদদের মতে, খাবারের সংখ্যা নয়, বরং স্বাস্থ্যকর ও সুষম খাদ্য নির্বাচন, মোট ক্যালরি নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত শরীরচর্চাই সুস্থ থাকার মূল চাবিকাঠি। তাই অন্যের খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ না করে নিজের শারীরিক চাহিদা ও জীবনধারার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে খাবারের রুটিন নির্ধারণ করাই সবচেয়ে ভালো। তথ্যসূত্র: ভেরিওয়েল হেলথ

ভোরের আকাশ/সু.পা

সুস্থ থাকতে দিনে কতবার খাবেন? বিশেষজ্ঞদের মত | স্বাস্থ্য কথা