বিশেষ

তাপদাহে ডায়াবেটিস রোগীদের সতর্কতা ও করণীয়

ছবি: সংগৃহীত

দেশজুড়ে চলমান তীব্র তাপদাহে সাধারণ মানুষের মতো ডায়াবেটিস রোগীরাও নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়ছেন। গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা বেড়ে গেলে ডায়াবেটিস আক্রান্তদের জন্য বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। অতিরিক্ত গরমে পানিশূন্যতা, রক্তে শর্করার মাত্রার ওঠানামা এবং হিট-স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই এ সময় কিছু স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা জরুরি।

পর্যাপ্ত পানি পান করুন : গরমের সময়ে তৃষ্ণা না পেলেও নিয়মিত পানি পান করতে হবে। অতিরিক্ত ঘাম হলে পানির পরিমাণ আরও বাড়ানো উচিত। প্রয়োজনে ডাবের পানি, চিনি ছাড়া লেবুর শরবত বা ওরাল স্যালাইন পান করা যেতে পারে। তবে কোমল পানীয় ও চিনিযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলাই ভালো।

নিয়মিত রক্তে শর্করা পরীক্ষা করুন : প্রচণ্ড গরমে শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। তাই নিয়মিত রক্তে শর্করা পরীক্ষা করা প্রয়োজন। বিশেষ করে অসুস্থতা, বমি বা ডায়রিয়া হলে আরও ঘন ঘন পরীক্ষা করা উচিত।

ইনসুলিন ও ওষুধ সঠিকভাবে সংরক্ষণ করুন : ইনসুলিন কখনোই সরাসরি রোদে বা অতিরিক্ত গরম স্থানে রাখা যাবে না। সাধারণত এটি ২ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ফ্রিজে সংরক্ষণ করতে হয়, তবে ফ্রিজারে রাখা যাবে না। ব্যবহৃত ইনসুলিনও অতিরিক্ত তাপ থেকে দূরে রাখতে হবে।

রোদে বের হলে সতর্ক থাকুন : সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অপ্রয়োজনীয় বাইরে যাওয়া এড়িয়ে চলা উচিত। বাইরে বের হলে ছাতা, টুপি এবং হালকা রঙের ঢিলেঢালা পোশাক ব্যবহার করতে হবে।

খাদ্যাভ্যাসে সচেতনতা জরুরি : প্রতিদিন পর্যাপ্ত শাকসবজি ও ফলমূল খেতে হবে। রাস্তার খোলা খাবার এবং দূষিত পানি এড়িয়ে চলা উচিত। একই সঙ্গে খাবারের নির্ধারিত সময়সূচি বজায় রাখা প্রয়োজন।

ব্যায়ামের সময় পরিবর্তন করুন : গরমের সময়ে ভোরে বা সন্ধ্যায় হাঁটা কিংবা ব্যায়াম করা সবচেয়ে ভালো। প্রচণ্ড গরমে ভারী বা কঠোর শারীরিক পরিশ্রম থেকে বিরত থাকতে হবে।

পায়ের যত্ন নিন : ডায়াবেটিস রোগীদের পায়ের যত্নে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। খালি পায়ে হাঁটা উচিত নয়। প্রতিদিন পা পরীক্ষা করতে হবে এবং ফোসকা, ক্ষত বা সংক্রমণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

যেসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেবেন

নিচের কোনো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন—
অতিরিক্ত তৃষ্ণা
মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া
বমি বা ডায়রিয়া
অতিরিক্ত দুর্বলতা
বিভ্রান্তি বা অস্বাভাবিক আচরণ
রক্তে শর্করার মাত্রা খুব বেশি বা খুব কম হয়ে যাওয়া
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

চিকিৎসকদের মতে, গরমের সময়ে পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত রক্তে শর্করা পরীক্ষা, ইনসুলিন সঠিকভাবে সংরক্ষণ এবং হিট-স্ট্রোকের লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকা অত্যন্ত জরুরি। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকলে তীব্র গরমও নিরাপদে মোকাবিলা করা সম্ভব।

তাপদাহে ডায়াবেটিস রোগীদের সতর্কতা ও করণীয় | স্বাস্থ্য কথা