খাদ্য

যে ৭ খাবার মেয়াদ শেষ হলেও খেতে নিরাপদ

ছবি: সংগৃহীত

প্যাকেটজাত খাবারের গায়ে লেখা ‘বেস্ট বাই’ বা ‘কোয়ালিটি ডেট’ পার হয়ে গেলেই অনেকেই সেগুলো ফেলে দেন। স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই তারিখ সবসময় খাবার নষ্ট হয়ে যাওয়ার নির্দেশ করে না। বরং এটি মূলত খাবারের সর্বোত্তম স্বাদ ও গুণগত মান বজায় থাকার সময়সীমা বোঝায়। তাই সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হলে কিছু খাবার মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পরও নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত নিরাপদে খাওয়া যেতে পারে। তথ্যসূত্র: ভেরিওয়েল হেলথ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, খাদ্য অপচয় কমানোর পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিচের খাবারগুলো সম্পর্কে জানা জরুরি—

১. হিমায়িত মাংস
ফ্রিজারের তাপমাত্রা ০ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তার কম থাকলে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি পায় না। ফলে হিমায়িত গরু, খাসি, মুরগি কিংবা সামুদ্রিক মাছ মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পরও কয়েক মাস পর্যন্ত নিরাপদ থাকতে পারে। উদাহরণ হিসেবে, একটি আস্ত মুরগি বা টার্কি ফ্রিজারে ৯ থেকে ১২ মাস পর্যন্ত ভালো থাকে। তবে দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করলে স্বাদ ও গঠনে কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে।

২. ক্যানজাত খাবার
মটরশুঁটি, স্যুপ বা বিভিন্ন ধরনের সসের মতো ক্যানজাত খাবার মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়ার পরও কয়েক মাস থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত ভালো থাকতে পারে। তবে ক্যানটি যেন ফুলে না যায়, ফুটো না হয় বা কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না থাকে। কারণ ক্ষতিগ্রস্ত ক্যানের ভেতরে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া প্রবেশের ঝুঁকি থাকে।

৩. শুকনো পাস্তা ও চাল
শুকনো পাস্তা ও চাল সাধারণত প্যাকেটের গায়ে উল্লেখিত তারিখের পরও প্রায় দুই বছর পর্যন্ত নিরাপদে খাওয়া যায়। তবে ফ্লেভারযুক্ত পাস্তা বা চালের ক্ষেত্রে এই সময়সীমা প্রায় ছয় মাস।

৪. পাউরুটি
পাউরুটিতে সাদা বা সবুজ ছাঁচ না ধরলে তা সাধারণত খাওয়ার উপযোগী থাকে। বাজারের অধিকাংশ পাউরুটিতে সংরক্ষণকারী উপাদান থাকায় সেগুলো তুলনামূলক বেশি দিন ভালো থাকে। ফ্রিজারে সংরক্ষণ করলে পাউরুটি দুই থেকে তিন মাস পর্যন্ত ভালো থাকতে পারে।

৫. হিমায়িত ফল ও সবজি
ফ্রোজেন ফল ও সবজি সংগ্রহের পরপরই প্রক্রিয়াজাত করে হিমায়িত করা হয়, ফলে পুষ্টিগুণ অনেকটাই অক্ষুণ্ন থাকে। এগুলো ৮ থেকে ১২ মাস পর্যন্ত নিরাপদে সংরক্ষণ করা যায়। তবে শসা বা আলুর মতো জলীয় সবজি হিমায়িত করলে কিছুটা নরম হয়ে যেতে পারে।

৬. দুধ
দুধের প্যাকেটে সাধারণত ‘সেল বাই’ তারিখ উল্লেখ থাকে। সঠিকভাবে ফ্রিজে সংরক্ষণ করলে এই তারিখ পার হওয়ার পরও দুধ ১ থেকে ২ সপ্তাহ পর্যন্ত ভালো থাকতে পারে। তবে টক গন্ধ, দানা বাঁধা বা অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে তা পান না করে ফেলে দিতে হবে।

৭. ডিম
ডিম ফ্রিজের দরজায় না রেখে ভেতরের ঠান্ডা অংশে রাখলে কেনার পর প্রায় পাঁচ সপ্তাহ পর্যন্ত ভালো থাকতে পারে। আর যদি মেয়াদের তারিখ জানা না থাকে, তাহলে কেনার দুই সপ্তাহের মধ্যে ব্যবহার করাই উত্তম।

যেসব লক্ষণ দেখা গেলে খাবার ফেলে দিন : খাবার মেয়াদোত্তীর্ণ হলেও সবসময় নষ্ট হয় না। তবে নিচের যেকোনো লক্ষণ দেখা দিলে তা আর খাওয়া উচিত নয়—

  • খাবারে ছাঁচ বা ছত্রাক দেখা দিলে।
  • দুর্গন্ধ বের হলে।
  • খাবারের উপরিভাগ পিচ্ছিল বা আঠালো হয়ে গেলে।
  • ক্যান বা প্যাকেট ফুলে গেলে কিংবা লিক করলে।
যে ৭ খাবার মেয়াদ শেষ হলেও খেতে নিরাপদ | স্বাস্থ্য কথা