কঙ্গোতে ইবোলায় মৃত্যু বেড়ে ৩৭৭, আক্রান্ত ১৩০০ ছাড়িয়ে

গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে (ডিআর কঙ্গো) ইবোলা ভাইরাসের সংক্রমণ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৩০৭ জনের শরীরে ইবোলা সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া অন্তত ৩৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সোমবার রাতে প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্যে দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইতুরি, উত্তর কিভু এবং দক্ষিণ কিভু প্রদেশে রোগী শনাক্ত হয়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, চতুর্থ আরেকটি প্রদেশেও সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। কঙ্গো ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োমেডিকেল রিসার্চের (আইএনআরবি) একটি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ওত-উয়েলে প্রদেশেও ভাইরাসটির বিস্তার ঘটেছে, যার সীমান্ত দক্ষিণ সুদান ও মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত।
সূত্রটি আরও জানায়, ইতুরির রাজধানী বুনিয়া থেকে একজন সংক্রমিত ব্যক্তি ওত-উয়েলে ভ্রমণ করার পর সেখানে নতুন করে সংক্রমণ শনাক্ত হয়। পরে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে বলে এএফপিকে আরেকটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংক্রমণের উৎস শনাক্ত এবং আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে। ওত-উয়েলে এলাকায় ইবোলা ছড়িয়ে পড়ায় কঙ্গোর পুরো উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এই অঞ্চলে প্রায় দেড় কোটি মানুষের বসবাস। সংঘাত-বিধ্বস্ত ইতুরি প্রদেশটি দেশটির ১৭তম ইবোলা প্রাদুর্ভাবপ্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। গত মে মাস থেকে সেখানে নতুন করে সংক্রমণ শুরু হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার সময় ভাইরাসটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। কারণ সংক্রমিত মৃতদেহ পরিবারের সদস্যদের সংস্পর্শে আসছে, ফলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
স্থানীয়দের মধ্যে আস্থার সংকটের কারণে সাহায্যকর্মীরা নিরাপদে দাফন কার্যক্রম পরিচালনায় সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। কঙ্গোতে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার সময় অনেক সময় পরিবারের সদস্যরা মৃতদেহ স্পর্শ করেন, যা সংক্রমণ বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। ইতুরি প্রদেশের রুয়ামপারার একটি চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক ক্যাথরিন ওয়ামবুয়া-সোই জানিয়েছেন, স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের ঘাটতিতে কাজ করছেন।
তিনি বলেন, চিকিৎসাকেন্দ্রগুলো একাধিকবার হামলার শিকার হয়েছে। গত মাসে একদল বিক্ষুব্ধ মানুষ সেখানে স্থাপিত তাঁবুতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এখনো অনেক স্থানীয় মানুষ সাহায্যকর্মীদের প্রতি আস্থা রাখেন না।
তিনি আরও বলেন, জরুরি ভিত্তিতে সুরক্ষাসামগ্রী, ওষুধ, দ্রুত পরীক্ষার কিট এবং মৃতদেহ সংরক্ষণের ব্যাগ প্রয়োজন। এদিকে, সংক্রমণ ঠেকাতে কঙ্গো সরকার শনিবার রাজধানী কিনশাসাসহ চারটি প্রদেশে জনসমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। সূত্র: আল জাজিরা
ভোরের আকাশ/সু.পা