মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের কথা নিশ্চিত করলো যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবারের মতো পৃথিবীর কক্ষপথে সামরিক অস্ত্র মোতায়েন করার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে। মার্কিন বিমানবাহিনীর সেক্রেটারি ট্রেয় মেইঙ্ক মেরিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত 'এয়ার, স্পেস অ্যান্ড সাইবার কনফারেন্স'-এ এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান যে, কক্ষপথে শত্রুপক্ষের যেকোনো বৈরী আচরণ বা হামলা থেকে মার্কিন ও যৌথ বাহিনীকে রক্ষা করতে সক্ষম 'অন-অরবিট স্পেস কন্ট্রোল ওয়েপনস' বা মহাকাশ নিয়ন্ত্রণ অস্ত্র মোতায়েন রেখেছে দেশিটি।
সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত এয়ার স্পেস অ্যান্ড সাইবার কনফারেন্সে বক্তব্য দেয়ার সময় মেইঙ্ক বলেন, ‘পরিবর্তনশীল হুমকি’ মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত রয়েছে।
তবে তিনি অস্ত্রটির সক্ষমতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানাননি এবং এটি ঠিক কখন কক্ষপথে পাঠানো হয়েছে তাও বলেননি।
এর আগে দেশটির সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলেছিলেন, তারা মহাকাশে মার্কিন সামরিক সক্ষমতা আরো বাড়ানোর পরিকল্পনা করছেন।
তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, ভবিষ্যতের কোনো সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের স্যাটেলাইটে হামলা ও সেগুলোতে বিঘ্ন ঘটানোর উপায় তৈরি করছে রাশিয়া ও চীন।
ট্রাম্প প্রশাসন বলেছে, মহাকাশভিত্তিক সক্ষমতা এবং ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র তাদের পরিকল্পিত ‘গোল্ডেন ডোম’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
এই ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রকে ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য আকাশপথের হুমকি থেকে সুরক্ষিত রাখার জন্য তৈরি করা হচ্ছে।
১৯৬৭ সালের একটি চুক্তির মাধ্যমে কক্ষপথে ব্যাপক ধ্বংসাত্মক অস্ত্র মোতায়েন নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। এরপর থেকে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীনসহ গুরুত্বপূর্ণ সামরিক শক্তিগুলো ওই চুক্তির আওতার বাইরে থাকা বিভিন্ন ধরনের সক্ষমতা নিয়ে কাজ করে আসছে।
এর মধ্যে প্রতিপক্ষের স্যাটেলাইটকে লক্ষ্যবস্তু করার প্রযুক্তিও রয়েছে। সামরিক যোগাযোগ, নজরদারি ও নেভিগেশনের জন্য এসব স্যাটেলাইট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গত বছর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেন, যেখানে বলা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ শক্তি শুধুমাত্র আত্মরক্ষার জন্য নয়, একই সাথে আক্রমণেরও শক্তি।
ভোরের আকাশ/আ.র